নতুন গঙ্গা চুক্তিতে আগের ত্রুটি রাখতে চায় না সরকার। জানিয়েছেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে এক সেমিনারে তিনি বলেন, এ চুক্তি করতেই হবে, প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আইনের আশ্রয় নেবে সরকার। আর নতুন শর্তমালায়, সংকটে ন্যূনতম পানির গ্যারান্টিসহ কিছু বিষয় যুক্ত করার পরামর্শ বিশষজ্ঞদের।
১৯৭৫ সালে ফারাক্কা বাঁধ চালুর পরই বাংলাদেশের পানির হিস্যা নিয়ে আলোচনার শুরু। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৬ সালের গঙ্গা চুক্তি। তবে সে চুক্তির নানা বিষয় নিয়ে বহু সমালোচনা রয়েছে। মেয়াদ পূর্তির আগ-মুহূর্তে আবারও পুরনো শর্ত নিয়ে সরব বিভিন্ন পক্ষ।
ধানমন্ডির সেমিনারে গঙ্গা চুক্তির কাঠামোগত দুর্বলতা তুলে ধরেন আলোচকরা। তাদের মতে, উজানে কী পরিমান পানি প্রত্যাহার হচ্ছে, তা জানার অধিকার দেওয়া হয়নি বাংলাদেশকে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, ভারত কী পরিমাণ নিচ্ছে সেটা আমাদের জানাতে হবে। ফারাক্কা পয়েন্টের বিষয়টিও জানাতে হবে। চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে হবে।
১৯৭৭ সালের পানি বণ্টন চুক্তি ছিল ৫ বছর মেয়াদি। ১৯৯৬ সালের চুক্তিটি ৩০ বছরের পানি বণ্টন চুক্তির খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ চলছে।
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, আমরা মন্ত্রণালয় থেকে কথা বলছি। বিশেষ করে চুক্তি নবায়নের জন্য। ১৯৭৭ সালের জিয়াউর রহমান যে চুক্তি করেছেন সেটা নিয়ে আমরা কথা বলছি। ৯৬ সালের চুক্তিও পর্যালোচনা করছি।
পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, উজানে পানি প্রবাহের সঠিক তথ্য চায় বাংলাদেশ। নতুন চুক্তিতে, ৭৭ সালের গ্যারান্টি ক্লজ যুক্ত করার চেষ্টা করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, গ্যারান্টি ক্লজকে যে বাদ দেওয়া হয়েছিল, এখনও সেটাকে আমরা লালনপালন করছি। গ্যারান্টি ক্লজ না থাকার কারণে আমরা সর্বোচ্চ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি।
উজানে বাঁধ দিয়ে নদীর পানি নিয়ন্ত্রণ, সম্পর্কে প্রভাব ফেলছে বলে মনে করেন মন্ত্রী।