স্মৃতিকথা–৫ 

দাদ ভাই!

হায়দার খালুকে বুঝতে আমার বেশ সময় লেগেছিল।

কথাটা বোধহয় পুরোপুরি ঠিক নয়। মাঝে মাঝে আমার মনে হয়, জীবনের এই সময়ে এসেও, তাঁকে আমি আজও বুঝিনি। কেউ কি সত্যিই কাউকে বোঝে? নিকটতম মানুষদেরই আমরা ঠিক বুঝি না, উনি তো ছিলেন আমাদের প্রতিবেশী। তাছাড়া আমার মনে তাঁর স্মৃতি তো সেই পিচ্চিবেলার। সেসময়ের বোধের মূল্যই বা কতোটুকু?

হামিদ চাচা, যিনি আব্বার কলিগ ছিলেন- আমাদের সাথে বাসা ভাগাভাগি করে ছিলেন বেশ ক’বছর। যিনি আরও খানিক বড় বাসা কিম্বা আলাদা ঘরের আশায়- অথবা কিছুটা প্রাইভেসির জন্য, মোহম্মদপুরে বাসা নিয়ে চলে গেলেন। আমাদের মন খারাপ হয়েছিল খুব। তাঁদের ছেলে প্রিন্সের জন্মই তো হ’লো আমাদেরই চোখের সামনে। এখন তাদের জায়গায় নতুন কে না কে আসে! নিজেরাই পুরো বাসাটা নিয়ে থাকতে পারলে বেশ হ’তো। কিন্তু সেটি সম্ভব নয়, বর্ধিত ভাড়া গোনার মতো অত টাকা কোথায় আমাদের? এখন কোনো উটকো পরিবার না এসে জোটে আবার- সেই আশঙ্কায় অস্থির বাসার সবাই। আব্বা একটা নোটিশ ঝুলিয়ে দিলেন, ‘ বাড়ি ভাড়া ’। এই নোটিশের নেপথ্যের সত্য হ’লো, এটি আসলে পুরো বাড়িটা ভাড়া হবার জন্য নয়, শেয়ারিং- মানে ভাগাভাগি করে থাকার জন্য। এটাকে ঠিক সাবলেটও বলা যেত না। সবকিছুই ছিল আধাআধি। তিন কামরার একটি করে প্রতি পরিবারের জন্য। মাঝের ঘরটি ভাগাভাগি করে ব্যবহার করতে হবে। টয়লেট, গোসল খানা একটিই, রান্নাঘরের দু’ কোনায় দুটো বার্নার- তিতাস সবে সংযোগ দিয়েছে রায়ের বাজার এলাকার বাসায় বাসায়।

অপর এক লোকের সাথে এক বিকেলে এসেছিলেন তিনি। বাসা দেখে চলে যাবার আগে আব্বাকে বলে গেলেন, আমি আসতে পারি এ বাসায়, তবে মাঝের ঘরে একটা বোর্ডের পার্টিশন দিতে হবে। একটি বোন থাকবে আমাদের সাথে। ওর জন্য একটু আড়াল দরকার পড়বে। আপনারও তো শুনলাম একজন শ্যালিকা থাকবে। এটাই ভালো হবে, কি বলেন।

আব্বা বলেছিলেন, ঠিক আছে। তাতে আমার সমস্যা নেই। তবে পরে বুঝেছি এ ফয়াসালায় আব্বার তেমন মত ছিল না। এটা কি রকম শর্ত, আসার আগেই আরোপ করছেন? আমার কিন্তু হায়দার খালুকে দারুণ লাগলো। গোঁফওয়ালা টকটকে চেহারার দারুণ দেখতে, রিষ্ট-পুষ্ট একজন মানুষ। আমার সবচেয়ে ভালো লাগলো উনার কথা বলার ধরণ, একদম শুদ্ধ বাংলা, একেবারে শান্তিপুরি। আর আমরা তো বলি খাঁটি ময়মনসিংহের (নেত্রকোনা তো তখনো জেলা হয়নি) আঞ্চলিক ভাষা। কিন্তু জেনেছি উনি কুষ্টিয়া, ভেড়ামারার মানুষ।

উঠে এলেন ওঁরা, মানে হায়দার খালু, তাঁর স্ত্রী রুনু খালা এবং তাঁর ছোট বোন নেলি খালা। কয়েকদিনের মাঝেই দেখা গেলো নেলি খালা ও আমার ছোট খালা চুলে তেল দিয়ে, বেনী বেঁধে, সবুজ-সাদা স্কুল ড্রেস পরে রোজ একসাথে ক্লাসে যায়। তখন ওরা এইট কিম্বা নাইনে পড়তো। দারুণ বন্ধুত্ব হয়ে যায় তাদের মাঝে। মাঝের ঘরে পার্টিশন দেবার কথা কারও আর মনেও থাকে না, প্রয়োজনও পড়ে না। প্রায়ই রুনু খালা এটা সেটা রেঁধে পাঠান। আম্মাও পাঠান ওদের। নিজের মায়ের রান্না সব সন্তানদের কাছে অনবদ্য হলেও, বলতে দ্বিধা নেই রুনু খালার হাতের রান্নার তুলনা নেই যেন।

রান্না কেবল রুনু খালাই যে ভালো করতেন তা নয়। আমাকে বিস্মিত করে দিয়ে হায়দার খালু একদিন মাছের কোনো একটা অসাধারণ মজাদার পদ বানিয়ে এবং আমাদের খাইয়ে অবাক করে দিলেন। জীবনে সেই প্রথম কোনো পুরুষ মানুষকে রাঁধতে দেখা আমার। একবার এয়ারগান নিয়ে গেলেন শিকারে। ফিরে এলেন বুকে দস্তার গুলি ভরা অনেক নাম না জানা পাখি নিয়ে। জানলাম কোনটি ঘুঘু, কোনটি কানি বক, আর কোনটিই বুঝি ডাহুক বা মরাল। হায়দার খালু আমার শিশুমনকে আরও অনেক ভাবেই অবাক করেছিলেন। ধীরে ধীরে তা জানতে পেরেছি।

একবার একটা মজার কাণ্ড হ’লো আমাদের বাসায়। রাতের বেলা চোর এসে স্টোররুমে এবং রান্নাঘর থেকে কিছু জিনিস চুরি করে নিয়ে যায়। মাঝরাতে আমাদের সবার ঘুম ভেঙে যায়। সবাই রান্নাঘর এবং শোবার ঘরের মাঝে জটলা হয়েছি। দেখা দরকার কী কী খোয়া গেল। পেছন থেকে হায়দার খালু বললেন, রুনু, ভয়ে আমার গা ছমছম করছে। আমি যাবো না, তুমি যাও। দশাসই চেহারার হায়দার খালু তাঁর স্ত্রীকে এগিয়ে দিলেন, নিজে এগিয়ে গেলেন না। বিষয়টি নিয়ে পরে আমরা সবাই খুব মজা করতাম এবং সুযোগ পেলেই, ‘গা ছম ছম’ কথাটি যত্রতত্র ব্যবহার করতাম।

ঢাকা ম্যাচ ফ্যাক্টরিতে চাকরি করা সীমিত আয়ের মীর হায়দার আলী খালুর চালচলনে একটা কোমল বনেদীয়ানা টের পেতাম। কিন্তু কি সেটা ঠিক ঠাওর করতে পারতাম না। দেখতাম, কাজ থেকে ফিরে, একটু গা গড়িয়ে নিয়ে তিনি আধশোয়া হয়ে বিছানায় তাস বাটছেন। তাস নিয়ে নাড়াচাড়া তো আমাদের মতো নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের চিন্তারও বাইরে। সন্ধ্যায় আসতেন তসলিম খালু, তাঁর ছোটো ভগ্নিপতি। চলতো অনেক রাত পর্যন্ত তাস খেলা। মাঝে মাঝে রুনু খালা নিঃশব্দে এসে পাশে দিয়ে যেতেন সুস্বাদু সান্ধ্যকালীন নাস্তা কিম্বা রাতের খাবার। দরজার ফাঁক দিয়ে আলোতে দেখা এ দৃশ্য আমার মনে গেঁথে আছে আজো। তসলিম খালু এবং হায়দার খালুর এই চমৎকার সম্পর্ক মনে গেঁথে থাকলেও চোখে লেগে আছে অন্য ছবি। রোজি খালা, যিনি হায়দার খালুর ছোটো বোন এবং তসলিম খালুর স্ত্রী, মাঝে মাঝে দুপুরের দিকে, যখন পুরুষদের কেউই বাসায় থাকতেন না, আসতেন আমাদের ওখানে। আমি অবাক চোখে তাঁকে দেখতাম। কী অপূর্ব দেখতে ছিলেন তিনি। আম্মার সাথে তাঁর ভারী সখ্য গড়ে উঠেছিল। অথচ দূর থেকে দেখতাম, রুনু খালাকে প্রায়ই আড়ালে নিয়ে গিয়ে নিচু গলায় ক্রমাগত ঝাড়ছেন। সে কণ্ঠ যতই নিম্ন হোক, তাতে যে যন্ত্রণাসূচক বচসা নিহিত থাকতো সেটা আমি সেই বয়সেই বুঝেছি। কিন্তু কেন শুধু শুধু উনি এসে রুনু খালাকে এমন করে ভর্ৎসনা করতেন আমি ঠিক বুঝতাম না।

পরপর দুটি সন্তান হ’লো তাঁদের, রত্না এবং সাব্বির। সাব্বির জন্মাবার আগে আগে, হঠাৎ করে, হায়দার খালুকে চট্টগ্রাম যেতে হয়েছিল অফিসের কাজে। উপায় ছিল না তাঁর। কিন্তু এটাও হয়তো ভাবেননি যে আসন্ন সন্তান-সম্ভবা রুনু খালা আর কয়েকটা দিন অপেক্ষা করতে পারবেন না। আব্বা আম্মাই সে রাতে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। দু’দিন পর খালু যখন ফিরলেন, সাব্বির এবং খালাম্মা তখন হাসপাতালে। তখন তো আর মোবাইল ফোন ছিল না, খবরটা তিনি বাসায় এসেই পেয়েছিলেন। নির্ভরতার এবং বিশ্বস্ততার এমনই একটা সম্পর্ক ছিল তাঁদের সাথে।

খুব শীঘ্রই আমি টের পেলাম, নেলি খালা কী এক অজানা কারণে রুনু খালার সাথে কথা বলেন না, কোনো সম্বোধনও করেন না। অথচ তাঁরই রেঁধে দেওয়া খাবার খাচ্ছেন রোজ, তাঁরই কেঁচে দেওয়া কাপড় পরছেন অনায়াসে। দেখতে দেখতে আরও দুই বোন, লাভ্লী এবং বাবলী খালাও এসে যুক্ত হ’লো এই বাসায়। রোজি খালার বাসা বেশ কাছে হলেও, এবং ওঁরা বেশ অবস্থা সম্পন্ন হলেও, লাভলী-বাবলী এখানেই থাকতো। কেন থাকতো সেও এক বিস্ময়! আশ্চর্য হবার ব্যাপার হচ্ছে, এরা দুজনই আসার কিছুদিন পর থেকে রুনু খালার সাথে কথা বন্ধ করে দেয়। সেই ছোটো বেলাতেই বুঝেছি, কেউ কিছু না বলে দিলেও, এরা সবাই মানে হায়দার খালুর ভাইবোন রুনু খালাকে ঘৃণা করতো। কিন্তু কেন? রুনু খালা কী চমৎকার মানুষ!

মাঝে মাঝেই খালুর আত্মীয়-স্বজন বাসায় বেড়াতে আসতেন। ঢাউস সব মোটর গাড়িতে চড়ে আসতেন তারা। তাঁদের পরনে দেখতাম দামী সব পোশাক, বাসায় ভেসে বেড়াতো মোহনীয় সুগন্ধি, গয়না এবং চুড়ির রিনিঝিনি। এদের আসা যাওয়া থেকেই আমার অনুমান হতো, মীর পরিবারের হায়দার খালু নিশ্চয়ই কোনো বড়ঘরের সন্তান। অথচ তাঁর বা রুনু খালার আচরণে কোনোদিন সেটা প্রকাশ পেত না। ওঁরা ছিলেন মাটির মানুষ, খুব সাধারণ একটা জীবন কাটাতেন।

একবার হায়দার খালু একটু অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, ক’দিন অফিস যাননি তিনি। যেদিন গেলেন, শরীর দুর্বল তখনো, আমাকে সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলেন। ঢাকা ম্যাচ ফ্যাক্টরিতে পৌঁছে একজনকে বললেন আমাকে যেন কারখানাটি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখায়। সেই আমার প্রথম কোনো কারখানা দেখা। আমরা তো কেবল দেখি কালো মাথার (বারুদ) ম্যাচ শলাকা। কিন্তু সেদিন কত রঙের যে শলাকা দেখেছিলাম, কি বলবো। আমাকে দেওয়া হলো ব্যাগ ভর্তি বিভিন্ন রঙের শলাকা ভরা ম্যাচবাক্স।

ফিরে আসার সময় তিনি আমাকে নিয়ে একটি বাসায় গেলেন, কোনো আত্মীয়ের বাসা হবে হয়তো। নারিন্দা, অথবা অন্য কোনো জায়গায়, আজ আর ঠিক মনে নেই। প্রকাণ্ড দোতলা একটা বাড়িতে ঝুল বারান্দা, বড় বড় অনেকগুলো ঘর। একটি ঘরে একজন প্রৌঢ় বিশাল পালঙ্কের পাশে আরাম কেদারায় বসে গড়গড়ায় তামাক খাচ্ছেন। হায়দার খালু কিছুক্ষণ সেই মানুষটির সাথে মৃদু স্বরে কথা বললেন। আমাদের সামনের টেবিলে পরিবেশন করা হ’লো অনেক নাস্তা। হায়দার খালু খেলেন না, আমি খেলাম পেট পুড়ে। আজ এত বছর পরও মনে পরে সেই সন্ধ্যায় দেখা রহস্যময় বাড়িটির কথা, কোমল আলোয় দেখা সেই বনেদী চেহারার বৃদ্ধের কথা। হয়তো ঠিক ওভাবে কিছুই দেখিনি আমি, সেটা আমার মনের কল্পনাও হতে পারে। অনেক পরে, আমার বিভিন্ন লেখায় নারিন্দা প্রচ্ছন্নভাবে ঘুরে ফিরে এসেছে। মাঝে মাঝে আমি ভাবতাম, খালুর আত্মীয় স্বজন এত বড়োলোক, তবু কেন ওঁরা এমন সাধারণভাবে জীবনযাপন করেন, আমাদের সাথে ঘর ভাগাভাগি করে থাকেন? আমি কোনোদিন রুনু খালার কোনো আত্মীয়কে দেখিনি।

নয় ভাইবোনের মাঝে হায়দার খালু ছিলেন দ্বিতীয়। ভাইদের মধ্যে সবচেয়ে বড়, সবাই তাঁকে ডাকতেন দাদ-ভাই বলে। একদিন জানালেন, মিরপুর এগারো কিম্বা সাড়ে এগারোতে একটা বাড়ি, যেটা কিনা বিহারীদের নির্মিত একতলা বাসা, কিনেছেন ওরা। খুব তাড়াতাড়িই ওঁদের উঠে যেতে হবে সেখানে। সেদিন আমাদের বাসায় নেমে এসেছিল হিম সন্ধ্যার বিষণ্ণতা। কে হয় ওরা আমাদের, কেউ না। তবু যেদিন সত্যি সত্যিই ওরা চলে গেলেন, আমার আম্মা তাঁদের জন্য ডুকরে কাঁদলেন। এমন অপূর্ব মানুষ হয় না, আমরা পাইওনি।

কয়েক বছর পরের কথা।

হঠাৎ জানতে পারলাম, মীর পরিবারকে সেই ক্রীত বাসাটি ছেড়ে দিতে হয়েছে। বাসাটি কিনেছিলেন জার্মানিতে থাকা তাঁর ভাই কামালের নামে। একদিন সেই ভাই এসে দাবি করলেন। ওঁদের ছাড়তে হ’লো বাসাটি। হায়দার খালু জোর করতে পারতেন, কিনে নিতে পারতেন- অথবা বলতে পারতেন, তোমাদের তো কোনো কিছুর অভাব নেই। আমার দুটি বাচ্চা। এদেরকে নিয়ে কোথায় যাবো? ওরা এখনো উপার্জনক্ষম হয়ে ওঠেনি। আমাদের থাকতে দাও।

কিন্তু তিনি সেটি বলেননি, সেটি তাঁর ব্যক্তিত্বের সাথে যায়ও না। উঠে এলেন দুই রুমের একটি ভাড়া বাসায়। এ গল্প তারা কোনোদিন বলেননি আমাদের। শুনেছি অন্য কারো থেকে- যিনি আমাদের দুই পরিবারেরই শুভাকাঙ্ক্ষী, মীর পরিবারের অনেক কিছুই হয়তো জানতেন।

কিছুদিন পর, যখন বাচ্চারা তেমন বড় হয়ে ওঠেনি, রুনু খালার হার্টে কি যেন একটা সমস্যা ধরা পড়লো। ঠিক মতো চিকিৎসা হয়েছিলো কিনা জানি না। কিছুদিন পর তিনি মারা গেলেন। তখনো রত্নার বিয়ে হয়নি। বাচ্চাদের নিয়ে অথৈ সাগরে পরে গেলেন খালু। একদিন এলেন আমাদের বাসায়, রত্নার বিয়ের কার্ড নিয়ে। জানালেন সাব্বির, যার বয়স ২৩-২৪ হবে, চলে গেছে করাল সৌদি আরবে। বিয়ের পর রত্না তাঁর স্বামীকে নিয়ে ওঁর সাথেই থাকবে। এর বাইরে আর উপায় বা কী আছে।

বেশি দিন রত্নাকে খালুর দেখভাল করতে হয়নি। এর কয়েক বছর পর হায়দার খালু মারা গেলেন। তাঁর মৃত্যুর পর গুপ্ত-তোরঙ্গে লুকানো গল্পের মতো কিছু সত্য জানতে পারলাম।

হায়দার খালুর বড় বোন ছিলেন রাজনৈতিক নেতা শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের স্ত্রী। যদিও এদের কাউকেই আমি কোনোদিন দেখিনি আমাদের ওখানে বেড়াতে আসতে। ওঁদের বাসায় থেকেই লেখাপড়া করতেন হায়দার খালু। সে বাড়িতে থাকা অবস্থাতেই রুনু খালার সাথে হায়দার খালুর প্রেম হয়। রুনু খালা ছিলেন শাহ মোয়াজ্জেমের বৈমাত্রেয় বোন। কিন্তু সেখানে তিনি ছিলেন, আশ্রিতের মতো। পুরুষতান্ত্রিক আমাদের সে সমাজে লোকের একাধিক বিয়ের চল ছিল। দ্বিতীয়পক্ষের স্ত্রী বা তাঁর সন্তানেরা কখনোই প্রকৃত সম্মান পায় না। চিরকাল আশ্রিত দাস-দাসীর মতোই থেকে যায়। সেই আশ্রিতকেই যখন তিনি বিয়ে করলেন, পুরো পরিবার আক্রোশে ফেটে পড়ে। তাঁদেরকে আলাদা করার, হেয় করার, নিগ্রহ করার, হেন চেষ্টা নেই যে ওরা করেননি। অথচ কোনদিনই আমি দেখিনি হায়দার খালু রুনু খালার সাথে কটু ভাষায় কিম্বা উচ্চকণ্ঠে কথা বলেছেন। সবকিছু পেছন ফেলে একদিন তাঁরা দুজনই বেরিয়ে এসেছিলেন।

তিনি ছিলেন হৃতরাজ্যের রাজকুমার, সকলের দাদ ভাই, আমার শৈশবের নায়ক!

আসাদুজ্জামান পাভেল, সাউথ ক্যারোলাইনা, যুক্তরাষ্ট্র