আইপিএল শেষ হবে আগামী ২৪ মে। লিগ পর্বের খেলা শেষ হবে ১৯ মে। চেন্নাই সুপার কিংস যদি প্লে-অফ নিশ্চিত করতে না পারে তবে ঘরের মাঠে ফাইনাল বা কোয়ালিফায়ার নয়, ১৮ মে বেঙ্গালুরুর মাঠেই এই মৌসুমে শেষবারের জন্য দেখা যাবে ফ্র্যাঞ্চাইজিকে।
অবশ্য চেন্নাই প্লে- অফ খেলুক বা না খেলুক, তাতে মোস্তাফিজুর রহমানের কিছু যায় আসবে না। জিম্বাবুয়ের সিরিজ উপলক্ষ্যে মে মাসের শুরুতেই বাঁহাতি পেসার ফিরে আসছেন দেশে।
জিম্বাবুয়ে সিরিজ বাংলাদেশের জন্য আগামী জুনের বিশ্বকাপের প্রস্তুতি। নামিবিয়া ও উগান্ডার সঙ্গে পেরে না ওঠা জিম্বাবুয়ে এবার বিশ্বকাপে যেতে পারেনি। এমন এক দলের সঙ্গে খেলে বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশ কতটা প্রস্তুত হতে পারবে তা নিয়ে কৌতূহল আছে। শুধু বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ব্যর্থ হয়নি জিম্বাবুয়ে, এরপর ঘরের মাঠেও আয়ারল্যান্ডের কাছে সিরিজ হেরেছে তারা।
জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং লাইনআপ গত কিছুদিনে একজনের দলে পরিণত হয়েছে। সিকান্দার রাজা রান পেলে দলটি ভালো করে, না হলেই সর্বনাশ। বিশ্বকাপের বাছাইয়ে নামিবিয়া ও উগান্ডার বিপক্ষে এ কারণেই ১৪০ রান পার করতে পারেনি দলটি। সে ব্যর্থতার বলি বিশ্বকাপে জায়গা করতে না পারা।
এমন এক ব্যাটিং লাইনআপের বিপক্ষে না খেলে আইপিএল- যেখানে বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যানরা এখন খেলছেন- সেখানেই থাকাটা মোস্তাফিজের জন্য ভালো হতো কিনা এমন প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। তবে মোস্তাফিজকে বিশ্বকাপের আগে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দিতেই নাকি তাঁকে দেশে ফেরানো হচ্ছে। এবং ধকল সামলাতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তাঁকে না খেলানোর কথাও শোনা যাচ্ছে।
এটুকু হলেও হয়তো খুব বেশি আলোচনা হতো না। তবে বিসিবির ক্রিকেট অপারেশনস চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস বলেছেন, ‘মোস্তাফিজের আইপিএল খেলে শেখার কিছু নেই। মোস্তাফিজের শেখার প্রক্রিয়ায় আর কিছু বাকি নেই।’ তাঁর ধারণা, মোস্তাফিজকে আইপিএলে খেলতে দিলে উলটো ভারতের লাভ, ‘মোস্তাফিজের থেকে শিখতে পারে আইপিএলে অনেক খেলোয়াড় আছে। এতে বাংলাদেশের কোনো লাভ হবে না।’
কাটারের ক্ষেত্রে মোস্তাফিজ যে অনন্য, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। ২০১৫ সালে অভিষেকের পর থেকে এখনো পর্যন্ত উইকেটের সাহায্য পেলেই প্রায় ‘আনপ্লেয়েবল’ হয়ে ওঠেন মোস্তাফিজ। তবে উইকেট ধীর গতির না হলেই ধার হারিয়ে ফেলেন মোস্তাফিজ।
গতকাল আবারও দেখা গেছে সেটা। লক্ষ্ণৌতে গতকাল ৪ ওভার বল করে এক উইকেট পেলেও ৪৩ রান দিয়েছেন মোস্তাফিজ। এ নিয়ে চেন্নাইয়ের বাইরে খেলতে নেমে তিন ম্যাচে ১২ ওভারে ৩ উইকেট পেতে ১৪৫ রান করতে হয়েছে মোস্তাফিজকে। অর্থাৎ ওভার প্রতি ১২ রানের বেশি দিয়েছেন।
কেন এমন হচ্ছে সেটা গতকাল ম্যাচ শেষের বিশ্লেষণে বলেছেন সাবেক ক্রিকেটাররা। সাবেক অস্ট্রেলিয়ান উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান অ্যাডাম গিলক্রিস্টের ব্যাখ্যা, 'আপনি যদি খেয়াল করেন তাহলে দেখবেন ফিজ খুব ভালোভাবে স্লোয়ারের চেষ্টা করেছে। চেন্নাইয়ে আমরা দেখেছি এগুলো কাজে দিয়েছে। কিন্তু এখানে কাজে আসেনি।’
হর্ষ ভোগলেরও ধারণা, উইকেট থেকে সুবিধা না পাওয়াতেই এই অবস্থা মোস্তাফিজের, ‘চেন্নাই যখন ব্যাটিং করছিল তখন বল খানিকটা গ্রিপ করছিল। আমার মনে হয়েছিল, এই উইকেটে ফিজ দুর্দান্ত বোলিং করবে। আমি জানি না উইকেটের ব্যাপারটা কি ছিল। তবে দেখে মনে হয়েছে পরের দিকে ব্যাটিং করাটা সহজ হয়ে গিয়েছিল।’
বিশ্বকাপে বাংলাদেশের দুটি ম্যাচ কিংসটাউনের আরনস ভেল গ্রাউন্ডে। এই মাঠের অতীত বলে, এমন উইকেটে মোস্তাফিজ ভালো করবেন। তবে সে দুটি ম্যাচ নেদারল্যান্ডস ও নেপালের বিপক্ষে। বাংলাদেশের মূল পরীক্ষা দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। এবং ম্যাচ দুটি হবে যুক্তরাষ্ট্রে। এখন যে পর্যন্ত যে ইঙ্গিত, তাতে সেখানকার উইকেট ব্যাটিং সহায়ক হবে। আর এমন উইকেটে বোলিং দক্ষতা বাড়ানো যে মোস্তাফিজের দরকার তা গতকাল আবার প্রমাণিত হয়ে গেছে।