আমেরিকার মিশিগান অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন স্থানে শারদীয় দুর্গোৎসবের ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত ৯ দিনব্যাপী বিভিন্ন মন্দির ও সংগঠন এ পূজার আয়োজন করছে।
পূজার প্রায় এক মাস আগ থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছে মন্দির ও সংগঠনগুলো। প্রবাসের পূজা বেশীরভাগ সময়ই তিথি মতো অনুষ্টিত হয় সপ্তাহের কর্মদিবসে এবং উদযাপন করা হয় সপ্তাহান্তে। তবে এবার বিভিন্ন মন্দিরে পূজা তিথি মতো উদযাপন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
প্রবাসের পূজা মানে একে অন্যের সাথে দেখা, মত বিনিময়, আনন্দ উদযাপন। প্রবাসের পূজার অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কে কার চেয়ে সুন্দর অনুষ্ঠান উপহার দেয়– তার এক প্রতিযোগিতা হয় এ শারদ উৎসবে।
ইতোমধ্যে পূজার কেনাকাটা শুরু হয়ে গেছে। প্রবাসী বাংলাদেশি মালিকানাধীন কাপড়ের দোকানগুলোতে ভিড় পরিলক্ষিত হচ্ছে। মানুষজন একে–অন্যেকে পূজার জামা কাপড় উপহার দিচ্ছেন। অনেকে অনলাইনে বাংলাদেশ থেকে কাপড়চোপড়, অলংকার, গিফট সামগ্রী আনছেন।
সনাতন ধর্মাবলম্ভীরা পূজা উপলক্ষ্যে পূজার সময়টায় ছুটি নিয়ে রেখেছেন। প্রবাসে পূজায় সংকলন প্রকাশ করা পূজার অংশ হয়ে গেছে। প্রতিটি পূজাতেই স্মরণিকা বের করা হয়। এতে দেশের ও প্রবাসের লেখকদের লেখা প্রকাশিত হয়।
চলতি বছর বিভিন্ন মন্দিরে পূজা উপলক্ষে পূজা মেলা, পূজা ফেস্ট, মহালয়ার মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দুর্গা মন্দিরের পূজা
ডেট্রয়েট শহরের দুর্গা মন্দিরের পূজা হবে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত এবং উদযাপন করা হবে ৪ ও ৫ অক্টোবর। তিথি মতো পূজা হবে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত এবং ৪ ও ৫ অক্টোবর পূজা উদযাপন করা হবে।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে দুর্গা মন্দির ব্যাপক কর্মসূচি নিয়েছে। মায়ের বোধন, পূজা, অঞ্জলি, যজ্ঞ, প্রসাদ বিতরণ, আরতিসহ বিভিন্ন মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানাদি হবে। ২৯ সেপ্টেম্বর অষ্টমীর দিনে ১০৮টি সদ্য ফোটা পদ্মফুল ও ১০৮ টি প্রদীপ জ্বালিয়ে সন্ধি পূজা করা হবে। বিশেষ আলোকসজ্জার আয়োজন করা হয়েছে।
পূজার প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত অবধি থাকবে কবিতা আবৃত্তি, গান, নৃত্য, গীতিনাট্য, ঐতিহ্যবাহী ধামাইল, কাঠিনাচ, অতিথি শিল্পীদের গান, নাটক ও আকর্ষণীয় রম্য শ্রুতিনাটক। থাকবে আরতির সাথে ঐতিহ্যবাহী ধুনুচি নাচ। অতিথি শিল্পীদের মধ্যে থাকছেন কলকাতা থেকে আগত শাশ্বতী মল্লিক। প্রতিবারের মতো এবারো পার্থ দেবের সম্পাদনায় প্রকাশিত হচ্ছে দুর্গা মন্দিরের নিয়মিত প্রকাশনা বহুবর্ণা ‘শারদ অর্ঘ্য’।
মন্দিরের প্রেসিডেন্ট পংকজ দাশ বলেন, ‘এবারের পূজায় আমরা বৈচিত্রতা আনার চেষ্টা করছি। আমাদের এখানে প্রতি বছরই প্রচুর ভক্ত সমাগম হয়। স্থান সংকুলান হয় না। এবার আমরা মন্দিরের বাইরে ভক্তদের জন্য আলং বেধে খাওয়া ও বসার ব্যবস্থা করব।’
মন্দিরের ভাইস প্রেসিডেন্ট নিপেশ সুত্রধর বলেন, ‘এবার পূজায় আবহাওয়া থাকবে ভালো। তাই আশা ভালো জনসমাগম হবে। দুর্গা মন্দির হচ্ছে এ অঞ্চলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পরিচালিত সবচেয়ে পুরানো ও একমাত্র সর্বজনীন মন্দির।’
শিব মন্দিরের পূজা
ওয়ারেন সিটিতে অবস্থিত শিব মন্দির দুর্গা পূজা উপলক্ষে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত ৯ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পূজা উদযাপন করবে। প্রতিদিন থাকছে পূজা, পুষ্পাঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ, আরতি ও আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। থাকবে কবিতা, গান, নাচ, গীতি আলেখ্য, নাটক, ধামাইল ও অতিথি শিল্পী হিসেবে আসছেন ভারতের শিল্পী মহুয়া ব্যানার্জী।
বিচিত্রার পূজা
বিচিত্রা এবার ৩ দিনব্যাপী দুর্গোৎসব পালন করছে। আগামী ৩ থেকে ৫ অক্টোবর ব্লুমফিল্ড হিলস হাই স্কুলে পূজা অনুষ্টিত হবে। এতে থাকছে, পূজা, অঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গান করবেন কলকাতা থেকে আগত লোপামুদ্রা মিত্র, জয় সরকার, রথিজিত ভট্রাচার্য, আলবার্ট কবো।
কালী মন্দিরের পূজা
ওয়ারেন সিটিতে অবস্থিত মিশিগান কালীবাড়ী ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত ৯ দিনব্যাপী দুর্গাপূজা পালন করবে এতে পূজা, অঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ, আরতি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রয়েছে। অতিথি শিল্পী হিসাবে আসছেন ভারতের শিল্পী স্নেহা ভট্টাচার্য।
রাধাকৃষ্ণ টেম্পলের পূজা
হ্যামট্রাম্যাকে সদ্য প্রতিষ্ঠিত এ মন্দিরের ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত ৯ দিনব্যাপী দুর্গাপূজা পালন করবে। এতে পূজা, অঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ, আরতি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রয়েছে।