কোটা আন্দোলনকারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরতে বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী 

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে যেতে অনুরোধ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে জনদুর্ভোগ তৈরি হলে আন্দোলনকারীদের বিষয়ে কঠোর হওয়ার ইঙ্গিতও দেন তিনি। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কোটা আন্দোলনকারীরা মনে হয় লিমিট ক্রস করে যাচ্ছে কয়েকদিন ধরে। তারা যেন অযথা সড়কে ভিড় না করে, লেখাপড়া নষ্ট করে যাতে বসে না থাকে। তাদের প্রতি অনুরোধ তারা নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে যাক। রাস্তায় তাদের কষ্ট করার কোন প্রয়োজন আর নাই। আদালত তাদের কথা শুনতে চাচ্ছেন।’ 

আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘তাদের প্রতি অনুরোধ, তাদের দাবি আমরা খেয়াল করছি। প্রধান বিচারপতির ঢাকে সাড়া দিয়ে তারা কোটে যাবেন।’

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে গত কয়েকদিন ধরেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে সড়ক আটকে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অবরোধে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। 

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি-১ শাখা নবম গ্রেড এবং ১০ম থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত সরাসরি নিয়োগে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করে একটি পরিপত্র জারি করা করে। এতে নারী কোটা ১০ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ এবং ১০ শতাংশ জেলা কোটা বাতিল বলে ঘোষণা করা হয়। 

পরে ওই পরিপত্র চ্যালেঞ্জ করে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি অহিদুল ইসলাম তুষারসহ সাতজন হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেন। ওই রিটের শুনানি শেষে গত ৫ জুন সরকারের জারি করা পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয় হাইকোর্ট। এতে সরকারি চাকরিতে আবারও কোটা ফিরে আসে। 

বিষয়টি আপিলে গেলে গত ৯ জুন হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে বিষয়টি আপিল বিভাগের বেঞ্চে শুনানীর জন্য পাঠান চেম্বার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম। ৪ জুলাই আপিল বেঞ্চ জানায়, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর মামলাটির শুনানি শুরু হবে। 

বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়ের ওপর এক মাসের স্থগিতাদেশ দেয়। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, ঝুলন্ত কোনো সিদ্ধান্ত তারা মানবেন না। একই সাথে বৃহস্পতিবার বিকেলে আবারও ব্লকেড কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘অনেকেই তাদের (আন্দোলনকারী) ব্যবহার করার জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছে। তাদের ষড়যন্ত্র পা না দিয়ে আন্দোলনে প্রত্যাহার করে নিক। তারা মেধাবী ছেলে, কেন তারা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যাবে?’ 

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলমান থাকলে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেবে কিনা জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশ কখন অ্যাকশনে যায়? জানমালের ক্ষতি করলে, অগ্নিসংযোগ করলে, জনদুর্ভোগ করলে তো পুলিশ বসে থাকবে না।’ 

আদালতের আদেশের পরও রাস্তা বন্ধ জনদুর্ভোগ তৈরি করলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা অবশ্য আগেই জানিয়েছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) ড. খ. মহিদ উদ্দিন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘গত ১০ দিনে একজন স্টুডেন্টও পুলিশের আচরণকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারেনি। কিন্তু এখন যদি রাস্তা বন্ধ হয়, তাহলে প্রচলিত আইন কার্যকর হবে। গত ১০ দিন যে সম্মানবোধ আমরা তাদের প্রতি দেখিয়েছি, আমাদের বিশ্বাস তারাও দেশের আইনের প্রতি সে বিশ্বাসটুকু রাখবে এবং সম্মান দেখাবে। তবে আদালতের আদেশের পরও যদি কেউ ব্লকেড কর্মসূচির নামে রাস্তা বন্ধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে তবে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেবে ডিএমপি।’