জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করে সরকার একদলীয় শাসন কায়েম করতে চায় নাকি আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করতে চায়—জাতীয় সংসদে এমন প্রশ্ন তুলেছেন দলটির নায়েবে আমির ও রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম।
রোববার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে এই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করা হলে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যে শূন্যতা তৈরি হবে, তা কে পূরণ করবে—এমন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, “আপনারা জামায়াতকে নিষিদ্ধের কথা বলেছেন। আমি শুধু একটা কথা বলতে চাই, ধরলাম আমরা নিষিদ্ধ হয়ে গেলাম। এই শূন্যস্থানটা পূরণ করবে কে? আপনারা কি একাই দেশ চালাবেন? আপনারা কী একদলীয় শাসন কায়েম করাবেন? যদি না করেন, এটা কে পূরণ করবে?”
একই সঙ্গে সরকার আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে ফিরিয়ে আনতে চাইছে বলে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “আপনারা কী আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করতে চাচ্ছেন? আমি তো মনে করি, আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করতে চাচ্ছেন। কারণ চার মাসেও একটা লোক খুঁজে পেলেন না যে প্রেসিডেন্ট কে হবে? ফ্যাসিস্ট সরকারের লোককেই আপনাদের পছন্দ হয়। তাকেই রাখার চেষ্টা করতেছেন।”
সংসদে নিজের বক্তব্যে জামায়াতের এই নেতা সাফ জানান, ফ্যাসিস্ট শক্তিকে দেশ থেকে নির্মূল করতে হলে তাদের সব চিহ্ন পুরোপুরি মুছে ফেলতে হবে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এতো বড় বিএনপির দল, তাকে (প্রেসিডেন্ট) এতো পছন্দ হয় কেন? কোনো কি ইঙ্গিত পেয়েছেন যে তাকে রাখতে হবে? আমরা জানি না, জনগণের কাছে আপনারা বিষয়টি খোলাসা করুন এবং ফ্যাসিস্টদের যদি নির্মূল করতে চান, তো ফ্যাসিস্টদের সব চিহ্নই মুছে ফেলুন।”
বক্তব্যের শুরুতে জামায়াতে ইসলামীর এই শীর্ষ নেতা একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া তাঁর দলের পাঁচ শীর্ষ নেতার কথা স্মরণ করেন এবং এর পুনঃতদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
এ সময় মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, কামারুজ্জামান, আবদুল কাদের মোল্লা ও মীর কাশেম আলীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টিকে জুডিশিয়াল কিলিং বলে দাবি করেন তিনি। এর পেছনে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনার দাবিও জানান এই সংসদ সদস্য।
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এ টি এম আজহারুল ইসলামের নিজেরও মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে, যা পরবর্তীতে আপিল বিভাগেও বহাল থাকে। তবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের সর্বোচ্চ আদালতে তাঁর করা রিভিউ আবেদনের শুনানিতে তিনি খালাস পান।