গাজার পাশে দাঁড়াতে চাওয়াই খাজার 'অপরাধ'

‘স্বাধীনতা সকল মানুষের অধিকার’, ‘সব প্রাণই সমান’ – এতটুকুই লেখা ছিল উসমান খাজার জুতোয়। পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন টেস্টের সিরিজের প্রথম ম্যাচে আগামীকাল পার্থে নামছে অস্ট্রেলিয়া, তার আগে অনুশীলনে পাকিস্তানি বংশোদ্ভুত অস্ট্রেলিয়ান ওপেনারের জুতোয় অমন লেখা খোদাই করা কেন ছিল, এ নিয়ে কত আলোচনা!

বুঝতে কষ্ট হয় না, গাজার দখল নিয়ে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের দ্বন্দ্বে শত শত নিরীহ ফিলিস্তিনির পাশে দাঁড়াতেই কথাটা লিখেছিলেন খাজা। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার জানিয়েছেন, তিনি প্রথম টেস্টে ওই বার্তা লেখা জুতো পরেই নামবেন।

ব্যস, তাতেই তোলপাড়! অমন ‘রাজনৈতিক বক্তব্য’ নিয়ে ক্রিকেটের আইন টেনে খাজাকে মনে করিয়ে দেওয়া হলো, আইসিসির আইনে মাঠে এমন বক্তব্য প্রদর্শন নিষিদ্ধ। এমনকি খাজাকে প্রথম টেস্টের দল থেকে বাদ দেওয়ার দাবিও উঠেছে। সব বিতর্কের পর অবশ্য খাজা সিদ্ধান্ত বদলেছেন, গাজার পাশে দাঁড়ানো বার্তা লেখা জুতো পরে তিনি কাল মাঠে নামছেন না।

খাজার ওই জুতোর ছবি ভাইরাল হওয়া এবং এরপরের বিতর্কের জেরে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) বিবৃতি দিয়েছে এ নিয়ে। সেখানে লেখা, ‘খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত মতামত জানানোর অধিকারকে আমরা সমর্থন করি। তবে ব্যক্তিগত মতাদর্শ মাঠে প্রদর্শনের ব্যাপারে আইসিসির কিছু নিয়ম-কানুন আছে। আমরা চাই যাতে উক্ত খেলোয়াড় (খাজা) সেসবকে যথাযথ সম্মান দেখান।’

অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকেও সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন হয়েছে এ নিয়ে। সে সময়ে কামিন্সের কাছ থেকেই জানা গেল, তাঁর সঙ্গে আলাপের পর খাজা ওই বার্তা লেখা জুতো পরে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন।

‘উসির (খাজা) সঙ্গে আজ অল্প কিছুক্ষণ কথা হয়েছে। আমার মনে হয় না ওর এ নিয়ে এত হইচই ফেলে দেওয়ার ইচ্ছা ছিল। তবে আমরা ওকে সমর্থন জানাই। ও বলেছে ও (ওই বার্তা জানানো জুতা) পরে মাঠে নামবে না’ – সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন কামিন্স।

কামিন্সের কাছ থেকেই জানা গেল, আইসিসির নিয়মে যে এই বার্তা নিয়ে নিষেধাজ্ঞা আছে, সেটা জানার পরই মত বদলেছেন খাজা, ‘ওই লেখাটার পর আইসিসির আইনকানুন নিয়ে কথা উঠেছে…জানি না ওসব আইনকানুন ওর (খাজা) আগে থেকে জানা ছিল কি না। ওর জুতায় লেখা ছিল “সব প্রাণই সমান।” আমার কাছে এই লেখাকে খুব বেশি বিভাজক কিছু বলে মনে হয়নি। কেউই এ নিয়ে খুব বেশি অভিযোগ জানানোর কিছু আমি দেখি না।’

 

আইসিসির নিয়মে কী আছে

আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, ‘খেলোয়াড়ের জার্সি বা সরঞ্জামাদিতে এই বিধিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কিছুর প্রদর্শনী নিষিদ্ধ।’ বিধিমালায় কী লেখা? ‘বিশেষত জাতীয় লোগো, বাণিজ্যিক লোগো, ইভেন্ট লোগো, প্রস্তুতকারকের লোগো, খেলোয়াড়ের ব্যাটের লোগো, চ্যারিটি লোগো বা অ-বাণিজ্যিক লোগোর বাইরে কোনো লোগো ক্রিকেটের জার্সি বা সরঞ্জামাদিতে প্রদর্শন করা যাবে না।’

এ নিয়মের ব্যত্যয় হলে কী হবে, সেটাও জানানো আছে আইসিসির নিয়মে, ‘যদি ম্যাচ অফিশিয়াল জানতে পারেন যে কোনো জার্সি বা সরঞ্জামে এই বিধিমালা ঠিকমতো মানা হচ্ছে না, সেক্ষেত্রে তাঁর হাতে ক্ষমতা থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত ওই বিধি লঙ্ঘন করা জার্সি বা সরঞ্জাম বাদ দেওয়া হচ্ছে বা ঢেকে দেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত ওই খেলোয়াড়কে মাঠে নামতে না দেওয়া (বা যথাযথ মনে হলে মাঠে থেকেই নির্দেশনা দেওয়া)।’