সংলাপ–সমঝোতা, কোন দলের কী অবস্থান? 

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০২৩, ০৭:১৯ পিএম

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত বুধবার জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল জানিয়েছেন, ভোটগ্রহণ হবে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি। 

সিইসি জানিয়েছেন, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ৩০ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের ৬ থেকে ১৫ ডিসেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৭ ডিসেম্বর আর প্রতীক বরাদ্দ ১৮ ডিসেম্বর। প্রচারণা শুরু হবে ১৮ ডিসেম্বর থেকে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত।

তফসিল ঘোষণার পরদিনই মনোনয়ন পত্র বিক্রির ঘোষণা দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। আগামী শনিবার থেকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়ন পত্র তুলতে পারবেন আগ্রহীরা। 

সরকারের পদত্যাগ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া বিএনপি তফসিল প্রত্যাখান করে আগামী রবি ও সোমবার সারাদেশে হরতাল ডেকেছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, নির্বাচন নিয়ে দুই মেরুতে অবস্থান করা বিএনপি ও আওয়ামী লীগ কি শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় আসবে?

বুধবার যখন সিইসি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করছেন ঠিক সেই মুহুর্তে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা কারাগারে। গত ২৮ অক্টোবর রাজধানীতে বিএনপির সমাবেশে সহিংসতার ঘটনায় তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেই মুহুর্তে চলছিল এক দফা দাবিতে বিএনপির অবরোধ কর্মসূচি।

২৮ অক্টোবরের পর থেকে রাজধানীর নয়া পল্টনের বিএনপি কার্যালয়টি তালাবদ্ধ। দলটির নেতাকর্মীদের কার্যালয়ের দিকে যেতে খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী একদফা দাবির সমর্থনে হরতাল–অবরোধের যে কর্মসূচিগুলো ঘোষণা করছেন সেগুলোও করা হচ্ছে ভার্চুয়ালি। 

নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর এখনও পর্যন্ত দেশের রাজনীতির দুই বড় শক্তি আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সমঝোতার কোনো আভাস এখনও পর্যন্ত নেই। বুধবার সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়ালের ভাষণেও বিষয়টি উঠে আসে। তিনি তার ভাষণে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার তাগিদ দেন। 

সিইসি বলেন, ‘বহুদলীয় রাজনীতিতে মতাদর্শগত বিভাজন থাকতেই পারে। কিন্তু মতভেদ থেকে সংঘাত ও সহিংসতা হলে তা থেকে সৃষ্ট অস্থিতিশীলতা নিৰ্বাচন প্রক্রিয়ায় বিরূপ প্রভাব বিস্তার করতে পারে। মতৈক্য ও সমাধান প্রয়োজন। আমি নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সকল রাজনৈতিক দলকে বিনীতভাবে অনুরোধ করব সংঘাত ও সহিংসতা পরিহার করে সদয় হয়ে সমাধান অন্বেষণ করতে।’

নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দল বিশেষ করে বিএনপি ও তাদের জোট সঙ্গীদের আনতে আওয়ামী লীগের ওপর চাপ আছে। আমেরিকাসহ পশ্চিমা দেশগুলো দুই দলকে সংলাপে আনতে নানা তৎপরতা চালাচ্ছে। এরই মধ্যে দেশের তিনটি প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিকে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়ে চিঠি দিয়েছে আমেরিকা সরকার।

অবশ্য সংলাপের সব সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে। গত বুধবার সকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস আমেরিকা সরকারের চিঠি নিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে দেখা করেন। পরে কাদের সাংবাদিকদের জানান, এখন আর সংলাপের সুযোগ নেই।

কাদের বলেন, ‘বিএনপিকে আমরা অনেক আগে থেকেই বলে আসছিলাম, শর্ত ছাড়া সংলাপে আসলে তখন আমরা বিবেচনা করব। কিন্তু এখন আর সেই সুযোগ নেই।’

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সবশেষ সংলাপটি হয় ২০১৮ সালের একাদশ নির্বাচনের আগে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ায় সে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। সেবার বিএনপি নির্বাচনে আসে জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট নামের একটি জোটের মাধ্যমে। সেই জোটের নেতৃত্বে ছিলেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

সংলাপের পর আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নির্বাচনে আসতে সম্মত হয় বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট। তবে নির্বাচনে সুবিধা করতে পারেনি জোট। বিএনপি সেই নির্বাচনে পেয়েছিল মাত্র ৭টি আসন।

তার আগের জাতীয় নির্বাচন অর্থাৎ ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সংলাপের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়। সেই নির্বাচনে বিএনপি ও তাদের জোট শরীকরা অংশ নেয়নি। নির্বাচনে যাতে বিএনপি অংশ নেয় তা নিশ্চিত করতে বিদেশিদের মধ্যস্থতায়ও একাধিক মীমাংসার চেষ্টা হয়েছে। তবে এই প্রচেষ্টাগুলোও ব্যর্থ হয়।

এবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে নিজেদের অবস্থানে এখনও পর্যন্ত অনড় বিএনপি। দলটি বলে আসছে, এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে তারা অংশ নেবে না। এর অংশ হিসেবে গত কয়েক বছরে সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় যে নির্বাচনগুলো হয়েছে, সেগুলোতে কোনো প্রার্থী দেয়নি বিএনপি ও তাদের জোটসঙ্গীরা। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে যারা প্রার্থী হয়েছিলেন তাদের অনেককেই আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। 

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনের শেষ নির্বাচন যেভাবে হয়েছিল

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কথা উঠলে ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিঃসন্দেহে তালিকার শীর্ষে থাকবে। সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হওয়া এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ভূমিধ্বস সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ক্ষমতায় আসে। এটিই ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হওয়া শেষ নির্বাচন। 

ভোটের আগে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিয়ে সে সময়ের সরকারি দল বিএনপির সঙ্গে সংঘাতে জড়ায় বিরোধী দলে থাকা আওয়ামী লীগ। এক পর্যায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ। এর বিরুদ্ধে সে সময় আওয়ামী লীগ তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। 

বিএনপি–আওয়ামী লীগের তীব্র মতোবিরোধে তৈরি হওয়া সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি দেশে জারি করা হয় জরুরী অবস্থা। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ফখরুদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে গঠিত হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার। ফখরুদ্দিন আহমেদ প্রধান উপদেষ্টা দায়িত্বে থাকলেও রাজনীতির মুল নিয়ন্ত্রণ ছিল সেনাবাহিনীর হাতে। 

এ সময় তৎকালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী এবং আমেরিকান রাষ্ট্রদূত পেট্রেসিয়া বিউটেনিসের উদ্যোগে বেশ কয়েকবার দুটি রাজনৈতিক দলকে এক টেবিলে বসানোর চেষ্টা করা হয়। তবে সফলতা আসেনি। 

এক পর্যায়ে সেনাবাহিনীর মদদে তথাকথিত দুর্নীতি বিরোধী অভিযান শুরু হলে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ আছে, সে সময় দুই নেত্রীকে রাজনীতির বাইরে রেখে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে ‘সংস্কার’ চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। অবশ্য সে উদ্যোগও শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি।  

পরে তীব্র রাজনৈতিক চাপে নির্বাচন ঘোষণা করতে বাধ্য হয় সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার। নির্বাচন কমিশনের হিসেবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৮৬ দশমিক ২৯ শতাংশ। এতে ৪৮ দশমিক ১৩ শতাংশ ভোট পেয়ে ২৩০টি আসন পায় আওয়ামী লীগ। আর ৩২ দশমিক ৪৯ শতাংশ ভোট পেয়ে মাত্র ৩০ আসন পেয়েছিল বিএনপি। ভরাডুবির পর নির্বাচনের ফল মেনে নিতে পারেনি বিএনপি। দলটির পক্ষ থেকে কারচুপির অভিযোগ তোলা হয়। 

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের ওপর বিএনপির কোনো সমর্থন থাকবে কিনা–সে বিষয় কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
নাসীরউদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে রাজপথ উত্তপ্ত হবে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন যদি অবাধ ও নিরপেক্ষ না হয়, তবে আরেকটি গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের...
সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। হাইকোর্টের নির্দেশে মনোনয়নপত্র গ্রহণের পর ইসির এই সিদ্ধান্ত আসে।
সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মনিরা শারমিনের আপিল খারিজ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ফলে তার মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তই বহাল থাকছে। সোমবার শুনানির প্রথম দিনে এই সিদ্ধান্ত...
ওই চিঠিতে দি মারিয়া লিখেছেন, ‘আর্জেন্টাইন হওয়ার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ। আমাদের পতাকা বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ে তুলে ধরার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ। একজন খেলোয়াড় হিসেবে এবং একজন মানুষ হিসেবেও উদাহরণ তৈরি করার...
তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় রাজধানীসহ সারা দেশে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে।
সিলেট বিভাগে নতুন করে হাম রোগী শনাক্ত না হলেও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছেই। গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগে আক্রান্ত আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সিলেটে সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত হাম মিলিয়ে মোট মৃত্যুর...
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসা (মেস) থেকে উচ্ছ্বাস কর্মকার নামের এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
লোডিং...
পঠিতনির্বাচিত

এলাকার খবর