ব্রাজিল কোচের এক সিদ্ধান্তেই উল্টে যায় ম্যাচ!

মনে হচ্ছিল ব্রাজিল যেন একটা দেয়ালের সামনে দাঁড়িয়ে বল মারছে! যেদিকেই শট যায়, সেদিকেই জাপানি ডিফেন্ডার! অনেকে তো মজা করে বলছিলেন, জাপান বুঝি ১১ জন গোলকিপার নিয়েই নেমেছে! প্রথমার্ধ শেষে স্কোরবোর্ড বলছিল—জাপান ১, ব্রাজিল ০। সোশ্যাল মিডিয়ায় ততক্ষণে শুরু হয়ে গেছে নানা হিসাব-নিকাশ। ‘পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বুঝি এবার ঘরে ফেরার পালা!’ কিন্তু সবাই একটা জিনিস ভুলে গিয়েছিলেন, ব্রাজিলের ডাগআউটে বসে ছিলেন এমন একজন কোচ, যাঁর নাম শুনলেই বড় বড় ম্যাচের গল্প লেখা হয়—কার্লো আনচেলত্তি। আর মাত্র ১৫ মিনিটের বিরতিতেই তিনি এমন একটা চাল দিলেন, যা পুরো ম্যাচটাই উল্টে দিল।

প্রথমার্ধে জাপান খেলেছে একদম বইয়ের মতো। রক্ষণ এতটাই আঁটসাঁট ছিল, যেন ব্রাজিলের ফরোয়ার্ডদের জন্য ‘প্রবেশ নিষেধ’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে! মিডফিল্ডে চাপ... পাসের রাস্তা বন্ধ... আর সুযোগ পেলেই পাল্টা আক্রমণ। সেই সুযোগ থেকেই গোল করে এগিয়ে যায় জাপান।

ব্রাজিলের তারকারা তখন একের পর এক আক্রমণ করছিলেন... কিন্তু বক্সের ভেতরে ঢুকলেই সব শেষ! ড্রেসিংরুমে ঢুকে আনচেলত্তি কোনো নাটক করেননি। তিনি শুধু বলেছিলেন— ‘ধৈর্য ধরো... গোল আসবেই।’ তারপর বদলে দিলেন পুরো কৌশল। লুকাস পাকেতাকে তুলে নামালেন তরুণ এন্দ্রিককে। ৪-৩-৩ থেকে ব্রাজিল চলে গেল অনেক বেশি আক্রমণাত্মক ৪-২-৪ ছকে। একজন নয়... দুজন সেন্টার ফরোয়ার্ড! ফল? জাপানের ডিফেন্ডাররা আর আগের মতো সামনে উঠে চাপ দিতে পারল না। তাদের পুরো লাইন পিছিয়ে যেতে বাধ্য হলো। আর সেখানেই খুলে গেল ব্রাজিলের আক্রমণের দরজা।

কার্লো আনচেলত্তি। ফাইল ছবিশুধু এটুকুই নয়। আনচেলত্তি আরেকটা ছোট্ট পরিবর্তনও করেন। আগে যেখানে ব্রাজিল ছোট ছোট পাস খেলছিল... এবার শুরু হলো উইং থেকে একের পর এক ক্রস। আর সেই পরিকল্পনাই এনে দিল সমতা। ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল সামনে উঠে দুর্দান্ত একটি ক্রস তুললেন। আর হেডে গোল করলেন অভিজ্ঞ ক্যাসেমিরো। এক-এক। ম্যাচের গতি পুরো বদলে গেল।

এরপর এল আরেক মাস্টারস্ট্রোক। ম্যাথেউস কুনিয়ার জায়গায় মাঠে নামলেন মার্তিনেল্লি। তখন চলছে ইঞ্জুরি টাইম, ৬ মিনিট। জাপান অতিরিক্ত সময়ের স্বপ্ন দেখছিল। ঠিক তখনই... ব্রুনো গিমারায়েসের পাস... আর মার্তিনেল্লির নিখুঁত ফিনিশ! গোওওল! ৯৫ মিনিটে ব্রাজিল ২-১। আর এদিকে জাপানের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার।

মজার ব্যাপার হলো... পুরো স্টেডিয়াম অপেক্ষা করছিল নেইমারকে দেখার জন্য। তিনি ওয়ার্মআপও করেছিলেন। কিন্তু আনচেলত্তি তাঁকে নামাননি। ম্যাচ শেষে কারণও জানিয়েছেন। যদি ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে যেত, তখন তাঁকে নামানোর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সমতা ফেরার পর তিনি দলের ছন্দ নষ্ট করতে চাননি। ঝুঁকি নেননি। আর সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত সঠিক প্রমাণিত হলো।

একসময় যে ম্যাচে মনে হচ্ছিল জাপানের ১১ গোলকিপারের বিপক্ষে খেলছে ব্রাজিল.. শেষ বাঁশি বাজতেই দেখা গেল— ফুটবলে শুধু ভালো ডিফেন্স নয়... একজন মাস্টারমাইন্ড কোচও পুরো ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারেন। আর ব্রাজিল বনাম জাপান ম্যাচের সেই মাস্টারমাইন্ডের নাম... কার্লো আনচেলত্তি।