দুঃস্বপ্নের একটা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কেটেছে পাকিস্তান দলের। চার দলের গ্রুপ থেকে দুই দল উঠেছে সুপার এইটে, অথচ ভারতের পাশাপাশি গ্রুপে যুক্তরাষ্ট্র আর আয়ারল্যান্ড থাকলেও পাকিস্তান সেরা দুইয়ে থাকতে পারেনি। গ্রুপ পর্বে বিদায়ের পর বাবর, শাহিন, রিজওয়ান, হারিসদের সমালোচনা যে চারিদিকে হবে, সেটাই স্বাভাবিক।
তবে অনেকে সমালোচনায় মাত্রা ছাড়িয়ে যান, তাতে সমস্যা আরও বাড়ে। তেমনই এক ঝামেলা হলো যুক্তরাষ্ট্রে হারিস রউফের সঙ্গে। ভক্তের অপমানের জবাবে তাঁকে মারতে তেড়ে গিয়েছিলেন পাকিস্তানের পেসার। রউফের অবশ্য ধারণা ছিল, ওই ব্যক্তি ভারতের, কিন্তু নিজেকে পাকিস্তানের বলে দাবি করছেন। ভিডিওতে রউফকে সেটা বলতেও শোনা যায়।
কিছুক্ষণ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে ওই ঘটনা নিয়ে কথাও বলেছেন হারিস রউফ।
আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, হারিস রউফ তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে হাঁটছিলেন হোটেলের সামনে, এমন সময় এক ব্যক্তি তাঁকে কিছু একটা বলে বসেন। কী বলেছেন তা পরিষ্কার বোঝা যায়নি, তবে অনেকের মতে, তিনি হারিস রউফকে গালি দিতে গিয়ে রউফের পরিবারের প্রসঙ্গ টেনে এসেছেন।
এটা শুনেই তেড়ে যান হারিস রউফ। ওই ভক্ত আর রউফের মাঝে ছোট কিছু গাছ ছিল, তার ওপর দিয়ে যেতে গিয়ে হারিস রউফের পায়ের স্যান্ডেল খুলে যায়। রউফের স্ত্রীও সে সময় তাঁকে ঝগড়ায় জড়াতে নিষেধ করছিলেন, জড়িয়ে ধরে রাখার চেষ্টা করছিলেন। পাশে থাকা দুজন নিরাপত্তাকর্মীও রউফকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেছেন। তবে তাতে কাজ হয়নি।
রউফ গিয়ে ওই ভক্তের মুখোমুখি হন, তবে নিজেকে পাকিস্তানের ভক্ত দাবি করা ওই ব্যক্তি আর রউফের মাঝে ততক্ষণে নিরাপত্তাকর্মীরা দাঁড়িয়ে পড়েন। তবে সে সময় ওই ব্যক্তি সুর পালটে বলতে থাকেন, তিনি শুধু একটা সেলফিই তুলতে চেয়েছিলেন! সে সময় হারিসকে বলতে শোনা যায়, ‘গালিটা আমার বাবাকে দিচ্ছিলি!’
নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁকে জড়িয়ে ধরে একপাশে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন – এমন সময় আবার ওই ব্যক্তির উদ্দেশে রউফ বলে বসেন, ‘এটা তোর ভারত না!’ জবাবে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘ভাই, আমি পাকিস্তানিই।’ কিন্তু রউফের সন্দেহ যায়নি, স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে স্বগতোক্তি করছিলেন, ‘ও ইন্ডিয়ানই হবে!’ ওই ব্যক্তির দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘পাকিস্তানি হয়ে তোর আচরণ এমন! তোর বাবা তোকে এটাই শিখিয়ে বড় করেছে?’
ততক্ষণে অবশ্য ওই ব্যক্তিকে নিরাপত্তাকর্মীরা অন্যদিকে চলে যেতে বলায় ঝামেলা আর বেশিদূর গড়ায়নি। তবে ভিডিওটা ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। কেউ ওই ব্যক্তির সমালোচনা করেছেন হারিসের পরিবার টেনে এনে কথা বলায়, সমালোচনা করতে চাইলে সেটা খেলার গন্ডিতে থাকার গুরুত্বের কথাও বলছেন। আবার কারও চোখে একজন তারকা হিসেবে রউফের এভাবে তেড়ে যাওয়া ঠিক হয়নি। ভারত আর পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ পড়েছেন রউফ যে ওই ব্যক্তিকে ভারতীয় বলে সন্দেহ করছেন, সেটি ঠিক না বেঠিক তা নিয়ে।
ভিডিওটা ছড়িয়ে পড়ার পর অবশেষে মুখ খুলেছেন রউফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিবৃতিতে লিখেছেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপারটা আনতে চাইনি, তবে যেহেতু ভিডিওটা ছড়িয়ে পড়েছে, তাই ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করা দরকার বলে মনে হলো। পাবলিক ফিগার হিসেবে সবার সমালোচনা মাথা পেতে নিতে আমরা সব সময় তৈরি – জনগণের সমর্থন ও সমালোচনা দুটিই করার অধিকার আছে। কিন্তু যখন ব্যাপারটা আমার মা-বাবা বা আমার পরিবারের দিকে আসবে, তখন আমি যথাযথ জবাব দিতে দুবার ভাবব না। একজন মানুষ – তিনি যে পেশারই হোন না কেন, তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে সম্মান দেখানো গুরুত্বপূর্ণ।’