অস্ট্রেলিয়ায় গুগল, ফেসবুক, টিকটকের জন্য দুঃসংবাদ!

সংবাদমাধ্যমের খবর ব্যবহার করে বিনিময়ে অর্থ পরিশোধ না করলে এবার থেকে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বিশেষ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। এ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিল আইন হিসেবে পাস করেছে দেশটির পার্লামেন্ট।

‘নিউজ বার্গেনিং ইনসেনটিভ’ শীর্ষক এই আইন অনুযায়ী, মেটা, গুগল, টিকটক ও লিঙ্কডইনের মতো বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো যদি স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তিতে না পৌঁছায়, তবে অস্ট্রেলিয়ায় তাদের বিজ্ঞাপনী আয়ের ওপর আড়াই শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হবে। এই শুল্ক থেকে অর্জিত অর্থ সরাসরি অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলোকে দেওয়া হবে, যাদের কনটেন্ট ব্যবহার করে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহারকারীদের নিজ নিজ প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখে এবং বিপুল রাজস্ব আয় করে।

তবে সব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ওপর এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। অস্ট্রেলিয়ার বাজারে যাদের গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি রয়েছে এবং দেশটিতে যাদের বিজ্ঞাপনী আয় ২৫ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলারের বেশি, মূলত তারাই এই আইনি কাঠামোর আওতায় আসবে। তবে বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে এই শুল্কের হাত থেকে রেহাই পেতে পারে। সেজন্য নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে অন্তত আটটি ভিন্ন ভিন্ন স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বা সংবাদ প্রকাশকের সঙ্গে তাদের বাণিজ্যিক চুক্তি করতে হবে। সেক্ষেত্রে চুক্তির মূল্য অনুযায়ী তাদের শুল্কের দায় থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ছাড় দেওয়া হবে।

আইনটিতে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোকে টিকিয়ে রাখার জন্য বিশেষ কিছু সুবিধা রাখা হয়েছে। এই যেমন, বড় সংবাদ প্রকাশকদের সঙ্গে কোনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান চুক্তি করলে তাতে ১৫০ শতাংশ এবং ছোট ও মাঝারি গণমাধ্যমের সঙ্গে চুক্তি করলে ২০০ শতাংশ পর্যন্ত রেয়াত পাওয়া যাবে। তবে একক কোনো চুক্তির মাধ্যমে মোট শুল্কের ২৫ শতাংশের বেশি রেয়াত নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়নি।

এ সংক্রান্ত এক বিবৃতিতে অস্ট্রেলিয়া সরকার জানিয়েছে যে, আইনটি পাস হওয়ার মাধ্যমে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর কাছে বাণিজ্যিকভাবে চুক্তি সম্পন্ন করার বার্তা একদম স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। নিজেদের আর্থিক দায় এড়াতে, অর্থবছরের হিসাব শেষ হওয়ার আগেই প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোকে চুক্তি চূড়ান্ত করতে হবে। 

সরকার এটিকে অস্ট্রেলীয় সাংবাদিকতা ও স্থানীয় গণমাধ্যম খাতের জন্য একটি ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন হিসেবে বর্ণনা করেছে। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর একচেটিয়া আধিপত্যের মুখে স্থানীয় গণমাধ্যমের সুরক্ষায় অস্ট্রেলিয়া সরকার এই বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল।