এ যেন ২০১৯ উইম্বলডন ফাইনাল। দুই দিক থেকে রজার ফেদেরার ও নোভাক জোকোভিচ দুর্দান্ত সব রিটার্ন করছেন আর সে র্যালি দেখে কোর্টের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে চোখ নেচে বেড়াচ্ছে।
বিশ্বকাপের দল ঘোষণার পর থেকেই এভাবে সমর্থকদের নাচিয়ে বেড়াচ্ছেন তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান। প্রথমে বিশ্বকাপ দল থেকে সরে যাওয়ার কারণ হিসেবে সরাসরি বোর্ড ও ইঙ্গিতে সাকিব ও হাথুরুসিংহেকে দায় দিয়েছেন তামিম। এরপর গতকাল রাতেই টি-স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাকিব দিয়েছেন এর পাল্টা।
সে র্যালিতে যোগ দিয়েছেন নাফিস ইকবাল। তাতে সায় দিয়েছেন তামিমের স্ত্রী। এদিকে মাশরাফি বিন মুর্তজার ভাই বলিউডের ‘ওম শান্তি ওম’ চলচ্চিত্র থেকে ধার করে ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করে জানিয়েছেন, এখনো শেষ হয়নি সব।
গতকাল তামিম ইকবাল স্বীকার করেছেন, তাঁকে আফগানিস্তানের বিপক্ষে না খেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বা খেললেও নিচের দিকে ব্যাট করতে বলা হয়েছে। এতে অপমানিত হয়েই বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সাকিব বলেছেন, তামিমকে নিচে ব্যাট করার প্রস্তাব দেওয়া হয়ে থাকলে সেটা তাঁর অজান্তে হয়েছে। তবে এমন প্রস্তাবে এমন প্রতিক্রিয়া দেখানো তাঁর কাছে হাস্যকর মনে হচ্ছে, ‘ম্যাচকে কেন্দ্র করে অনেক কিছু হয়। সে হিসাবে চিন্তা করে আগে থেকে পরিষ্কার করে রাখতে চায়, (তাহলে) আলোচনা দোষের কিছু না। নাকি প্রস্তাবই দেওয়া যাবে না? একজনকে বলা হবে, “যে যা ইচ্ছা তা–ই করো।” দল আগে না ব্যক্তি আগে?’
এক্ষেত্রে রোহিত শর্মাকে উদাহরণ টেনেছেন সাকিব। বলেছেন, দলের প্রয়োজনে কিছু করতে রাজি না হওয়াটা বাচ্চাদের মতো আচরণ, ‘রোহিতের (শর্মা) মতো ক্রিকেটার নাম্বার সেভেন থেকে (ওপেনিংয়ে) এসে ১০ হাজার করে ফেলেছে। মাঝে মাঝে সে–ও যদি তিন–চারে খেলে, ব্যাটিংয়ে না নামে, খুব একটা কি সমস্যা হয়? এটা আসলে আমার কাছে মনে হয়, একদম বাচ্চা মানুষের মতো, “আমার ব্যাট আমি খেলব। আর কেউ খেলতে পারবে না।”’
সাক্ষাৎকারে ভেতরের আরও খবর দিয়েছেন সাকিব। বলেছেন, অধিনায়কত্ব ছাড়ার কথা আগে থেকে ড্রেসিংরুমে আলোচনা করতেন তামিম। এমনকি গত মার্চে শুধু মাহমুদউল্লাহ নন, মুশফিকও দল থেকে বাদ পড়ার শঙ্কায় ছিলেন।
এশিয়া কাপে মাহমুদউল্লাহ দলে না থাকায় সাকিবের ভূমিকা ছিল কিনা, এমন প্রসঙ্গে নিজের বিস্ময়ের কথা জানিয়ে বলেছেন, ‘রিয়াদ ভাই বাদ পড়েছেন কখন? ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে? আমার খুব ভালো মনে আছে। ওই সিরিজের ওই শেষ ম্যাচের কথা আমার খুব ভালো মনে আছে। রিয়াদ ভাই ও মুশফিক ভাই-দুজনই বাদ পড়তেন ওই সিরিজের পরে। শেষ ইনিংস ছিল দুজনেরই, আমি অন্তত ড্রেসিংরুমে জানতাম। খারাপ করবে এবং বাদ পড়বে। মুশফিক ভাইয়ের ওই পর্যন্ত কয়েকটা দিন ভালো যাচ্ছিল না। ভাগ্য ভালো, মুশফিক ভাই ৭০ রান করেছেন। এবং পরের সিরিজ থেকে উনি ছয়ে ব্যাট করে এবং আলহামদুলিল্লাহ উনি ভালো করেছেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, রিয়াদ ভাই ভালো করেননি সেদিন। তারপর রিয়াদ ভাই বাদ পড়েন।’
এর বাইরেও আরও অনেক বিষয়ে বোমা ফাটিয়েছেন সাকিব। এবং এখানেই শেষ হচ্ছে না। এরই মধ্যে খবর এসেছে, আজ রাত ১১ টায় তাঁর সাক্ষাৎকারের দ্বিতীয় পর্ব প্রকাশিত হবে বলে জানা গেছে।