তারেক রহমানের সামনে এখন যে চ্যালেঞ্জ

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রাজনীতির বিভক্তি, বিভাজন ও হিংসা মোকাবিলা করা। ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার এখনই সুবর্ণ সুযোগ—এমনটাই বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ তাঁদের।

২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় নির্যাতনের মুখে দেশ ছাড়েন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এরপর গত সাড়ে ১৫ বছরের স্বৈরাচার শেখ হাসিনার শাসনামলে তাঁর পরিবারের ওপর চালানো হয় নির্মম নির্যাতন।

দেশের গণমাধ্যমে বন্ধ রাখা হয় তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচার। কিন্তু শত ষড়যন্ত্রেও থামিয়ে রাখা যায়নি তাঁকে। যুক্তরাজ্য থেকেই গণতান্ত্রিক দেশের জন্য লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন।

অবশেষে বৃহস্পতিবার দীর্ঘ ১৮ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফিরছেন তিনি। লাখো জনতা অপেক্ষায় আছেন তাঁকে বরণ করে নিতে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ব্যারিস্টার মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘ ফ্যাসিস্ট শাসন ও জুলাই বিপ্লবের পরে এই বাংলাদেশে এখন একটা সংকট দেখা দিয়েছে এবং এটা কিন্তু সবার কাছেই দৃশ্যমান। এ কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যেও যেমন একটা উচ্ছ্বাস আছে, আবেগ আছে, আবার সবার মধ্যে একটা আকাঙ্ক্ষাও আছে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য। এতে তারেক রহমান নেতৃত্ব দেবেন।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তারেক রহমানের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রাজনীতির বিভক্তি, বিভাজন ও হিংসা মোকাবিলা করা। ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার বড় সুযোগ এখন তাঁর হাতে।

উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘শুধু বিএনপি বা ছাত্রদল না, এর বাইরেও যারা গণতন্ত্রের জন্য দাবি তুলেছে, সব দল কিন্তু একসাথে ছিল। সেখানে ঐক্যবদ্ধভাবে উনি রাজনীতি করবেন বলেই তো ৩১ দফা। আমরা বিশ্বাস করি, তারেক রহমান সাহেব সবাইকে নিয়েই কাজ করতে পারবেন। সেই নেতৃত্ব এরই মধ্যে তাঁর মধ্যে তৈরি হয়েছে।’

তারেক রহমানকে টার্গেট করে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়ানো শুরু করেছে পতিত স্বৈরাচারের অনুসারীরা। এসব অপপ্রচার এবং দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, ‘তিনি শহীদ জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান হিসেবে তাঁর যে অর্জিত রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সেটার আলোকে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের দায়িত্ব পেলে কীভাবে পরিচালনা করবেন—তার একটি পরিকল্পনা কিন্তু ইতিমধ্যেই প্রণয়ন করেছেন।’

বিগত সময়ে তারেক রহমানের পরিকল্পনা এবং বক্তব্যগুলো ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আসবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।