যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে হারের পর সুপার-৮ এর আশা অনেকটাই কমে গিয়েছে পাকিস্তানের। যদিও গ্রুপ পর্বে এখনো তিন ম্যাচ বাকি বাবর আজমদের, কিন্তু এরমধ্যে পরের ম্যাচটা খেলতে হবে ভারতের বিপক্ষে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কোহলি-রোহিতদের বিপক্ষে পাকিস্তানের পারফরম্যান্স মোটেও সুবিধার নয়। বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে আগের সাতবারের দেখায় কেবল একবারই জিতেছে পাকিস্তান। আগামীকাল ভারতের বিপক্ষে হারলেই এবারের টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় ঘণ্টা বাজবে বাবর আজমদের। তাই এটা বলাই যায়, যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে হারটাই বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে পাকিস্তানের জন্য।
অথচ ম্যাচটা জিততেও পারত পাকিস্তান। বাবরদের ১৫৯ রান তাড়ায় নেমে শেষ ৪ ওভারে জয়ের জন্য ৩৪ রান দরকার ছিল যুক্তরাষ্ট্রের। নাসিম শাহ, শাহিন আফ্রিদি ও মোহাম্মদ আমিরের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শেষ ওভারে সমীকরণ দাঁড়ায় ১৫ রানের। জয়ের পাল্লা তখন পাকিস্তানের দিকেই হেলে। কিন্তু এ রান আটকাতে পারেননি হারিস রউফ। পাকিস্তানি পেসারের শেষ ওভারে ১৪ রান নিয়ে সুপার ওভারে ম্যাচ নিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে পাকিস্তানকে হারিয়ে পেয়েছে ঐতিহাসিক জয়।
যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে অপ্রত্যাশিত এ হারের ধাক্কা মানতে পারছেন না দেশটির সাবেক ক্রিকেটার সালমান বাট। হারের জন্য তিনি দায়ী করেছেন হারিস রউফকে। হতশ্রী বোলিং করা পাকিস্তানি পেসারকে দেখে সালমানের বাটের মনে হয়েছে, রউফকে কেউ ডাকাতি করেছে।
'ক্রিকেট বৈঠক' নামক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে সালমান বাট বলেছেন, ‘ও (হারিস রউফ) যে এত রান দিয়েছে, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ, ও এমন বোলার যে কখনও নিজের ফিল্ডিংয়ের দিকে তাকায় না, সে অনুযায়ী বল করে না। মিড অফের ফিল্ডার যেখানে ৩০ গজের বৃত্তের মধ্যে, সেখানে ও ফুল লেংথ বল করছিল, আর সে কারণেই ওভারের শেষ বলে বাউন্ডারি হল। অধিনায়কও ওকে দেখে চেঁচাচ্ছিল। যখন মিড-অফ উপরে থাকে, তখন ফুল লেংথ বল করা যায় না। এটা ক্রিকেটের মৌলিক বিষয়।’
যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে যারা এক ওভারের বেশি বল করেছেন, তাদের মধ্যে হারিস রউফ ছিলেন সবচেয়ে খরুচে। চার ওভার বোলিং করে ৩৭ রান দিয়েছেন পাকিস্তানি পেসার। হারিস রউফের পেশাদারিত্ব ও ভুল থেকে শেখার ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সালমান বাট।
সাবেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার বলেছেন, ‘বোলিংয়ের সময় ওর (হারিস রউফ) কিছু অদ্ভুত স্টাইল আছে। ও বল করে মাথায় হাত দিয়ে মাটিতে বসে। মনে হচ্ছিল, ও টাকা হারিয়েছে বা কেউ ওকে ডাকাতি করেছে। আমি জানি না ও এটা দিয়ে কী বোঝাতে চেয়েছিল। কিন্তু এটা অপেশাদার আচরণ। ও আসলে কখনোই কিছু শেখেনি। ওদের মধ্যে সাধারণ জ্ঞান ও সচেতনতার অভাব আছে।’