বোর্ডের কথামতো না চলায় চুক্তি থেকেই বাদ পেসার

পাকিস্তানের ক্রিকেট মানেই যেন রদবদলের খেলা। কখন কাকে কীভাবে ছাঁটাই করা হয় তা বলা কঠিন। ওয়ানডে বিশ্বকাপ চলাকালীন শুরু হয় পাকিস্তানের ক্রিকেটে পরিবর্তনের মহানাটক। যার সর্বশেষ সংযোজন আজ পেসার হারিস রউফকে কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে সরিয়ে দেওয়া।

বিশ্বকাপে ভরাডুবির পর অস্ট্রেলিয়া সফরে যায় পাকিস্তান। তিন টেস্টের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছেন বাবর-শাহিনরা। অস্ট্রেলিয়া সফরে পাকিস্তান দল যাওয়ার আগে থেকেই আলোচনায় ছিলেন পেসার হারিস রউফ। অস্ট্রেলিয়া সিরিজের জন্য দল ঘোষণার আগে এই পেসার নির্বাচকদের জানিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি টেস্ট ক্রিকেটে খেলতে চান না। পাকিস্তানের হয়ে টেস্ট না খেলে সে সময়ে অস্ট্রেলিয়ারই বিগ ব্যাশে খেলার অনুমতি চেয়েছিলেন রউফ।  

রউফের এমন ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত তখন ভালোভাবে নেয়নি পিসিবি। প্রধান নির্বাচক ওয়াহাব রিয়াজ জানিয়েছিলেন, কেউ টেস্ট ক্রিকেট খেলতে না চাইলে পিসিবি তাঁকে জোর করে খেলাবে না। তবে পাকিস্তানের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে হলে যেকোনো ফরম্যাটের জন্য প্রস্তুত থাকা সবার উচিত বলেও মন্তব্য করেছিলেন রিয়াজ।

তখনই গুঞ্জন উঠেছিল, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড রউফের বিরুদ্ধে কড়া সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। অবশেষে অস্ট্রেলিয়া সফরের এক মাস পর আজ হারিসকে কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে পিসিবি। সেই সঙ্গে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত কোন ধরনের বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলার অনুমতিও পাবে না রউফ।

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের বিবৃতিতে জানানো হয়, অস্ট্রেলিয়া সফরে পাকিস্তানের টেস্ট দলের অংশ হতে রউফ অস্বীকৃতি জানান। তাঁর শাস্তি হিসেবে এই ডানহাতি পেসারের কেন্দ্রীয় চুক্তি বাতিল করা হয়েছে।

আরো বলা হয়, রউফকে আত্মপক্ষ সমর্থনে যুক্তি প্রদর্শনের জন্য ডাকা হয়েছিল। তবে পিসিবির গঠিত তদন্ত কমিটির কাছে রউফের যুক্তিগুলোকে সন্তোষজনক মনে হয়নি। রউফের কেন্দ্রীয় চুক্তি ২০২৩ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে বাতিল করা হয়েছে।

এই ডানহাতি পেসার পিসিবির এই সিদ্ধান্ত নিয়ে এখন পর্যন্ত কোন মন্তব্য করেননি।