আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচ হেরে বড় ধাক্কা খেয়েছিল পাকিস্তান। অবশ্য পরের দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছিলেন বাবর আজমরা। এরপর ফুরফুরে মেজাজেই ইংল্যান্ডে গিয়েছিলেন তাঁরা। ইংলিশদের সিরিজের প্রথম ম্যাচটি বৃষ্টিতে পণ্ড হয়ে যায়।
কিন্তু আয়ারল্যান্ডের মতো ইংল্যান্ডেও হার দিয়ে শুরু হলো পাকিস্তানের। গতকাল বার্মিংহামে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ২৩ রানে জিতে চার ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছে ইংলিশরা।
বার্মিংহামের এজবাস্টনে প্রথমে ব্যাটিং করে অধিনায়ক জস বাটলারের ৫১ বলে ৮৪ রানে ৭ উইকেটে ১৮৩ রানের সংগ্রহ পায় ইংল্যান্ড। জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৬০ রানে গুটিয়ে যায় বাবর আজমের দল। আগামী মঙ্গলবার কার্ডিফে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে।
ইনিংসের চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে ইমাদ ওয়াসিমকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে শাহিন শাহ আফ্রিদির হাতে ক্যাচে পরিণত হন ৯ বলে ১৩ রান করা সল্ট। এরপর উইল জ্যাকসকে সঙ্গে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৪২ বলে ৭১ রান তোলেন বাটলার। দলকে ৯৬ রানে রেখে হারিস রউফের বলে আউট হন জ্যাকস। ইংলিশদের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৭ রান আসে জ্যাকসের ব্যাট থেকে।
এরপর একপ্রান্তে উইকেট যাওয়া আসার মিছিলে ইংলিশদের রান চাকা সচল রাখার দায়িত্ব একা সামলে যান বাটলার। ১৮তম ওভারের শেষ বলে বাটলার যখন আউট হলেন, ইংল্যান্ডের স্কোরবোর্ডে তখন ১৬৪ রান। শেষ দিকে ৪ বলে ১২ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেছেন ৩৮৫ দিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা জফরা আর্চার।
পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট নিয়েছেন শাহিন আফ্রিদি। এছাড়া ইমাদ ওয়াসিম ও হারিস রউফ দুটি করে উইকেট পেয়েছেন।
১৮৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় পাকিস্তান। স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ হওয়ার আগেই আউট হন ওপেনার মোহাম্মদ রিজওয়ান। আরেক ওপেনার সাইম আইয়ুবও আউট হন দলীয় ১৪ রানে। চতুর্থ ওভারের মধ্যেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে বিপদে পড়ে পাকিস্তান। তবে বাবর আজম-ফখর জামানের ২৮ বলে ৫৩ রানের তৃতীয় উইকেট জুটিতে সে ধাক্কা সামলে ওঠে সফরকারীরা।
ইনিংসের নবম ওভারের প্রথম বলে এলবিডাব্লিউ হয়ে ড্রেসিংরুমে ফেরেন ২৬ বলে ৩২ রান করা বাবর। পরের ওভারে নতুন ব্যাটসম্যান শাদাব খানকেও হারায় (৩ রান) পাকিস্তান। এরপরেও পাকিস্তান ম্যাচে ভালোভাবেই টিকে ছিল।
ইনিংসের ১৩ তম ওভারে ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে যখন ফখর জামান আউট হলেন, তখনই আশার প্রদীপ নিভু নিভু হয়ে যায় পাকিস্তানের। ফখর ২১ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ৪৫ রান করেছেন। শেষদিকে ইফতেখার আহমেদের ১৭ বলে ২৩ ও ইমাদ ওয়াসিমের ১৩ বলে ২২ রানের ইনিংসগুলো কেবল পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছে।