জলদস্যুদের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ হয়নি: বিএমএমওএ

ভারত মহাসাগরে ২৩ জন নাবিকসহ অপহৃত বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহ-এর বিষয়ে এখনও পর্যন্ত জলদস্যুদের পক্ষ থেকে জাহাজ মালিকের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। এমনকি কোনো দাবি-দাওয়াও জানানো হয়নি। এসব ক্ষেত্রে সাধারণত জলসদ্যুরা জাহাজকে বন্দরের নিকটবর্তী নিয়ে যায়। তারপর মালিক পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে দাবি-দাওয়া জানায় বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএমওএ)।

বুধবার সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. শাখাওয়াত হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অপহরণের শিকার জাহাজটি সোমালিয়া থেকে মাত্র ১৭০ মাইল দূরে আছে। বৃহস্পতিবার সকালে হয়ত সোমালিয়ায় পৌঁছাবে জাহাজটি। ধারণা করা হচ্ছে, উপকুলে নোঙর করার পরেই মুক্তিপণের বিষয়ে সাধারণত আলোচনা শুরু করতে পারে জলদস্যুরা।

বাংলাদেশি বেসরকারি শিপিং কোম্পানি এসআর শিপিং লিমিটেডের মালিকাধীন পতাকাবাহী জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহ আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিক থেকে কয়লা নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে যাওয়ার পথে সোমালিয়ার অফকোস্টে ৪৫০ নটিক্যাল মাইল দূরে জলদস্যুদের হাতে অপহরণের শিকার হয়। জাহাজটিতে মোট ২৩ জন বাংলাদেশি নাবিক রয়েছেন। জলদস্যুরা জাহাজাটির পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়।

বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স এসোসিয়েশন জানায়, আমাদের সঙ্গে জাহাজ মালিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা আমাদের জানান যে, জলদস্যুরা জাহাজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বেশ কিছুক্ষণ সময় পরেও জাহাজের নাবিকগণ মালিক পক্ষ ও তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করতে পেরেছিলেন এবং নাবিকেরা সবাই সুস্থ আছেন। আমরা সার্বক্ষণিক জাহাজ মালিক পক্ষের সাথে যোগাযোগ রাখছি এবং বিষয়টি নিবিরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। নাবিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি আমরা সর্বদা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকি।

জলদস্যুর কবলে পড়া জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহ এর সবশেষ অবস্থান। ছবি সংগৃহীত

গত ৪ মার্চ বাংলাদেশের এসআর শিপিংয়ের ১৩ মিটার গভীরতার জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ মোজাম্বিকের মাপুতু বন্দর থেকে কয়লা নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উদ্দেশে রওনা দেয়। এরপর গতকাল মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে খবর আসে, ভারত মহাসাগরে জাহাজটি ছিনতাই হয়েছে। জাহাজের ২৩ নাবিককে স্পিডবোটে সোমালিয়া উপকূলে নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন একজন।

এমভি আবদুল্লাহ জাহাজে থাকা নাবিকদের মধ্যে চট্টগ্রামের বাসিন্দা আছেন ১১ জন। বাকিরা ফেনী, নোয়াখালী, খুলনা, ফরিদপুর, সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার। আক্রান্ত নাবিকদের সবাই সুস্থ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন এস আর শিপিংয়ের কর্মকর্তারা।

জাহাজটি ছাড়িয়ে আনতে কাজ শুরু করেছে এস আর শিপিং। এজন্য সরকার ও আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।

২০১০ সালের ডিসেম্বরে আরব সাগরে জলদস্যুদের কবলে পড়েছিল জাহাজ মণি নামের একই প্রতিষ্ঠানের আরেক জাহাজ। সেসময় ২৫ নাবিক এবং প্রধান প্রকৌশলীর স্ত্রীকে জিম্মি করা হয়। মালিক পক্ষের উদ্যোগে ৩ মাস পর ২৬ নাবিকসহ জাহাজটি মুক্ত হয়।