নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ম্যাচ শুরু হতে না হতেই খবর এলো ম্যানেজার নাফিস ইকবাল চলে গেছেন স্টেডিয়াম ছেড়ে। বাতাসে তখন জোর গুঞ্জন, বিশ্বকাপ দলে নেই তামিম ইকবাল। সবাই দুয়ে দুয়ে চার মিলিয়ে ধরে নিলেন, ভাই বিশ্বকাপ দলে নেই, এর প্রতিবাদেই চলে গেছেন নাফিস।
এ প্রসঙ্গে গতকাল বুধবার একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া আগেই রেকর্ড করা এক সাক্ষাৎকারে এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে সাকিব আল হাসান বলেছেন, এ ব্যাপারে তিনি জানেন না। যদি সত্যি এমন কিছু হয়ে থাকে তবে এটা খুবই অপেশাদারি আচরণ।
এর জবাব দিয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছেন নাফিস। এবং সে স্ট্যাটাসে জানা গেছে, ভেসে বেড়ানো আরেকটি গুঞ্জন মিথ্যা। তিনি সিরিজের মাঝে ম্যানেজার পদ থেকে সরে গেলেও বিসিবির চাকরি ছাড়েননি।
রাত ২টার পর দেওয়া ফেসবুক পোস্টে নাফিস বলেছেন, ‘নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে জাতীয় দল ছেড়ে চলে যাওয়ার ব্যাপারে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে চাই। ২৬ তারিখ ম্যাচের দিন সকালে আমাকে জানানো হয়েছে আমাকে বিশ্বকাপ দলের সঙ্গে রাখা হচ্ছে না, এতে আবেগি হয়ে এ কাজ করেছি। গতবছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগেও এমন হয়েছিল। আমিও মানুষ এবং সবার মতো আমারও আবেগ আছে।’
এরপরই চলমান গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়েছেন নাফিস, বলেছেন তামিমের বিশ্বকাপ দলে থাকা না থাকার সঙ্গে তাঁর দল ছেড়ে যাওয়ার সম্পর্ক নেই, ‘আমি বিসিবি থেকে পদত্যাগ করিনি এবং আমার ছোট ভাই তামিম ইকবালের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। আমি মাঠ ছাড়ার ৬/৭ ঘন্টা পর দল ঘোষণা করা হয়েছে।’
সেদিন মাঠ ছেড়ে চলে গেলেও নিজের সব কাজ সম্পন্ন করেই মাঠ ছেড়েছেন বলে দাবি নাফিসের, ‘আমি সব নিয়ম মেনে এবং বোর্ডের আচরণবিধি অনুসরণ করে বের হয়েছি। মাঠে আসার আগে প্রধান কোচকে আমার মত জানিয়েছি এবং বিসিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। আমি নিশ্চিত করেছি কোনো কজ বাকি নেই। দলের টিম শিটে স্বাক্ষর করেছি, নিউজিল্যান্ড সিরিজের জন্য হিসাব বিভাগের কাগজপত্র ঠিক করেছি, বিশ্বকাপের জন্য যে দৈনিক ভাতা পেয়েছিলাম তা ফিরিয়ে দিয়েছি।’
এরপরই সাকিবকে জবাব দিয়েছেন নাফিস, ‘আমি বিশ্বাস করি, এমন পরিস্থিতিতে কিছুটা সম্মান প্রাপ্য আমার এবং না জেনে কারও এভাবে মত প্রকাশ করা ঠিক না। আমার ক্রিকেটিং ক্যারিয়ারে আমি সৎ ছিলাম এবং জাতীয় দলে ম্যানেজমেন্ট পদেও তাই ছিলাম। আমি আশা করি নিজের সেরাটাই দিয়ে যাব।’



