সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্তির ঠিক একমাস পর গতকাল সোমবার বাংলাদেশে পৌঁছেছে জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ। কুতুবদিয়ায় নোঙর করা জাহাজটি থেকে পণ্য খালাস করা হচ্ছে। আর জাহাজের নাবিকদের আজ মঙ্গলবার বিকেলে নেওয়া হবে চট্টগ্রাম বন্দরে। সেখানে তাঁদের দেওয়া হবে সংবর্ধনা।
চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব ওমর ফারুক সোমবার রাতে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘২৩ নাবিককে মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় বন্দরের এনসিটি -১-এ (নিউমুরিং কন্টেনার টার্মিনাল) আনা হবে। সেখানে তাঁদের সংবর্ধনা দেওয়া হবে। এরপর তাঁরা স্বজনদের কাছে ফিরবেন।’
জাহাজটির মালিক পক্ষ এস আর শিপিংয়ের প্রধান নির্বাহী মেহেরুল করিম গতকাল সোমবার রাতে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনকে বলেন, ‘জাহান মণি–৩ নামের একটি লাইটারেজ বা ছোট জাহাজে ২৩ নাবিককে মঙ্গলবার চট্টগ্রাম আনা হবে।’
১৩ বছর আগে সোমালি জলদস্যুদের হাতে জিম্মি হওয়া আরেক জাহাজ ‘এমভি জাহান মণি’র নামেই নামকরণ করা হয়েছে লাইটারেজ জাহজটির। মেহেরুল করিম বলেন, ‘জাহান মণি আমাদের আবেগের নাম। তাই লাইটারেজ জাহাজটার নাম ‘জাহান মণি–৩’ রাখা হয়েছে। ওই আবেগের নামের জাহাজে করেই নাবিকদের চট্টগ্রাম আনা হচ্ছে। ‘জাহান মণি–৩’ মঙ্গলবার দুপুর ২টা থেকে ৪ টার মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়বে।’
জাহাজ ‘এমভি আবদুল্লাহ’র মাস্টার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আবদুর রশিদ বলেন, ‘আমরা সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় কুতুবদিয়ায় নোঙর করেছি। ২৩ নাবিক সুস্থ আছে। কুতুবদিয়ায় সাড়ে ১০ হাজার টন চুনা পাথর খালাস করা হবে। এরপর ১৫ মে রাতে বা ১৬ মে সকালে এমভি আবদুল্লাহ চট্টগ্রাম আসবে।’
‘এমভি আবদুল্লাহ’ জাহাজটিতে ৫৬ হাজার ৩৯১ টন চুনাপাথর রয়েছে। এতে জাহাজটির ড্রাফট (পানির নিচের অংশের দৈর্ঘ্য) বেড়ে হয়েছে সাড়ে ১২ মিটার, যা ৪তলার সমান। ফলে বন্দর জেটিতে এটি ভেড়ানো সম্ভব হবে না। তাই কিছু পণ্য খালাস হওয়ায় ড্রাফট কমে যাবে। এতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়তে পারবে।’ যোগ করেন ক্যাপ্টেন।
এরআগে, গত পয়লা মে আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেয় ‘এমভি আবদুল্লাহ’। জাহাজটি বিরামহীন ১২ দিন চলার পর সোমবার ভোরে বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে। আগে জাহাজটির গতিবেগ ঘণ্টায় ১০ দশমিক ৫ নটিক্যাল মাইল থাকলেও বাংলাদেশে প্রবেশের পর জোয়ার অনুকূলে থাকায় গতি ২ নটিক্যাল মাইল বাড়িয়ে ১২ দশমিক ১ করা হয়। ফলে নির্ধারিত সময়ের আগে সন্ধ্যা ৬ টায় এমভি আব্দুল্লাহ কুতুবদিয়া নোঙর করতে সক্ষম হয়।
মোজাম্বিক থেকে কয়লা নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাওয়ার পথে গত ১২ মার্চ ভারত মহাসাগরে সোমালি জলদস্যুর কবলে পড়ে ‘এমভি আবদুল্লাহ’। প্রায় এক মাস পর জিম্মি দশা থেকে মুক্ত হয় জাহাজটি। এরপর গত ১ মে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ফুজাইরা বন্দর থেকে জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে চট্টগ্রামের পথে রওনা দেয় সোমালি জলদস্যুদের হাত থেকে মুক্ত জাহাজ ‘এমভি আবদুল্লাহ’। সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্তির ঠিক একমাস পর জাহাজটি বাংলাদেশে পৌঁছাল।