সুপ্রিম কোর্টের ভবন নির্মাণে ৬ কোটি টাকা আত্মসাতের প্রাথমিক সত্যতা পেল দুদক

সুপ্রিম কোর্টের রেকর্ড ভবন নির্মাণ প্রকল্পে প্রায় ৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুদক। বুধবার সকালে ঘটনাস্থল ও গণপূর্ত অধিদপ্তরে অভিযান চালায় দুদকের একটি দল। অভিযানে অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। 

দুদক জানায়, প্রকল্পটিতে টেন্ডার কারসাজি এবং কাজ না করেই বিল তুলে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। 

২০২৩ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জন্য ১৪ তলা বিশিষ্ট রেকর্ড ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেয় সরকার। সে ভবন নির্মাণ প্রকল্পে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠলে বুধবার ঘটনাস্থলে অভিযানে যায় দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম। ভবন নির্মাণ প্রকল্পে প্রায় ৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে সংস্থাটি। 

অভিযানে পাওয়া নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, সুপ্রিম কোর্টের রেকর্ড ভবন নির্মাণ প্রকল্পের মূল কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড। তবে, অনুমোদন ছাড়াই প্রকল্পটিকে ৮টি আলাদা ভাগে ভাগ করে অন্য ৮টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সাব-কনট্রাক্ট দেয়া হয়। ওই ঠিকাদারদের নামে প্রায় ৬ কোটি ৩২ লাখ টাকার বিলও পরিশোধ করা হয়েছে। 

দুদক সচিব সাইদুর রহমান খান বলেন, ‘বিধি বহির্ভূতভাবে টেন্ডার আহ্বান করে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে কাজের অস্তিত্ব ব্যাতিরেকেই বিভিন্ন ঠিকাদারের অনুকূলে ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯৭ হাজার টাকার বিল পরিশোধ করে সরকারি তথা রাষ্ট্রীয় অর্থের ক্ষতিসাধন ও আত্মসাৎ করা হয়েছে মর্মে আজ পরিচালিত এনফোর্সমেন্ট অভিযানে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়।’

এদিকে, অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশিদ ও তার ভাই এবিএম শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে দুদক। 

দুদক সচিব সাইদুর রহমান খান বলেন, ‘আসামি মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি যেটি পাওয়া গিয়েছে তার মূল্য ২১ কোটি ২৮ লাখ ৯ হাজার ৬০৫ টাকা। যা তার বৈধ উৎস থেকে অনেক বেশি।’

একই দিনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু ট্রাস্টের ২৭৬ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলার তদন্ত কর্মকর্তাও নিয়োগ দিয়েছে দুদক।