আজ রাতের আকাশে এক অভূতপূর্ব ও বিরল দৃশ্যের সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ব। একই দিনে মহাবিশ্বে ঘটতে চলেছে চারটি বড় মহাজাগতিক ঘটনা। পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ, ছয়টি গ্রহের এক সারিতে অবস্থান (প্ল্যানেট প্যারেড), বছরের অন্যতম সেরা পার্সেইড উল্কাবৃষ্টি এবং অমাবস্যার অন্ধকার রাত—সব মিলিয়ে আজ মহাকাশপ্রেমীদের জন্য এক মহোৎসবের দিন।
আজ আকাশে দেখা মিলবে বছরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ, যেটা গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড এবং স্পেনের আকাশ থেকে সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যাবে। বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৩৪ মিনিটে এই গ্রহণ শুরু হলেও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ ও আশেপাশের অঞ্চল থেকে এটি সরাসরি দেখা যাবে না।
আজ মহাকাশে আরও একটি দুর্দান্ত ঘটনা দেখা যাবে। সৌরজগতের ছয়টি গ্রহ: বুধ, শুক্র, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি এবং ইউরেনাস আজ আকাশে এক সারিতে বা কাছাকাছি অবস্থান করছে। ভোররাতের আকাশে টেলিস্কোপ এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে খালি চোখেও এই বিরল দৃশ্য অবলোকন করা যাবে।
এখানেই শেষ নয়। আজ রাতের আকাশে দেখা যাবে আলোর বর্ণচ্ছটা। বছরের সবচেয়ে জনপ্রিয় 'পার্সেইড উল্কাবৃষ্টি' আজ রাতে তার সর্বোচ্চ সক্রিয়তায় পৌঁছাবে। মেঘমুক্ত অন্ধকার আকাশ থাকলে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ১২০টি পর্যন্ত উল্কাপাত বা তারাখসার দৃশ্য দেখা যেতে পারে।
কাকতালীয়ভাবে আজ রাতের আকাশ থাকবে সম্পূর্ণ চাঁদের আলোহীন, অর্থাৎ অমাবস্যা বিরাজ করবে। আকাশে চাঁদের তীব্র আলো না থাকায় পার্সেইড উল্কাবৃষ্টির আলোকছটা এবং অন্যান্য নক্ষত্র দেখার জন্য এটি একটি আদর্শ পরিবেশ তৈরি করেছে।
তবে এই বিরল ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া কিছু গুজব, যেমন—পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি সাময়িক উধাও হওয়া বা কোটি কোটি মানুষের মৃত্যুর দাবিগুলোকে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিকভাবে ভিত্তিহীন, ভুয়া ও মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, সূর্যগ্রহণ বা গ্রহের অবস্থানের সাথে পৃথিবীর মহাকর্ষ বলের কোনো সম্পর্ক নেই। পৃথিবীর ভর যতক্ষণ অক্ষুণ্ন আছে, মাধ্যাকর্ষণ শক্তি এক মুহূর্তের জন্যও উধাও হওয়া অসম্ভব। এছাড়া এসব মহাজাগতিক ঘটনা মানবদেহে কোনো ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে না, তাই প্রাণহানির আশঙ্কার দাবিটি সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক ও বিভ্রান্তিকর।
নিরাপদভাবে উল্কাবৃষ্টি উপভোগ করার জন্য আজ মধ্যরাতের পর শহরের কৃত্রিম আলো থেকে দূরে কোনো খোলা জায়গায় বা বাড়ির ছাদে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।