পুশইন মেনে নেবে না বাংলাদেশ, বন্ধে কূটনৈতিক সংলাপের তাগিদ বিশ্লেষকদের

দিল্লি অবৈধ বাংলাদেশির তালিকা পাঠিয়ে থাকলে, যাচাই-বাছাই করে দেখবে ঢাকা। তবে পুশইন কোনোভাবে মেনে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। আর দুদেশের বিশ্লেষকেরা বলছেন, পুশইন ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ককে আরও অবনতির দিকে ঠেলে দিতে পারে। সমস্যা সমাধানে দুই পক্ষকেই আলোচনায় বসার তাগিদ দিয়েছেন তারা। 

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার আসার পর প্রায় প্রতিদিনই বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের বিভিন্ন জায়গায় অবৈধ বাংলাদেশি দাবি করে পুশইন চালিয়ে যাচ্ছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে প্রতিবারই সেই চেষ্টা ব্যর্থ করে দিচ্ছে বিজিবি।

দিল্লির দাবি, অবৈধভাবে ভারতে থাকা ২ হাজার ৬৮০ বাংলাদেশির তালিকা পাঠানো হয়েছে ঢাকাকে। ৫ বছরেও নাগরিকত্ব যাচাই-বাছাই করে ফিরতি কোনো উত্তর দেয়নি বাংলাদেশ। 

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, এমন তালিকা থাকলে তা যাচাই-বাছাই করা হবে। যদিও এর অস্তিত্ব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি। 

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আমাদের কাছে কোনো তালিকা এই মুহূর্তে আমার জানা নেই। যদি তালিকা থাকে তাহলে নিশ্চয়ই সংশ্লিষ্ট উইং সেটা দেখছে। কিন্তু তালিকা থাকলে সেটা অবশ্যই আমরা যাচাই-বাছাই করব। সেই তালিকা বিজিবির হাতেও থাকার কথা। কোনোভাবেই আমরা পুশইন মেনে নেব না।’ 

ঢাকার বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার পুশ ইনকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। আর দিল্লির বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজ্যের এ ধরনের পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের চেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।  

ভারতের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ড. শ্রী রাধা দত্ত বলেন, ‘যেখানে আমরা দুই দেশ আগের মতো সুসম্পর্ক করতে চাই, সেখানে নিশ্চয়ই এটা চিন্তার জায়গা।’

বাংলাদেশের নিরাপত্তা বিশ্লেষক এমদাদুল ইসলাম বলেন, ‘পুশইন নিয়ে সম্পর্ক আরও অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা কিন্তু রয়েই গেছে। যেমন– রোহিঙ্গারা ওই দেশের (মিয়ানমারের) নাগরিক, কিন্তু কাগজ নাই বলে তাদেরকে এ দেশে ঢেলে ঢুকিয়ে দিয়েছে। একইভাবে পশ্চিমবঙ্গের বা ভারতের নাগরিকও এরাও চেষ্টা করবে ভারতে পুশইন করার জন্য। 

সমস্যা সমাধানে কূটনৈতিক সংলাপের তাগিদ দেন বিশেষজ্ঞরা। 

এমদাদুল ইসলাম বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের সরকারকে নিবৃত করার জন্য একটি জোরালো কূটনৈতিক অবস্থা বাংলাদেশকে গ্রহণ করতে হবে। সেটা হবে কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে।’

ড. শ্রী রাধা দত্ত বলেন, ‘এখন একটা অদ্ভুত হ্যাপহাজারড ওয়েতে চলছে (বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি)। সেই জন্য কারোর কোনো রিকোর্সের জায়গা নেই। কীভাবে এই সমস্যা দুই দেশ সমাধান করবে এখন সেই জায়গাটা তৈরি হয়েছে।’  

বিশ্লেষকরা বলছেন, অবৈধ অভিবাসন প্রমাণিত হওয়ার পর তাদের বৈধ প্রক্রিয়াতে ফেরত পাঠাতে হয়। পুশ ইন পুরো বেআইনি এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের লঙ্ঘন।