অনুষ্ঠানের শুরুতে তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম আমানুল হক দূতাবাসের কর্মকর্তা–কর্মচারীদের উপস্থিতিতে জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করেন।
পরে রাষ্ট্রদূতের সভাপতিত্বে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পাঠানো বাণী পাঠ করেন দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব শফিক উদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন দূতালয় প্রধান মো. রফিকুল ইসলাম।
রাষ্ট্রদূত এম আমানুল হক সমাপনী বক্তব্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন। রাষ্ট্রদূত বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, ‘১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণ তথা স্বাধীনতার ঘোষণা শোনার জন্য লাখ লাখ মানুষ জমায়েত হয়েছিল রমনার রেসকোর্স ময়দানে। সেই সময় বঙ্গবন্ধু অত্যন্ত সুকৌশলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে পটভূমি তৈরি করে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এটা ছিল বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং অসাধারণ প্রজ্ঞার অভিব্যক্তি।’
এম আমানুল হক আরও বলেন, ‘বহুমাত্রিকতাপূর্ণ বঙ্গবন্ধুর অলিখিত ভাষণটি বিশ্লেষণ করে মার্কিন ম্যাগাজিন “নিউজ উইক” তাঁকে ‘‘রাজনৈতিক কবি’’ বলে আখ্যায়িত করেছিল। ২০১৭ সালে ইউনেস্কো এ ভাষণকে “বিশ্ব ঐতিহ্য দলিল’’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে ৭ মার্চকে জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস ঘোষণা করে তা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন। সেই থেকে বাংলাদেশে এবং বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনসমূহে প্রতিবছর ৭ই মার্চ ঐতিহাসিক দিবস হিসেবে পালন করা হয়।’
রাষ্ট্রদূত দেশে ও বিদেশে অবস্থানরত সকলকে বাংলাদেশের উন্নয়নে এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ২০৪১ সালের মধ্যে “স্মার্ট বাংলাদেশ“গঠনে সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। উপস্থিত সকলকে আপ্যায়নের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি হয়।