ফাইনালের আগের দিনই প্যাট কামিন্স বলেছেন কত কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে জানেন তিনি। এমনিতেই বড় টুর্নামেন্টে স্বাগতিক দলের মুখোমুখি হওয়া কঠিন। আর আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের আসন সংখ্যা এক লাখ ৩২ হাজার।
কামিন্স বলেছিলেন, তাঁরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন লাখো দর্শকের চিৎকার থামিয়ে দিতে। এমন কিছু করেই নাকি মজা বেশি। প্রথম ইনিংস শেষে এমন কিছুর আশা জাগিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। প্রথমে ব্যাট করে শেষ বলে ২৪০ রানে অলআউট হয়েছে ভারত।
টস জিতে ব্যাটিং নিয়ে ভ্রু কুঁচকে দিয়েছিলেন কামিন্স। ওদিকে রোহিত শর্মা নিজেই বলেছেন তাঁরা ব্যাট করতে চেয়েছিলেন। স্বাগতিক দলের ইচ্ছাপূরণ হতেই রোহিত শর্মা দেখিয়েছেন কেন সে ইচ্ছা তাঁদের। ৩১ বলে ৪৭ রানের ঝড় তুলে দলকে পাওয়ার প্লেতে ৮০ রান এনে দিয়েছেন। শুধু রোহিত নিজে আউট হওয়াতে একটু অস্বস্তি।
একটু পরই বোঝা গেছে, আহমেদাবাদের এই উইকেটকে ভুল বুঝিয়েছেন রোহিত। এ উইকেটে রান তোলা কঠিন। পাওয়ার প্লের পর প্রথম ৬ ওভারে এসেছে ২১ রান। উইকেটে থিতু হয়েও যে বিরাট কোহলি বা লোকেশ রাহুল রানের গতি বাড়াতে পেরেছেন এমন নয়। ১১ থেকে ২০-এই ১০ ওভারে এসেছে মাত্র ৩৫ রান।
কোহলি অবশ্য তুলনামূলক দ্রুত রান নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু রাহুল একদম শামুকের গতিতে এগিয়েছেন। মাঝে ৯৮ বল কোনো বাউন্ডারি পায়নি ভারত। ম্যাক্সওয়েলের বলে চার মেরে রাহুল সে ধারা ভেঙেছেন। কে জানত এরপর আর কোনো বাউন্ডারি মারবেন না তিনি!
৫৬ বলে ফিফটি করা কোহলির ওপর দায়িত্ব ছিল গতি বাড়ানোর, কিন্তু কামিন্সের বল স্টাম্পে টেনে এনে বোল্ড তিনি (৫৪)। এরপর রবীন্দ্র জাদেজা কিছুক্ষণ সঙ্গ দিয়েছেন রাহুলকে, কিন্তু রানের গতি আগের মতোই ছিল। ৪৪ বলে ৩০ রানের জুটি গড়ে জাদেজাও (৯) ফিরে গেছেন। ৮৬ বলে ফিফটি করে একটু পর ফিরেছেন রাহুলও। ১০৭ বলে ৬৬ রান করে ফিরেছেন স্টার্কের দুর্দান্ত এক রিভার্স সুইংয়ে।
৪০ ওভার শেষে ১৯২ রান ছিল ভারতের। রাহুল না পারায়, ঝড় তোলার দায়িত্ব ছিল সূর্যকুমার যাদবের। কিন্তু ৪৮তম ওভারে আউট হওয়ার আগে ২৮ বলে ১৮ করেছেন সূর্যকুমার। ভারতও তাই শেষ ১০ ওভারে মাত্র ৪৮ রান তুলেছে। সেটাও শেষ উইকেট জুটি ১৪ রান এনে দেওয়ার পর।
মিচেল স্টার্ক ৫৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট পেয়েছেন। হ্যাজলউড ও কামিন্সও পেয়েছেন ২ উইকেট করে।