ব্লিচার রিপোর্টের টুইট দেখে আমেরিকানদের প্রশ্ন, ‘আমরা ক্রিকেট খেলি?’

গতকাল ডালাসে যা হয়েছে, তাকে রূপকথার গল্প বললেও বোধহয় কম হবে। ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি পাকিস্তানকে হারিয়ে হারিয়ে হইচই ফেলে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হইচই হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। যে দেশে ক্রিকেট খেলা সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষই জানেন না, যাদের দল গঠিত হয়েছে অভিবাসীদের দিয়ে, তারাই কিনা হারিয়েছে শক্তি-সামর্থ্যে বহুগুণ এগিয়ে থাকা পাকিস্তানকে।

বাবর আজমদের বিপক্ষে পাওয়া জয়টা যে যুক্তরাষ্ট্র ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জয়, এটা বোধহয় না বললেও চলে। বিশ্বকাপে প্রথম দুই ম্যাচেই জয় পাওয়ায় এখন সুপার-৮ এ যাওয়ার সম্ভাবনাও উজ্জ্বল হয়েছে মোনাঙ্ক প্যাটেলদের। পরের রাউন্ডে উঠতে পারুক বা না পারুক, গতকালের জয়েই ক্রিকেট বিশ্বে নতুন করে আলোচনায় এসেছে যুক্তরাষ্ট্র ক্রিকেট। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গতকালের ম্যাচ নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া উপচে পড়ছে। তবে দেশটির অনেকেই জানেন না, তাঁদের একটা ক্রিকেট দল আছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক আমেরিকানই প্রশ্ন করছেন, ‘আমরা ক্রিকেট খেলি?’

যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান ম্যাচের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) ব্লিচার রিপোর্ট একটি টুইট করেছে। সেখানে তারা লিখেছে, ‘ছেলেদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ক্রীড়া ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অঘটন।’

এ টুইটের ঘরে অসংখ্য মন্তব্য এসেছে। তবে আলাদা করে নজর কেড়েছে আমেরিকানদের মন্তব্য। সেখানে অনেকেই জানতে চেয়েছেন, ‘আমরা ক্রিকেট খেলি?’ আরেকজন মন্তব্য করেছেন, ‘আমরা কবে থেকে ক্রিকেট খেলা শুরু করলাম?’ আমেরিকানদের আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য মন্তব্য হলো, ‘এটাকে (ক্রিকেটকে) বেসবল ২.০ বলে’, ‘জানতামই না যুক্তরাষ্ট্রের একটা ক্রিকেট দল আছে’, ‘ক্রিকেটের মানেটা আসলে কী?’

কেবল ব্লিচার রিপোর্টের পোস্টের মন্তব্যের ঘরেই নয়, অনেকে ব্যক্তিগত প্রোফাইলে এ ম্যাচ নিয়ে টুইট করেছেন। চার্লি রেনল্ডস নামের একজন লিখেছেন, ‘এটা আমাকে ভাবতে বাধ্য করছে যে, পাকিস্তান এখন টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতবে।’

এরিকা মরিস নামের আরেকজন লিখেছেন, ‘যদি এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কোন দল সহযোগী দেশের বিপক্ষে হারে, সেটা হতে যাচ্ছে পাকিস্তান। দুঃখিত ছেলেরা। কিন্তু দুদলের পার্থক্যটা খুব হাস্যকর। ‘ এরিকা অবশ্য ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই টুইট করেছিলেন।

পেইগ কোয়েন্স তো এক কাঠি সরেস। তিনি বরং এ জয়কে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেট উন্নয়নের অংশ মনে করেন। পেইগ টুইটে লিখেছেন, ‘আমেরিকায় খেলাটির প্রসারের জন্য পাকিস্তানের প্রতি কৃতজ্ঞতা।’ এদিকে জয়টা যদি পাকিস্তানের বিপক্ষে না হয়ে ভারতে বিপক্ষে হত, তাহলে পরিস্থিতি কী হতে পারত, মজার ছলে সেটি লিখেছেন রাগভ এক্স নামের এক আইডি, ‘এ জয়টা ভারতের বিপক্ষে হলে, আইসিসি এখনই ২০২৬ বিশ্বকাপ দশ দলের করে ফেলত।’

এদিকে পাকিস্তানের পরাজয় নিয়ে ব্যঙ্গ করতেও ছাড়েননি অনেকে। গতকাল বাবর আজম ৪৩ বলে ৪৪ রান করে আউট হয়েছেন। অন্যদিকে আজম খান গোল্ডেন ডাক মেরেছেন। এ দুজনের সমালোচনায় দিন্দা অ্যাকাডেমি থেকে টুইট করা হয়েছে, ‘পাকিস্তানের দুইজন খান আছে। একজন বার্গার খান, আরেকজন খান বল।’