মৃত্যু সনদ না পাওয়া পর্যন্ত ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীমের আসন শূন্য ঘোষণা করা হবে না বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী। সোমবার ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান।
চিফ হুইপ বলেন, ‘ডেথ সার্টিফিকেট না পেলে ঝিনাইদহ-৪ আসনের এমপি আনোয়ারুল আজিম আনারের আসন শূন্য ঘোষণা করবে না সংসদ। অফিসিয়ালি মৃত ঘোষণা আসতে হবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট জায়গা থেকে।’
সাধারণত কোনো সংসদ সদস্য মারা গেলে বা অনুমতি ছাড়া ৯০ কার্যদিবস সংসদ অধিবেশনে অনুপস্থিত থাকলে তাঁর আসন শূন্য ঘোষণা করে সংসদ সচিবালয়। এরপর এর গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) অবহিত করা হয়। ইসি তখন পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে ওই আসনে উপনির্বাচন আয়োজন করে। সাধারণত কোনো সংসদ সদস্যের মৃত্যুর এক সপ্তাহের মধ্যেই আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়ে থাকে। সেই সদস্যের মৃত্যুতে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করেন স্পিকার। অধিবেশন চলাকালীন সময়ে কেউ মারা গেলে ওই দিনের জন্য সংসদ মুলতবি করার রেওয়াজও রয়েছে।
যেহেতু এখনো এমপি আজীমের মৃত্যু সনদ পাওয়া যায়নি তাই আসন্ন বাজেট অধিবেশনে কোনো শোক প্রস্তাবও আনা হবে না বলে জানান চিফ হুইপ।
গত ১২ মে চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়ে নিখোঁজ হন সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম। ২২ মে কলকাতা পুলিশ জানায়, আজীম খুন হয়েছেন। একই দিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানও জানান, সংসদ সদস্য আজীমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় একই দিন আজীমের খোঁজ চেয়ে রাজধানীর শেরে বাংলা নগর থানায় মামলা করেন তাঁর মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন।
আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরুর পর আসতে থাকে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। তবে আজীমের মরদেহ পাওয়া যায়নি। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ও ভারতে মোট ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দুই দেশের পুলিশ। এরমধ্যে ডিবির হেফাজতে আছে আমানুল্লাহ ওরফে শিমুল ভূঁইয়া, সেলেস্তা রহমান ও তানভীর ভূঁইয়া। আর কলকাতা পুলিশের হেফাজতে আছেন জিহাদ হাওলাদার।
এই ঘটনায় আরও দুই সন্দেহভাজন আক্তারুজ্জামান শাহীন ও সিয়াম পলাতক আছেন। ধারণা করা হচ্ছে মার্কিন নাগরিক আক্তারুজ্জামান আমেরিকা পালিয়েছেন আর সিয়াম অবস্থান করছেন নেপালে।
কলকাতা পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার জিহাদ এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। আজীমের মরদেহ থেকে হাড় ও মাংস আলাদা করার কাজটি মূলত সে–ই করেছে।
তদন্তের অংশ হিসেবে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদের নেতৃত্বে একটি দল সম্প্রতি কলকাতায় যায়। গত ২৮ মে বিকেলে কলকাতার নিউটাউনের সঞ্জীবা গার্ডেনের সেপটিক ট্যাংক থেকে প্রায় ৪ কেজি মাংসের টুকরা উদ্ধার করে ডিবি ও কলকাতা সিআইডির যৌথ দল। সে সময় ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ সাংবাদিকদের জানান, প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে এটি আজীমের দেহাবশেষ। ফরেনসিক টেস্টের মাধ্যমে পরে জানা যাবে এটি তাঁর দেহাংশ কিনা।
আরও পড়ুন:
- সেপটিক ট্যাংকে মাংসপিণ্ডের সঙ্গে মিলল হাড় ও চুল
- ভারতে গিয়ে ৪ দিন ধরে ‘খোঁজ নেই’ এমপি আনারের
- নিখোঁজ এমপি আনার, ৬ দিনেও সুস্পষ্ট তথ্য নেই সরকারের কাছে
- এমপি আনোয়ারুল আজীমের মরদেহ পাওয়া গেল কলকাতায়
- নিখোঁজ হাওয়া থেকে মরদেহ উদ্ধার, এমপি আজীমকে নিয়ে যা ঘটল
- কলকাতায় এমপি আজীমের মরদেহ উদ্ধার: যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপি
- এমপি আজীমকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- জব্দ হওয়া লাল গাড়িটি ভাড়া করেছিলেন এমপি আজীমই