একুশ নিয়ে কিছু কথা

ফেব্রুয়ারি মাসে আমাদের ভাষার পুনর্জন্ম হয়েছিল। কিন্তু মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় বাঙালির চরম এই ত্যাগের কথা আমরা অনেকেই ভুলে থাকি। 

বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের অনেকেই জানে না যে, এই আন্দোলন হয়েছিল ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি, ৮ই ফাল্গুন ১৩৫৮ বঙ্গাব্দ। মাতৃভাষার মান রক্ষার জন্য কত প্রাণ অকাতরে বলি হয়েছে। কত মায়ের বুক শূন্য করে দিয়েছে ঘাতক পাকিস্তানি পুলিশ। অশ্রু ও রক্তের বিনিময়ে আমাদের ভাষার অধিকার আমরা ছিনিয়ে এনেছিলাম। 

আমাদের শৈশবে স্কুলের প্রভাতফেরিতে যোগ দিতে হতো। তখন বিশেষ কিছু বুঝতাম না। তারপরও “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/ আমি কি ভুলিতে পারি”– এই গানটি আমাদের অন্তরে এক অদ্ভুত রকমের শোকের ঝড় বয়ে দিত। পলাশ ফুল, গাঁদা ফুল দিয়ে যত্ন করে মালা গেঁথে শহীদ মিনারে দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করতাম। সেই শ্রদ্ধা এখনও আছে শতভাগ নিখাদ। 

সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার ও শফিউর– এই নামগুলো শুনলে গায়ে কাঁটা দিয়ে যেতো । যদিও প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, ১৯৫২ সালের ২১ ও ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সরকারি বাহিনীর নির্বিচার গুলিতে বহু লোক নিহত হলেও তারা সবাই স্বীকৃতি পায়নি। তাই বলে তাঁদের অবদান মুছে যায়নি। সন্তানহারা মায়ের আবেগ, আকুতি এই বাংলার প্রান্তরে সবসময় গুমরে কাঁদবে। 

ভেসে গেছে কত প্রাণ লোহিত প্রশ্রবণে 
পিচঢালা পথে বুলেট বিছানো অগ্নিঝরা ক্রোধ 
শানিত হয় কণ্ঠে মোদের ভাষার তলোয়ার  
পৃথিবী ক্লান্তিহীন হাঁটছে আগামীর পথে 
তবু পারিজাত ফুলের পাপড়িতে শুক্লপক্ষের রাত মায়ার নহর ঝরায়
সন্তানহারা মায়ের সেই কান্না আজও প্রতিধ্বনিত হয় এই পাললিক বাংলায়।

লেখক: আমেরিকা প্রবাসী কবি