ফেসবুকের মেটা হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাই করছে

মেটা আগামী মাসে কয়েক হাজার কর্মী ছাঁটাই করবে, কারণ প্রতিষ্ঠানটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রকল্পে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি অর্থ ব্যয় করছে।

কোম্পানিটি বৃহস্পতিবার এক মেমোতে কর্মীদের জানিয়েছে, তারা মোট কর্মীবাহিনীর ১০ শতাংশ—প্রায় ৮ হাজার জন—ছাঁটাই করার পরিকল্পনা করেছে। পাশাপাশি যেসব পদে নতুন নিয়োগ চলছিল, সেসবের হাজার হাজার শূন্যপদও আর পূরণ করা হবে না।

এই ছাঁটাইয়ের একটি বড় কারণ হলো কোম্পানির অন্যান্য খাতে ব্যয় বৃদ্ধি, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে। এ বছর তারা এই খাতে ১৩৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করবে, যা গত তিন বছরে এ খাতে তাদের মোট ব্যয়ের সমান।

মেটার একজন মুখপাত্র এই ছাঁটাইয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।

মেটার সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ জানুয়ারিতে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, এ বছর আবারও কর্মী ছাঁটাই হতে পারে।

তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা টুল বেশি ব্যবহারকারী কর্মীদের উৎপাদনশীলতা অনেক বেড়েছে। আগে যেসব কাজ করতে বড় একটি দল লাগত, এখন একজন মানুষই তা করতে পারছেন।

জাকারবার্গের মতে, ২০২৬ সাল হবে সেই বছর, যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের কাজের ধরনকে বড়ভাবে বদলে দেবে।

গত সপ্তাহে রয়টার্স জানিয়েছিল, মেটা এ বছর ১০ হাজারের বেশি কর্মী ছাঁটাই করতে পারে। বৃহস্পতিবারের এই মেমোর তথ্য প্রথম প্রকাশ করে ব্লুমবার্গ।

এ বছর এর আগে দুই দফায় প্রায় ২ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে মেটা। তবে আরও বড় ধরনের ছাঁটাই আসছে—এমন আশঙ্কায় কর্মীরা কয়েক সপ্তাহ ধরেই প্রস্তুত ছিলেন।

সাম্প্রতিক সময়ে মেটার ব্যয় ও অভ্যন্তরীণ মনোযোগ অনেকটাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি উন্নয়নের দিকে ঝুঁকেছে।

এমনকি সম্প্রতি কর্মীদের জানানো হয়েছে, তাদের কাজের কম্পিউটার ব্যবহারের তথ্য সংগ্রহ করা হবে, যাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল উন্নত করা যায়। একজন কর্মী এটিকে ‘ডিস্টোপিয়ান’ বা ভয়াবহ ভবিষ্যতের মতো বলে মন্তব্য করেছেন।

২০২২ সাল থেকে মেটা একাধিক দফায় কর্মী ছাঁটাই করেছে, যার ফলে কয়েক দশ হাজার কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। যদিও পরে আবার কিছু নিয়োগ শুরু হয়েছিল এবং কর্মীর সংখ্যা আগের অবস্থার কাছাকাছি পৌঁছেছিল।

আসন্ন এই ছাঁটাই ২০২৩ সালের পর মেটার সবচেয়ে বড় ছাঁটাই হতে যাচ্ছে।

এদিকে, অন্যান্য প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মধ্যেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে—যারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিতে বিপুল বিনিয়োগ করছে, তারাও কর্মী ছাঁটাই করছে।

অ্যামাজন ৩০ হাজারের বেশি কর্মী ছাঁটাই করেছে। ওরাকল ১০ হাজারের বেশি কর্মী ছাঁটাই করেছে। ব্লক প্রায় অর্ধেক কর্মী—৪ হাজারের বেশি—ছাঁটাই করেছে। আর স্ন্যাপ প্রায় ১ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে।

এছাড়া মাইক্রোসফট দীর্ঘদিন কর্মরত কর্মীদের জন্য স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছে।

প্রায় সব কোম্পানিই বলছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতি ও এতে বাড়তি বিনিয়োগের কারণে কম কর্মী দিয়েই কাজ চালানো সম্ভব হচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি