সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীমের খোঁজ চেয়ে রাজধানীর শেরে বাংলা নগর থানায় মামলা করেছেন তার মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন। বুধবার সন্ধ্যায় মামলাটি দায়ের করা হয়।
মামলার এজাহারে ডরিন বলেছেন, গত ৯ মে রাত ৮টায় ন্যাম ভবনের বাসা থেকে আজীম তাঁর গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহের উদ্দেশে বের হন। গত ১১ মে বিকেল পৌণে ৫টায় ভিডিও কলে কথা বলার সময় তাঁর কথাবার্তা অসংলগ্ন মনে হয়। এরপর একাধিকবার ফোন করলে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
ডরিন লিখেছেন, ‘গত ১৩ মে বাবার ইন্ডিয়ান সিম নম্বর +৯১৭০৬৩২১৪৫৬৯ থেকে উজির মামার হোয়াটসআপ নম্বরে একটি ম্যাসেজ আসে, “আমি হঠাৎ করে দিল্লী যাচ্ছি, আমার সাথে ভিআইপি আছে। আমাকে ফোন দেওয়ার দরকার নাই। আমি পরে ফোন দিব।” এটা ছাড়াও আরও কয়েকটি ম্যাসেজ আসে। সেই ম্যাসেজগুলি আমার বাবার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে অপহরনকারীরা করে থাকতে পারে।’
এজাহারে আরও লেখা হয়েছে, ‘আমরা বিভিন্ন জায়গায় আমার বাবার খোঁজ খবর করতে থাকি। আমার বাবার কোন সন্ধান না পেয়ে আমার বাবার বন্ধু শ্রী গোপাল বিশ্বাস ইন্ডিয়ার বারানগর পুলিশ ষ্টেশনে গত ১৮ মে একটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেন। আমরা বাবাকে খোঁজাখুজি অব্যাহত রাখি। পরবর্তীতে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানতে পারি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজসে আমার বাবাকে অপহরণ করেছে।’
গত ১২ মে চিকিৎসার জন্য ভারতে যান আনোয়ারুল আজীম। ১৩ মে তিনি হোয়াটসঅ্যাপে জানান, তিনি দিল্লি যাচ্ছেন। এরপর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। কোলকাতা পুলিশ বুধবার জানায় আজিম খুন হয়েছেন। একই দিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানও জানান, সংসদ সদস্য আজীমকে হত্যা করা হয়েছে।
আনোয়ারুল আজীম ঝিনাইদহ-৪ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য। তিনি ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে টানা তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।