দুঃস্বপ্নের মতো একটা বিশ্বকাপ কাটাচ্ছেন বাবর আজম। একদিকে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়ের শঙ্কায় পাকিস্তান, অন্যদিকে ব্যাট হাতে ফর্মটা ভালো যাচ্ছে না পাকিস্তান অধিনায়কের। দুদিক থেকেই সমালোচনার বাণ ধেয়ে আসছে বাবর আজমের দিকে।
সে সমালোচকদের তালিকায় এই বিশ্বকাপে নিয়মিত নাম পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার আহমেদ শেহজাদ। বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বাজে পারফরম্যান্সের জন্য বাবরকে তো দায়ী করেছেনই, পাশাপাশি তাঁকে ‘ফেইক কিং’ নামেও ব্যঙ্গ করেছেন। দেশের মানুষের স্বপ্নভঙ্গের জন্য বাবরকে ক্ষমা চাইতে বলেছেন শেহজাদ।
যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে অপ্রত্যাশিত হারের পর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষেও হেরে বসে পাকিস্তান। এরপর কানাডার সঙ্গে স্বস্তির জয় পেলেও সুপার এইটের সমীকরণ আর বাবর আজমদের হাতে নেই। বরং পরের পর্বের জন্য গ্রুপে অন্য ম্যাচগুলোর ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে।
এদিকে বাবর আজমও ব্যাট হাতে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারছেন না। তিন ম্যাচে ৯০ রান করলেও বল খেলেছেন ৮৬টি। যা টি-টোয়েন্টির সঙ্গে বড্ড বেমানান। কেবল এবারই নয়, ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণের বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে বাবরের স্ট্রাইকরেট বরাবরই ‘ওয়ানডে’ সুলভ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ২২ ম্যাচ খেলে ৫১৭ রান করেছেন বাবর। স্ট্রাইকরেট মোটে ১১২। এ বিষয়টি টেনে বাবরকে ধুয়ে দিয়েছেন আহমেদ শেহজাদ।
সাবেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার তুলনায় টেনে এনেছেন বিশ্বকাপে নিজেরই পারফরম্যান্সকে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ৯ ম্যাচ খেলে ১২৬ স্ট্রাইকরেটে ২৫০ রান করেছেন শেহজাদ। একটি সেঞ্চুরিও আছে তার নামের পাশে।
‘হারনা মানা হ্যায়’ টিভি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে নিজের পারফরম্যান্সের সঙ্গে তুলনা করে শেহজাদ বলেছেন, ‘এটা মানছি যে, আমার পারফরম্যান্স আরও ভালো করা উচিত ছিল। কিন্তু ওর (বাবর) পরিসংখ্যান তো আমার চেয়েও খারাপ।’
বাবরকে ‘ফেইক কিং’ আখ্যা দিয়েছেন শেহজাদ। বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বাজে পারফরম্যান্সের জন্য সব দায় বাবরের ওপরই চাপিয়েছেন, ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাওয়ার প্লে-তে ২০৫ বল খেলেও একটা ছক্কা মারতে পারনি। তারপরেও তোমাকে আমাদের দেশে ‘কিং’ (রাজা) বলা হয়। তুমি আসলে ‘ফেইক কিং’ (ভুয়া রাজা)। দলে নিজের বন্ধুদের সুযোগ করে দিয়ে পাকিস্তানের জনগণের স্বপ্ন ভঙ্গ করে দিয়েছ।’
বাবরের সামনে এখন একটাই পথ খোলা আছে মনে করেন শেহজাদ। সেটা হলো- ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে পাকিস্তানের জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। এ প্রসঙ্গে সাবেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার বলেছেন, ‘পাকিস্তানকে একটা ট্রফি এনে দিতে পারছ না তুমি। অন্তত নিজের ব্যর্থতা তো স্বীকার করো। হাত তুলে বলো যে আমায় পিসিবি সব দিয়েছে, আমি আমার পছন্দের ক্রিকেটারদেরই পেয়েছি, কিন্তু তাও দলকে সাফল্য দিতে পারিনি। ব্যর্থতার দায় তো অন্তত নাও, দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চাও।’