বলছেন  হান্নান সরকার 

নান্নু-বাশারদের সময়কালে নেগেটিভ দিক বেশি হাইলাইট হয়েছে

বাংলাদেশ জাতীয় দলের নির্বাচক প্যানেলে দীর্ঘ সময় পর বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কাজ করা নির্বাচক প্যানেল ছিলেন নান্নু-বাশাররা। বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর থেকেই জোর গুঞ্জন উঠেছিল নির্বাচক প্যানেল পরিবর্তনের। তবে সেসময় বিসিবি বড় সিদ্ধান্ত না নিলেও অবশেষে কিছুদিন আগে বড় রকমের রদবদল এনেছে বাংলাদেশে ক্রিকেটের নির্বাচক প্যানেলে। 

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের নতুন প্রধান নির্বাচক করা হয়েছে গাজী আশরাফ লিপুকে। অপরদিকে নির্বাচক প্যানেলে যুক্ত হয়েছেন নতুন মুখ বাংলাদেশের দলের সাবেক ওপেনার হান্নান সরকার। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি বয়সভিত্তিক দলের নির্বাচক ছিলেন। 

জাতীয় দলের নির্বাচক প্যানেলে যুক্ত হওয়ায় দল নির্বাচনে নতুনত্ব নিয়ে আসবেন বলে জানিয়েছেন হান্নান সরকার। ইনডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাতীয় দল নিয়ে তাঁর কাজের পরিকল্পনা জানিয়েছেন। 

দীর্ঘদিন পর নির্বাচক প্যানেলে নতুন কাউকে দেখে মানুষের প্রত্যাশাও বেড়েছে। তরুণ বা নতুন মেধা নির্বাচক প্যানেলে এলে ভালো কিছু পাওয়া যাবে বলে ধারণা অনেকের। তবে হান্নান নিজে কী মনে করেন?

এ প্রশ্নের জবাবে হান্নান পূর্বসূরিদের সঙ্গে মানুষ অন্যায় করেছে, বলে জানিয়েছেন, ‘একেকজনের দৃষ্টিভঙ্গি একেকরকম , একেকজনের ফিলোসফি একেকরকম, দূরদর্শিতা একেকরকম। আমি কারও সাথে কারও তুলনা করতে চাই না, আগে ছিলেন সুমন ভাই, নান্নু ভাই। তাঁরা কিন্তু লম্বা সময় ১১-১২ বছর নির্বাচক হিসেবে ছিলেন। এ সময় কিন্তু আপনারা নেগেটিভ বিষয় বেশি হাইলাইট করেছেন। তবে পজিটিভ দিকগুলোও কিন্তু কম না। বড় বড় অর্জন কিন্তু আমাদের আছে। আপনারা দেখবেন সাউথ আফ্রিকায়, নিউজিল্যাণ্ডে গিয়ে আমরা জিতেছি।‘’

আগের নির্বাচক প্যানেলের সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটের বড় বড় সাফল্যের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন হান্নান, ‘আমরা দুইটি বৈশ্বিক আসরের কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল খেলেছি। আমার মনে হয় অ্যাচিভমেন্ট অনেক রয়েছে(নান্নু-বাশারদের সময়কালে)। আমরা যদি স্পেসিফিক ভাবে পাশাপাশি দুইটা দাঁড় করায় তাহলে আমার বিশ্বাস অ্যাচিভমেন্টের পাল্লাটাই ভারী হবে বলে মনে হয়। তবু দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আসতে পারে, কারণ আমি আমার ফিলসফিতে কাজ করি।’

হান্নান তাঁর দল নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে ভিন্ন কিছুর ইঙ্গিত দিয়েছেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, সিলেকশন সব সময় মিলে যায় তাহলে তার মধ্যে আসলে মজা থাকে না। আমাদের তিন জনের চিন্তা ভাবনা আলাদা হতে পারে। তবে যুক্তিতর্কের মাধ্যমে ও আলোচনার মাধ্যমে সেটি এক জায়গায় আনতে হবে তখন সেটা সবার এক মত হয়ে যাবে।  আমি মনে করি এই দৃষ্টিভঙ্গিটা আমাদের সবারই থাকবে। সময়ের সাথে একটা প্রসেসের মধ্যে থাকলে একটা নতুনত্ব আসবে মনে মনে করি।’ 

নতুন নির্বাচক প্যানেলের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জটা জানেন সাবেক ওপেনার, ‘সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে আমাদের লিজেন্ড খেলোয়াড় প্রায় সবাই খেলা ছেড়ে দেওয়ার পথে। এ সময় আমাদের নতুন করে চিন্তা ভাবনা করতে হবে। যেটা ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটেও হয়, আমরা দেখেছি সাঙ্গাকারা, মাহেলা জয়বর্ধনে থেকে শুরু করে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটে যে একটা ধাক্কা সামলে উঠেছে। তেমন একটা ধাক্কা বাংলাদেশ ক্রিকেটেও আসতে পারে। সেই জায়গায় আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি কি হতে পারে আগামী দুই-তিন বছরে আমরা কীভাবে সেটেল ডাউন করব সে দিকে। এই জায়গায় একটা নতুনত্ব আসতে পারে বলে আমার বিশ্বাস।’