সারাদেশে অগ্নি সন্ত্রাসের জন্য ক্ষমা চেয়ে বিএনপিকে নির্বাচনে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি এতো দিন যা করেছে সেজন্য জাতির কাছে ক্ষমা চেয়ে নির্বাচনে আসুক। আমরা সবাইকে নিয়ে নির্বাচন করতে চাই। সিডিউল হয়েছে আসেন, নির্বাচন করেন।’
গত বুধবার দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে সিইসি জানান, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৭ জানুয়ারি।
তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ৩০ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের ৬ থেকে ১৫ ডিসেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৭ ডিসেম্বর আর প্রতীক বরাদ্দ ১৮ ডিসেম্বর। প্রচারণা শুরু হবে ১৮ ডিসেম্বর থেকে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির হরতাল–অবরোধের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান নির্বাচন করতে পারবে না। তারা সাজাপ্রাপ্ত আসামী। এজন্যই নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে বিএনপি। যারা অগ্নি সন্ত্রাসের স্বীকার তারা বিএনপিকে অভিশাপ দিচ্ছে। যারা মানুষকে হত্যা করে তাদের কেন মানুষ ভোট দেবে? কেন আস্থা রাখবে?’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারা ঘাতক ও ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে চিহ্নিত। নির্বাচন জনগনের অধিকার। সাহস থাকলে এসে নির্বাচন করতে হবে। এদের সম্পর্ক দেশবাসীকে সচেতন থাকতে হবে। জনগনকে বলবো, নিজেদের এলাকা পাহাড়া দিয়ে এদের ধরিয়ে দিন। যারা পোড়াবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সরকার প্রধান বলেন, ‘বিএনপি ও তাদের জোটসঙ্গীরা আগুন নিয়ে খেলছে। আগুন নিয়ে খেলা মানুষ মেনে নেবে না, নির্বাচন হবে। কাউকে নির্বাচন বানচাল করতে দেবে না দেশের জনগন। গণতন্ত্রকে সুরক্ষিত করতে হবে। পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসার কোনো সুযোগ নেই। যে দলের নেতাই নেই, লন্ডনে পলাতকের আদেশে দেশে যে সন্ত্রাস পরিচালিত হচ্ছে, এর দায় বিএনপি নেতারা নিচ্ছে কেন?’
আওয়ামী লীগের অর্জন তুলে ধরে দলটির সভাপতি বলেন, ‘জাতির পিতাকে হত্যা করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করে মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়। নির্বাচনী ক্ষেত্রে যতটুকু উন্নয়ন হয়েছে তা আওয়ামী লীগ করেছে, মানুষের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। ভোটের অধিকার আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের সংগ্রামের ফলেই অর্জিত হয়। অস্ত্র হাতে নয়, রাতের অন্ধকারে নয়, ভোটের মধ্য দিয়ে সরকার গঠন হবে বাংলাদেশে।’
গাজা ইস্যুতে প্রতিবাদ না করায় বিএনপির সমালোচনা করে সরকার প্রধান বলেন, ‘প্যালেস্টাইনে অমানবিক হামলা ও অত্যাচার চালিয়ে মানবেতর পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হচ্ছে। অথচ এর প্রতিবাদ করছেনা আমাদের দেশের অগ্নিসন্ত্রাসীরা। এখন দেশে অতিবাম অতিডান সব এক হয়ে গেছে। ভোট চুরির অপরাধে খালেদা জিয়া ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন, অথচ তাদের মুখে সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা শুনতে হয়।’