মাঠে মানুষ নয়, ফুটবল খেলছে রোবট! পড়ে যাচ্ছে, উঠে দাঁড়াচ্ছে, গোল দিচ্ছে। আর ঠিক পাশেই মানুষের বিপরীতে টেবিল টেনিসে লড়ছে আরেক হিউম্যানয়েড! এটা কোনো সিনেমার দৃশ্য নয়, এটা বাস্তব। বেইজিংয়ে শুরু হতে যাচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় হিউম্যানয়েড রোবট গেমস।
চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে আগামী ২২ থেকে ২৬ আগস্ট চলবে রোবটদের এই বিশ্বকাপ। উদ্বোধনের আগেই তাই চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ফুটবল পিচে রোবটদের দৌড়, কিক আর গোলের মহড়া।
এবারের আসর সংখ্যার দিক থেকেও রেকর্ড গড়েছে। আয়োজক কমিটির অফিসের ডেপুটি ডিরেক্টর ঝাও দংওয়েই জানিয়েছেন, ‘গত বছর যেখানে অংশ নিয়েছিল ২৮০টি দল, এবার সেখানে অংশ নিচ্ছে ৬৬৬টি দল। রোবটের সংখ্যাও বেড়েছে ৪ গুণের বেশি। গত বছর ৫০০ রোবট থেকে এবার ২ হাজার ৫৬ তে। এত বিশাল আয়োজন সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে আয়োজকদের।’
এবারের গেমস শুধু চীনের নয়, হয়ে উঠেছে সত্যিকারের বিশ্বকাপ। কারণ ৬ মহাদেশের ১৬টি দেশ ও অঞ্চল থেকে প্রায় ৩০টি আন্তর্জাতিক দল অংশ নিচ্ছে। তালিকায় আছে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, জাপানের মতো রোবোটিক্সের পরাশক্তিরাও।
প্রশ্ন হলো, রোবটরা এখানে কী করছে? আয়োজকরা এবার প্রতিযোগিতাকে দুটি ভাগে ভাগ করেছেন। প্রথম ভাগে আছে ৩০টি কম্পিটিটিভ ইভেন্ট। যেখানে ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডের চিরচেনা লড়াই, ১০০ মিটার স্প্রিন্ট, হাই জাম্প, লং জাম্পের মতো ইভেন্টে নিজেদের গতি আর ভারসাম্য পরীক্ষা করবে রোবটরা।
দ্বিতীয় ভাগটি আরও চমকপ্রদ, ২১টি সিনারিও-বেসড ইভেন্ট। কারখানা, লজিস্টিকস, সুপারমার্কেট, হোটেল, জরুরি উদ্ধার অভিযান এমনকি বাসার দৈনন্দিন কাজে কতটা দক্ষ রোবট, সেটাই যাচাই করা হবে।
সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে টেবিল টেনিস। একদিকে মানুষ, অন্যদিকে হিউম্যানয়েড রোবট। অবিশ্বাস্য ক্ষিপ্রতায় বল ফিরিয়ে দিচ্ছে রোবট।
কেন টেবিল টেনিস এত গুরুত্বপূর্ণ? হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ কম্পিউটিং অ্যান্ড ডেটা সায়েন্সের অ্যাসোসিয়েট ডিন এবং এইচকেইউ এমএম ল্যাবের প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর লুও পিং বলছেন, ‘হিউম্যানয়েড রোবটের অ্যাডভান্সড প্রযুক্তির জন্য টেবিল টেনিস হলো সেরা পরীক্ষা। কারণ এই খেলায় মানুষের মস্তিষ্ক, হাত এবং পায়ের মধ্যে যে সমন্বয় করতে হয়। সেই সাথে লাগে বিদ্যুতের গতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা। এটা রোবটের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’
আর সেই চ্যালেঞ্জই এখন জিতে নিচ্ছে রোবট। মাঠে তারা একে অপরের সাথে ধাক্কা খাচ্ছে, পড়ে যাচ্ছে, রেফারির বাঁশি বাজছে। সবকিছুই যেন মানুষের খেলার নিখুঁত প্রতিচ্ছবি।
বেইজিংয়ের এই স্টেডিয়াম আজ শুধু একটি খেলার মাঠ নয়। এটি ভবিষ্যতের ল্যাবরেটরি। যে রোবট আজ ফুটবল খেলছে, কাল সেই রোবটই হয়তো কারখানায় কাজ করবে। হোটেলে অতিথি আপ্যায়ন করবে। কিংবা দুর্যোগে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধার করবে।
৬৬৬টি দল, ২ হাজার ৫৬টি রোবট। এই সংখ্যা বলছে, ভবিষ্যৎ আর দূরে নয়। সেটিই এবার ধরা দিয়েছে মাঠে। আর আমরা দাঁড়িয়ে দেখছি, আমাদের তৈরি যন্ত্র কিভাবে মানুষের বিকল্প হয়ে উঠছে।



