সেপটিক ট্যাংকে মাংসপিণ্ডের সঙ্গে মিলল হাড় ও চুল

কলকাতার নিউটাউনের সঞ্জীব গার্ডেনের ৫৬ নম্বর ভবনের সেপটিক ট্যাংক থেকে কিছু মাংস ও চুলের কিছু অংশ উদ্ধার করেছে ভারতের সিআইডি ও বাংলাদেশের ডিবি পুলিশ। যেগুলো ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীমের মরদেহের খণ্ডিত অংশ বলে ধারণা করছে পুলিশ। যা নিশ্চিত হওয়া যাবে ডিএনএ পরীক্ষার পরই। 

সেপটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার মাংসের মতো বস্তুর ওজন প্রায় ৪ কেজি বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও আবাসনের সুইপার সিদ্ধেশ্বর মণ্ডল জানান, একটি কাঁচের জারের মধ্যে ওইসব বস্তু রাখা ছিল।  কলকাতায় আটক জিহাদ হাওলাদার সেগুলো ওয়াশরুমের কমোডে ফেলে দেয় বলে আগেই দাবি করেছিল ভারতের সিআইডি। এর আগে, মঙ্গলবার সকালে সঞ্জীব গার্ডেনের সেপটিক ট্যাংকে অভিযান চালানোর কথা জানান ডিবিপ্রধান হারুন অর রশিদ। 

এদিকে পশ্চিমবঙ্গ সিআইডির এক শীর্ষ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, মাংসপিণ্ডের সঙ্গে কিছু চুল, চামড়া এবং হাড়ও মিলেছে। এগুলো মানুষের শরীরের মাংস-হাড়-চুল কি না বা আজীমেরই দেহের অংশ কি না, তা নিশ্চিত করা যাবে ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমেই। ওইসব মাংস, হাড় ইত্যাদি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, জিহাদকে জিজ্ঞাসাবাদে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায়। সেগুলো পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে আমাদের কাছে মনে হয়েছিল সঞ্জীব গার্ডেনের ৫৬ নম্বর ভবনের সেপটিক ট্যাংকে তল্লশি চালালে দেহের কিছু অংশ পাওয়া যেতে পারে। সে অনুযায়ী সকাল থেকেই সিআইডিদের ওই ভবনের সেপটিক ট্যাংকে তল্লশি চালানো হয়।

ডিবি হারুন অর রশিদ আরো বলেন, ‘এমপি আজীম হত্যার রহস্য উদঘাটনে বাংলাদেশ ও ভারতে গ্রেপ্তার মোট ৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাদের দেয়া তথ্যেই সেপটিক ট্যাংকে তল্লশি চালাতে বলেছিলাম। সে অনুযায়ী তল্লাশী চালানো হয়। তবে এখনিই সফল হয়েছি বলা যাচ্ছে না। উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলো ফরেনসিক ও ডিএনএ টেস্টে পাঠানো হবে। এর রিপোর্ট আসলে বলে যাবে সেগুলো সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীমের মরদেহের খণ্ডিত অংশ কিনা।’

কসাই জিহাদের আগের দেওয়া তথ্য মতে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আনোয়ারুল আজিমের মরদেহ টুকরো করে কমোডে ফেলে ফ্লাশ করে দেওয়া হয়। পরে তা সেপটিক ট্যাংকে গিয়ে জমা হয়।

 ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার গত ১২ মে ভারতে যান চিকিৎসার কথা বলে। ১৩ মে থেকেই তিনি নিখোঁজ। এরপর ২২ মে খবর আসে কলকাতার নিউটাউনের সঞ্জীবা গার্ডেনের একটি ফ্ল্যাটে খুন হন তিনি। 

ঘটনার পর নড়েচড়ে বসে কলকাতা ও ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশ। যৌথ অভিযানে নামে দুই দেশের পুলিশ। অবশেষে নিখোঁজের ১৫ দিন পর ঘটনাস্থল সঞ্জীবা গার্ডেনের সেপটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার হলো কিছু মাংস।

আরও পড়ুন: