অবৈধ বেটিংয়ের তদন্তে সাকিবের বোনের আগে রণবীর কাপুর, কপিল শর্মাদের নামও এসেছিল

‘মহাদেব অনলাইন বেটিং অ্যাপ’ নিয়ে তদন্তে তোলপাড় পড়ে গেছে। ভারতের চত্তিশগড় থেকে দুবাইয়ে বিস্তীর্ণ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পোকার, তাস, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, টেনিস, এমনকি ভারতের নির্বাচনকে ঘিরেও অবৈধ বাজি চলে এই অ্যাপে। 

অর্থ পাচার, ম্যাচ ফিক্সিংসহ নানা অপরাধে জড়ানোর অভিযোগ আছে। প্রায় ৬ হাজার কোটি রুপির প্রতারণার তদন্তে উঠে এসেছে বাংলাদেশ দলের অলরাউন্ডার ও মাগুরা -১ আসনের সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানের বোনের নামও। এই অ্যাপ নিয়ে চলা তদন্তে এর আগে রণবীর কাপুরসহ বলিউডের আরও অনেক নামকরা সেলিব্রিটির নাম উঠে এসেছিল।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বলছে, ‘ইলেভেন উইকেট ডট কম’ নামে বাংলাদেশে একটি অ্যাপে বিনিয়োগ করেছেন ‘মহাদেব অ্যাপ’-এর মূল প্রচারকদের একজন হরিশঙ্কর তিব্রেওয়ালের ঘনিষ্ঠ সঙ্গী সুরাজ চোখানি। সেই অ্যাপের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে জানাতুল হাসান নামে একটি নাম। ইন্ডিয়া টুডে বলছে, উনিই সাকিব আল হাসানের বোন। তবে সাবেক অধিনায়কের বোনের নাম জান্নাতুল ফেরদৌস।

ভারতের তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট গত শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তদন্তের সূত্র ধরে গিরিশ তালরেজা ও সুরাজ চোখানি নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই দুজন হরিশঙ্কর তিব্রেওয়ালের কাছের লোক বলে জানিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। চোখানির বিনিয়োগ করা ‘ইলেভেন উইকেট ডট কম’ অ্যাপে ক্রিকেট ও ফুটবল ম্যাচের ফ্যান্টাসি গেম খেলার ব্যবস্থা আছে। সে অ্যাপের সঙ্গেই নাকি জড়িয়ে আছে সাকিবের বোনের নাম।

মহাদেব অ্যাপ হচ্ছে অনলাইনে একটি অবৈধ বেটিং প্ল্যাটফর্ম, যাকে ঘিরে বড় অঙ্কের আর্থিক কেলেঙ্কারি হচ্ছে। এখানে পোকার, তাস, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, ফুটবল, টেনিসসহ অনেক খেলায় বাজি ধরা হয়। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের তদন্তে উঠে এসেছে, এই প্ল্যাটফর্মটি ‘প্যানেল ও ব্রাঞ্চ’ পদ্ধতিতে চলে, যেখানে চেনাজানা লোকদের ৭০/৩০ শতাংশ লাভ ভাগাভাগির শর্তে নিয়োগ দেওয়া হয়। যদিও গেম রিগিংয়ের মাধ্যমে প্যানেল মালিকদের জয় নিশ্চিত করার অভিযোগ আছে। 

এই প্ল্যাটফর্ম থেকেই নতুন ‘ইউজার’ নিবন্ধন করিয়ে তাঁদের ভিন্ন ভিন্ন আইডি দেওয়া হয়, এরপর বেনামি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অর্থ পাচার করা হয়। প্ল্যাটফর্মটি প্রতিদিনই প্রায় ২০০ কোটি রুপি আয় করে বলে জানিয়েছে ইন্ডিয়া টুডে।

দুবাইয়ে বসে অ্যাপটা পরিচালন করতেন সৌরভ চন্দ্রকর (২৮) নামের একজন, তাঁর সঙ্গে কাজ করতেন রবি উপ্পল (৪৩)। দুজনই ভারতের ছত্তিশগড়ের বাসিন্দা, বছর দুয়েক ধরে দুবাইয়ে আছেন। রবি উপ্পলকে দুবাইয়ে আটক করা হয়েছে, ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাঁকে শিগগিরই ভারতে আনার চেষ্টা করছে ভারতীয় পুলিশ।

এদিকে মহাদেব অ্যাপ তদন্তে এর আগে রণবীর কাপুর, কপিল শর্মা, শ্রদ্ধা কাপুর, হুমা কোরেশি ও হিনা খানদের মতো তারকাদের ডেকে পাঠিয়েছিল তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। এই অ্যাপের প্রচারণা করে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ ছিল রণবীর কাপুরের বিরুদ্ধে। অন্যদের শুধু আনুষ্ঠানিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছিল। 

এদিকে গত ডিসেম্বরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে চন্দ্রকরের প্রতিষ্ঠানের সাফল্যে দেওয়া পার্টি ও ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে চন্দ্রকরের বিয়েতে অংশ নেওয়া ও পারফর্ম করার জন্য বলিউডের ১৬ জন তারকার ব্যাপারে তদন্ত চালাচ্ছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।