ফাইনালের খুব কাছে গিয়েও এশিয়া কাপের সুপার ফোরে বাদ পড়ে গেছে পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতই গতকাল শিরোপা জেতায় তাদের হতাশা হয়তো আরও বেড়েছে। তবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হেরে গত শুক্রবার টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের পর পাকিস্তানের ক্রিকেটপ্রেমীদের হতাশা বেশি বাড়িয়েছে দলের ভেতরে বিভেদের গুঞ্জন।
শ্রীলঙ্কার কাছে হারের পর সংবাদমাধ্যমে চাউর হয়, ম্যাচের পর ড্রেসিংরুমে আত্মবিশ্লেষণের সময়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয়ে যায় অধিনায়ক বাবর আজম ও বাঁহাতি পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদির। এমনই যে, ঝগড়া থামাতে নাকি উইকেটকিপার মোহাম্মদ রিজওয়ানসহ দলের কোচদেরও এগিয়ে আসতে হয়।
তবে পাকিস্তানের ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকেট পাকিস্তান দলের ‘সিনিয়র এক ক্রিকেটার’কে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সূত্র হিসেবে জানিয়ে লিখেছে, ওই ঝগড়া অত গুরুতর কিছু নয়।
কোনো টুর্নামেন্টে দলের পথচলা শেষ হলে ড্রেসিংরুমে খেলোয়াড়েরা নিজেদের মধ্যে ভুল-শুদ্ধ নিয়ে আলোচনা করবেন, এটাই স্বাভাবিক। পাকিস্তান দলের ক্ষেত্রে এসব মিটিং আলোচনায় আসে বেশি, কারণ, পাকিস্তানের ক্রিকেট বোর্ডের ওয়েবসাইটে ঘটা করে এসব আলোচনার অংশবিশেষের ভিডিও মাঝে মধ্যে দিয়ে দেয়া হয়। হয়তো দেখা গেল, বাবর কথা বলছেন, কিংবা দলের কোনো কোচ প্রেরণাদায়ী বক্তব্য দিচ্ছেন... মানে, ‘ফিল গুড’ পোস্ট আর কী!
সেসব ভিডিওতে তো ঝগড়াঝাটির কিছু থাকার প্রশ্নই আসে না। তবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচের পর পাকিস্তান ও ভারতের বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানায় ড্রেসিংরুমে বাবর-শাহিনের কথা কাটাকাটির খবর। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বাবর আলোচনার সময়ে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে ঘাটতির ছাঁচাছোলা সমালোচনা করে বলেছেন, খেলোয়াড়েরা দায়িত্ব নিয়ে খেলছে না।
এর জবাবে শাহিন বলে ওঠেন, ‘অন্তত যারা ভালো ব্যাটিং-বোলিং করেছে তাদের প্রশংসাটা তো করো!’ কিন্তু এভাবে তাঁর কথার মাঝে কথা বলে ওঠা ভালো লাগেনি বাবরের, তিনি পাল্টা জবাবে বলেছেন, ‘আমি জানি কারা ভালো খেলেছে, কারা খারাপ খেলেছে।’ এ থেকেই কথা কাটাকাটির সূত্রপাত, যা থামাতে এগিয়ে যান রিজওয়ান।
বিশ্বকাপ আর মাত্র ১৬ দিন পর শুরু হতে যাচ্ছে, এ সময়ে দলের সবচেয়ে বড় দুই তারকার মধ্যে এমন বিভেদের গুঞ্জন পাকিস্তানের ক্রিকেটপ্রেমীদের উদ্বিগ্ন করারই কথা। তবে ক্রিকেটপাকিস্তান দলের এক সিনিয়র খেলোয়াড়কে সূত্র হিসেবে জানিয়ে লিখেছে, এমন বড় করে বলার মতো কিছুই হয়নি।
‘পুরো দলের একমাত্র মনোযোগ এখন ক্রিকেটে। সমালোচনা এই মুহুর্তে গায়ে মাখছি না আমরা। একটা ম্যাচ হেরে গেলেই সমালোচকেরা দুকথা শোনানোর সুযোগ পেয়ে যান। তবে এসব (বাবর-শাহীনের ঝগড়া) নেতিবাচক গুঞ্জন।’
কী হয়েছিল সেদিন ড্রেসিংরুমে, সেটারও একটা ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেছেন ওই ক্রিকেটার, ‘টিম মিটিংয়ে সবাই নিজেদের ভাবনার কথা জানায়। তবে কথা কাটাকাটি হওয়া কিংবা সেটি থামাতে কোচদের এগিয়ে আসতে হওয়ার গুঞ্জনের কোনো ভিত্তি নেই।’
দলের ভেতরের বন্ধুত্বও যে অটুট আছে, তা-ও বোঝানোর চেষ্টা করলেন ওই ক্রিকেটার, ‘মিটিং থেকে সবাই একসঙ্গেই বেরিয়েছি। ক্রিকেটারদের অনেকেই একসঙ্গে বেরিয়েছে। পাকিস্তানেও একই ফ্লাইটে গেছে কয়েকজন।’