বাংলাদেশ জাতীয় দলের ওয়ানডে স্কোয়াড থেকে লিটন দাস বাদ পড়েছেন। শুনে একটু অবাক লাগছে। বাদ মানে বাদ, বাদ মানে বিশ্রাম না। একাদশ নয়, সরাসরি ১৫ সদস্যের স্কোয়াড থেকেই বাদ। বাংলাদেশের ক্রিকেট সংস্কৃতিতে লিটন দাসের বাদ পড়া একটা বিস্ময়কর ঘটনাই বলা চলে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট অভিধানে অটোচয়েস শব্দ ঢুকে গিয়েছিল লিটন দাসের বাদ পড়ার আগ অবধি। বাংলাদেশ জাতীয় পুরুষ ক্রিকেট দলের বেশ কিছু ক্রিকেটার নিজেদের অটোচয়েস হিসেবে মনে করেন বা করতেন। কিন্তু ভালো না খেললে জাতীয় দলে কেউ যে অটোচয়েস না, সেটা এত দিন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে ছিল না। ভালো না খেলে দিনের পর দিন অনেকেই জাতীয় দলে জায়গা পেয়েছেন। তাই বাংলাদেশ ক্রিকেট স্কোয়াড আর অটোচয়েস পাশাপাশি এগিয়েছে। সবকিছুরই একটা শেষ আছে। লিটন দাসকে বাদ দিয়ে সে বার্তাই দিলেন গাজী আশরাফ হোসেন লীপুর নেতৃত্বে নতুন নির্বাচক কমিটি। তাই নতুন নির্বাচক প্যানেলকে ধন্যবাদ দেওয়াই যায়।
নতুন নির্বাচক কমিটি প্রথম বলেই ছক্কা
শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে লিটন দাসের ‘বাদ পড়া’ বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জন্য অটোচয়েস খেলোয়াড়দের জন্য বড় ধাক্কা। নতুন নির্বাচক কমিটি দল বাছাইয়ের প্রথম বলেই ছক্কা মারার সাহস দেখিয়েছে। নান্নুর নেতৃত্বে আগের কমিটি বছরের পর বছর যে ভুলগুলো করে আসছিল, সে পথে হাঁটেনি লিপুর কমিটি। আগের কমিটিগুলো ওপেনার বাদ দিয়ে সাধারণত আরেকজন ওপেনারকে দলে নেওয়ার চেষ্টা করত। কিন্তু নতুন কমিটি দলে নিয়েছে জাকের আলী অনিককে! এ ক্ষেত্রে নতুন নির্বাচক কমিটি বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছেন। কারণ, বর্তমানে দলে সৌম্য সরকার, এনামুল হক বিজয় এবং তানজিদ হাসান তামিম তিনজন ওপেনার রয়েছেন। তাই লিটনকে বাদ দিয়ে তারা নতুন কোনো ওপেনারকে দলে নেয়নি। নিয়েছে মিডল অর্ডার ব্যাটার জাকের আলী অনিককে।
বিশ্রাম না, সরাসরি বাদ
মিনহাজুল আবেদীন নান্নুর নেতৃত্বাধীন আগের নির্বাচক কমিটি যদি দল থেকে কোনো সিনিয়র ক্রিকেটারকে বাদ দিত, তাহলে সেটা যে কারণেই হোক না কেন বলা হতো—বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। ‘বিশ্রাম দেওয়া’ এবং ‘বাদ দেওয়া’ দুটো বিষয় আলাদা। তৃতীয় ওয়ানডে স্কোয়াড থেকে লিটন দাসকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কোনো বিশ্রামের কথা বলা হয়নি। এ ‘বাদ দেওয়া’ শব্দটি বেশ জোরালোভাবেই বলা হয়েছে। দল থেকে বাদ পড়লে ম্যাসেজটা পরিষ্কার থাকতে হবে। ‘তুমি ভালো খেলতে পারছ না, তাই তোমাকে বাদ দেওয়া হয়েছে।’ এমনটা বললেই একজন খেলোয়াড় বুঝতে পারবেন, ‘আমি খারাপ খেলার কারণে দল থেকে বাদ পড়েছি। আমাকে ভালো খেলেই আবার দলে জায়গা করে নিতে হবে।’ কিন্তু খারাপ খেলার পর যখন বলা হয়, দল থেকে বাদ দেওয়া হয়নি, তাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে, তখন ওই খেলোয়াড়কে সত্য কথা বলা হলো না। তখন ওই খেলোয়াড় ভাবতেই পারেন—একটা সিরিজ বিশ্রামের পরই তো আমি দলে ফিরব। কারণ আমি তো বিশ্রামে আছি, আমি তো দলের অটোচয়েস। নতুন কমিটি সাহসটা দেখাতে পেরেছে, লিটন দাসের মতো একজন ‘অটোচয়েস’ খেলোয়াড়কে খারাপ খেলার নির্দিষ্ট কারণ জানিয়ে দল থেকে বাদ দিয়ে।
লিটন দাসকে বাদ দিতে একটু বেশিই তাড়াহুড়ো করা হয়েছে?
লিটন দাসকে কি বাদ দেওয়ার সময় হয়েছে? লিটন কি এতটাই বাজে খেলছেন? এমন প্রশ্ন লিটন ভক্তদের মাথায় আসতেই পারে। লিটন দাসকে বাদ দিতে কোনো তাড়াহুড়ো করা হয়নি, যা গত পাঁচ ম্যাচের পরিসংখ্যা দেখলেই বোঝা যাবে। গত পাঁচ ম্যাচের পরিসংখ্যানে লিটন দাস করেছেন ০, ০, ৭, ৩৬ ও ০ রান। এই পরিসংখ্যানই বলে দেয় লিটন দাস যেমনটা খেলেছেন, তাতে অবশ্যই তিনি বাদ পড়তে পারেন। বাদ দেওয়া মানে তো আর কোনো দিন দলে ফিরে আসবেন, না তা নয়। লিটন দাস ফিরে আসুন দলে। নিজেকে প্রমাণ করেই ফিরে আসুন।
লেখক: সাংবাদিক, ডিজিটাল বিভাগ, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন