প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে শপথ নিলেন সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর

সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির নির্বাচিত প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালসহ মন্ত্রিসভার সদস্য ও সংসদ সদস্যরা।

এর আগে বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে নির্বাচিত বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরকে সংসদ সদস্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির প্রশাসন শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব (চ. দা.) এ এস এম ইকবাল হাসানের সই করা এক চিঠিতে এই তথ্য জানানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৭৯ চট্টগ্রাম-২ আসনে জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত প্রার্থীর নাম-ঠিকানা সংবলিত প্রজ্ঞাপন আজ বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশ করা হয়েছে। চিঠির অনুলিপি সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), বিভাগীয় কমিশনার (চট্টগ্রাম) এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপুলিশ পরিদর্শকসহ (ডিআইজি) ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ রায় দেন। রায়ের পর সারোয়ার আলমগীরের আইনজীবী আহসানুল করিম জানান, আদালত রুল অ্যাবসলিউট ঘোষণা করেছেন। ফলে ইসির মনোনয়নপত্র বাতিলের আদেশ অবৈধ এবং তাঁর প্রার্থিতা বৈধ ছিল। তাই ফলাফলের গেজেট প্রকাশ ও শপথ নিতে আইনগত বাধা নেই।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে অংশ নিলেও সারোয়ার আলমগীরের ফলাফল প্রকাশ সর্বোচ্চ আদালতের আদেশে স্থগিত ছিল।

এর আগে রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করলেও জামায়াতের প্রার্থীর আপিলের পর ঋণখেলাপির অভিযোগে ইসি গত ১৮ জানুয়ারি সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে। পরে সারোয়ার আলমগীর হাইকোর্টে রিট করলে আদালত তাঁকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও ‘ধানের শীষ’ প্রতীক বরাদ্দের নির্দেশ দেন। এরপর আপিল বিভাগের আদেশে তাঁর ফলাফল প্রকাশ স্থগিত থাকে। আপিল বিভাগের নির্দেশে রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট রুল অ্যাবসলিউট ঘোষণা করে রায় দেন।