ইলন মাস্কের সম্পদ এখন রেকর্ড ৪০০ বিলিয়ন ডলার!

বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ইলন মাস্কের ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ ৪০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। ব্লুমবার্গ বিলিওনিয়ারস ইনডেক্স অনুসারে, টেসলা ও স্পেসএক্স-এর প্রধান মাস্কের সম্পদের পরিমাণ এখন ৪৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৩৪৫ বিলিয়ন ব্রিটিশ পাউন্ড! 

বাংলাদেশী মুদ্রায় সংখ্যাটা ৫২ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি। অর্থাৎ, মাস্কের ব্যক্তিগত সম্পদ দিয়ে বাংলাদেশের বর্তমান বাজেটের অন্তত ৬ বছরের অর্থের সংস্থান করা যাবে! 

ব্লুমবার্গ বিলিওনিয়ারস ইনডেক্সে দ্বিতীয় স্থানে থাকা অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাটা জেফ বেজোস ও সপ্তম স্থানে থাকা মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের সম্মিলিত ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণও মাস্কের সম্পদের চেয়ে কম।

বিশ্বের শীর্ষ ধনীর তালিকায় প্রথম স্থানটিতে ইলন মাস্ক বেশ অনেকদিন ধরেই অবস্থান করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে অর্থের মাপকাঠিতে তিনি শুধু নিজেকেই ছাড়িয়ে গেছেন। বিশেষ করে নভেম্বরের শুরুতে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর থেকে শেয়ার বাজারে মাস্কের প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজারমূল্য বেড়েছে হু হু করে। 

নির্বাচনের পর থেকে এখন পর্যন্ত মাস্কের বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মান প্রতিষ্ঠান টেসলার বাজারদর বৃদ্ধি পেয়েছে ৬৫ শতাংশ

মাস্কের বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার বাজারমূল্য বর্তমানে ১.৩৩ ট্রিলিয়ন ডলার। নির্বাচনের পর থেকে এখন পর্যন্ত টেসলার শেয়ারদর বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৬৫ শতাংশ। জানুয়ারি’তে শপথ নেওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প টেসলার বকেয়া ট্যাক্স মওকুফ করে দিবেন, এই আশায় গতকালও টেসলার শেয়ারদরে ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত ছিল এবং শেয়ার প্রতি দাম ছুঁয়েছে ৪২০ ডলারে। উল্লেখ্য, টেসলা’র ১২ দশমিক ৮ শতাংশ শেয়ারের মালিক এখন মাস্ক। ফলে তাঁর মোট সম্পদের ১৭২ বিলিয়ন আসছে টেসলা থেকেই।  

ইলন মাস্কের সম্পদের হিসেব অবশ্য এখানেই শেষ নয়! তাঁর মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স চলতি সপ্তাহের শুরুতেই ১.২৫ বিলিয়ন ডলার উত্তোলন করেছে, যেখানে প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য ধার্য করা হয়েছে ৩৫০ বিলিয়ন ডলার! অর্থাৎ এই মুহুর্তে বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান হচ্ছে স্পেসএক্স। প্রতিষ্ঠানটিতে মাস্কের ৪২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। 

উল্লেখ্য, মহাকাশে রকেট পাঠানোর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ‘স্টারলিংক’ স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবাও প্রদান করে থাকে।

মাস্কের জেনারেটিভ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (জেন এআই) প্রতিষ্ঠান এক্সএআই এর বাজারমূল্য সম্প্রতি ৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ফলে এক্সএআই থেকেও মাস্কের সম্পদে যুক্ত হয়েছে ১৩ বিলিয়ন ডলার। 

উল্লেখ্য, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে সক্রিয়ভাবে প্রচারে অংশ নিয়েছেন মাস্ক। শুধু তাই নয়, নিজের পকেট থেকে ট্রাম্পের প্রচারণায় খরচ করেছেন ১৩২ মিলিয়ন ডলারের মতো। নির্বাচনে বিজয়ের পর ট্রাম্প পুরষ্কারস্বরুপ মাস্ককে তাঁর আসন্ন প্রশাসনে নতুন গঠিত বিভাগ ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি’-এর সহ-প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করেছেন। 

উল্লেখ্য, দু’বছর আগেও ইলন মাস্কের সম্পদের পরিমাণ ছিল ১৩৭ বিলিয়ন ডলার। এমনকি চলতি বছরটাও তিনি শুরু করেছিলেন ২২৯ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ নিয়ে। অর্থাৎ ২০২৪ সালে এখন পর্যন্ত ইলন মাস্কের সম্পদে যুক্ত হয়েছে ২১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার!

টেসলা, স্পেসএক্স, এক্সএআই-এর পাশাপাশি ইলন মাস্কের বিনিয়োগ রয়েছে জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্রতিষ্ঠান এক্স (পূর্বের টুইটার) এবং নিউরাল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নিউরালিংকে। 

তথ্যসূত্র: ব্লুমবার্গ, ডেইলি মেইল, টাইমস অব ইন্ডিয়া,