ঢাকায় প্রথমবার শ্রীলঙ্কার ট্যুরিজম রোড শো

বাংলাদেশের পর্যটন বাজারে নিজেদের উপস্থিতি জোরদার করতে ঢাকায় প্রথমবারের মতো বড় আয়োজন করতে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা ট্যুরিজম প্রমোশন ব্যুরো (এসএলটিপিবি)। আগামী ৫ ও ৬ এপ্রিল দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনের মধ্যে থাকবে মিডিয়া নেটওয়ার্কিং সেশন এবং রোড শো (বি২বি) ও নেটওয়ার্কিং ইভেন্ট।

এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে পর্যটন সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা। সেই সাথে বাংলাদেশি পর্যটকদের কাছে শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন আকর্ষণীয় গন্তব্য তুলে ধরা।

৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে মিডিয়া নেটওয়ার্কিং সেশন। এতে দেশের ৪০টিরও বেশি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। এই সেশনে শ্রীলঙ্কার পর্যটন খাতের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হবে। এর মধ্যে রয়েছে অবকাশ যাপন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, ওয়েলনেস ট্যুরিজম এবং অ্যাডভেঞ্চার ভ্রমণ। আয়োজকদের আশা, এর মাধ্যমে গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত হবে এবং বাংলাদেশে শ্রীলঙ্কা নিয়ে ইতিবাচক প্রচারণা বাড়বে।

পরদিন ৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে রোড শো (বি২বি) ও নেটওয়ার্কিং ইভেন্ট। এতে প্রায় ১৫০ জন বাংলাদেশি ট্রাভেল এজেন্ট ও ট্যুর অপারেটর অংশ নেবেন। এই আয়োজনের মাধ্যমে দুই দেশের পর্যটন খাতের সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সরাসরি আলোচনা ও যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে। নতুন ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা এবং পর্যটন খাতে বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বাড়ানোই এর লক্ষ্য।

এই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন বুদ্ধিকা হেওয়াসাম, যিনি শ্রীলঙ্কা ট্যুরিজম প্রমোশন ব্যুরোর চেয়ারম্যান। তাঁর সঙ্গে থাকবেন দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের সহকারী পরিচালক শিরানি হেরাথ। প্রতিনিধি দলে শ্রীলঙ্কার ১৯টি শীর্ষ পর্যটন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা থাকবেন। তারা বাংলাদেশি পর্যটকদের কাছে শ্রীলঙ্কাকে আরও জনপ্রিয় করে তুলতে কাজ করবেন। শ্রীলঙ্কার পর্যটন খাতের জন্য বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে ৫৯ হাজার ৫৬৩ জন পর্যটক শ্রীলঙ্কা ভ্রমণ করেছেন, যা মোট পর্যটকের প্রায় ৩ শতাংশ। আর ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ১১ হাজার ৭৯ জন বাংলাদেশি ইতিমধ্যে শ্রীলঙ্কা সফর করেছেন। এই সংখ্যাগুলো প্রমাণ করে, বাংলাদেশি পর্যটকদের মধ্যে শ্রীলঙ্কা ভ্রমণের আগ্রহ বাড়ছে।

এই আয়োজনের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কা ট্যুরিজম বাংলাদেশে তাদের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করতে চায়। পাশাপাশি গন্তব্য হিসেবে শ্রীলঙ্কার জনপ্রিয়তা বাড়ানো এবং ট্রাভেল ও মিডিয়া খাতের অংশীদারদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তোলার আশা করছে তারা।