শাহিন শাহ আফ্রিদি তখনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তো দূরে থাক, বয়সভিত্তিক দলেও ঢোকেননি। ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ গতি ও বাউন্সে প্রতিপক্ষকে ভড়কে দেওয়া এই বাঁহাতি পেসারের নাম দেখে অনেকেই প্রশ্ন করেছিলেন, শহীদ আফ্রিদির কেউ হন কি এই কিশোর?
এমন নয় যে শহীদ আফ্রিদি ছাড়া অন্য কোনো আফ্রিদি পাকিস্তান দলে খেলেননি। ২০০৪ সালে পাকিস্তানকে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জেতানো পেসার রিয়াজ আফ্রিদির ক্ষেত্রেও এই আলোচনা হয়েছিল। তবে রিয়াজ যা পারেননি, তাঁর সর্বকনিষ্ঠ ভাই শাহিন তা পেরেছেন, শহীদ আফ্রিদির সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক গড়েছেন।
গত ২০২১ সালে প্রথম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই আফ্রিদির সম্পর্কের খবরটি জানানো হয়েছিল। তখনই বলা হয়েছিল আনসা আফ্রিদির পড়াশোনা শেষ হলে তারপর বিয়ে হবে।
আফ্রিদির দ্বিতীয় কন্যা আনসা আফ্রিদির সঙ্গে গত ৩ ফেব্রুয়ারি বিয়ে হয়েছে শাহিনের। গত সেপ্টেম্বরে ঘটা করে বিবাহোত্তর অনুষ্ঠান হয়েছে তাঁদের। নিজের প্রথম মেয়ের জন্য ক্রিকেটের বাইরে পাত্র খুঁজে নিলেও দ্বিতীয় কন্যার ক্ষেত্রে কেন একজন ক্রিকেটারকে বেছে নিয়েছেন আফ্রিদি, সেটা জিজ্ঞেস করা হয়েছিল তাঁর কাছে।
এ ব্যাপারে সামা টিভিকে পারিবারিক শিক্ষার কথা বলেছেন আফ্রিদি। বলেছেন মানুষ হিসেবে দুর্দান্ত বলেই শাহিনকে বেছে নিয়েছেন তিনি। কারণ, এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক একজন মানুষের।
এ ব্যাপারে আফ্রিদি বলেন, ‘শাহিন দারুণ একটা মানুষ। ওকে ব্যক্তিগতভাবে চিনতাম না আমি। আমাদের দুজনের পরিবারের মুরুব্বিদের মধ্যে ভালো জানাশোনা ছিল, কিন্তু পরে সেটা কমে গিয়েছিল।’
শাহিনের পরিবারের পক্ষ থেকেই আত্মীয়তার প্রস্তাব পাঠানো হয়। এবং আফ্রিদি সেটা গ্রহণ করেন। কেন? কারণ, ‘শাহিনের সঙ্গে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেছে এমন যে কেউই ওর চিন্তাধারার প্রশংসা করেছে। মানুষ হিসেবে ওর প্রশংসা করেছে, বলেছে ও খুবই পরিণত। আমার কাছে এসবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ একজন মানুষ আসলেই মানুষ কিনা, সেটাই জরুরি।’