পাকিস্তান সতীর্থের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে ভারতের নাম টেনে বিপাকে রিজওয়ান

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভরাডুবির পর নতুন এক ঝামেলা নিয়ে সরগরম পাকিস্তানের ক্রিকেট। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে বিদায়ের জেরেই গতকাল যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তান পেসার হারিস রউফের সঙ্গে রাস্তায় ঝগড়া লেগে যায় এক লোকের। কিন্তু ওই ঝগড়াতেই জড়িয়ে যায় ভারত!

সে সময়ে স্ত্রীর সঙ্গে ফুটপাতে হাঁটছিলেন রউফ। তাঁর দাবি, তাঁর বাবাকে গালি দিয়েছেন ওই লোক। সে কারণে ওই লোকের দিকে তেড়ে যান পাকিস্তান পেসার। ঝগড়ার এক পর্যায়ে ওই লোক ভারতীয় বলে সংশয় জানান রউফ। ওই লোক অবশ্য নিজেকে পাকিস্তানি বলেই দাবি করেছেন।

রউফের ওই ঝগড়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে খেপেছেন ভারতীয়রা। এর মধ্যে রউফের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে মোহাম্মদ রিজওয়ান পড়ে গেছেন বিপাকে। কারণ ঘুরেফিরে একই, নিজের বক্তব্যে ভারতের প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন রিজওয়ান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাল পাকিস্তানের সাবেক ও বর্তমান অনেক ক্রিকেটারই হারিস রউফের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটির নিন্দা জানিয়েছেন। ভক্তরা সমালোচনা করতেই পারেন, তাই বলে স্ত্রী-সন্তান-পরিবারের যখন ক্রিকেটার ঘুরছেন সে সময়ে তাঁকে এসে কিছু বলা, তা-ও আবার তাঁর বাবাকে নিয়ে…এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে মত জানিয়েছেন তাঁরা। পিসিবি চেয়ারম্যান তো ওই ব্যক্তিকে হারিস রউফের কাছে ক্ষমা চাইতে বলেছেন, না হলে তাঁকে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে বলে হুঁশিয়ারও করে দিয়েছেন।

কিন্তু শাহিন শাহ আফ্রিদি, হাসান আলী, আহমেদ শেহজাদরা সমর্থন জানালেও রউফের পাশে দাঁড়িয়ে বিতর্কের মুখে পড়েছেন রিজওয়ান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) রউফকে সমর্থন জানানো পোস্টে যে ভারতকে টেনে এনেছেন পাকিস্তানের উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান!

ভারত আর পাকিস্তানের দ্বন্দ্বের উর্ধ্বে থেকে সাদা চোখে দেখলে রিজওয়ানের মন্তব্যটাতে নেতিবাচক কিছু তেমন পাওয় যায় না। ভিডিওতে ওই ব্যক্তির জাতীয়তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল, ওই ব্যক্তির দাবিতেই তো আর সেটার নিশ্চয়তা মিলে যায় না! রিজওয়ান তাই পোস্টের শুরুতে লিখেছেন, ‘হারিস রউফকে যিনি অপমান করেছেন, ওই ব্যক্তি ভারতীয় না পাকিস্তানি সেটা এখানে গুরুত্বপূর্ণ নয়।’

এরপর সবাই রউফের সমর্থনে যা বলেছেন, সেই সুরেই রিজওয়ান লিখেছেন, ‘আরেকজন মানুষকে অপমান করার অধিকার কারওই নেই, তা-ও আবার যখন সেটা হয় পরিবারের মানুষের সামনে! এই জঘন্য আচরণ বন্ধ করা দরকার। সহনশীলতা, সম্মান, সহানুভূতির মতো আবেগগুলো দিনে দিনে বিরল হয়ে উঠছে।’

খুবই সুন্দর কথা, কিন্তু ভারত-পাকিস্তানের চিরবৈরিতা সেটাকে আর ঠিক রাখতে দিচ্ছে কোথায়! গতকাল রউফের সঙ্গে ওই ব্যক্তির ঝগড়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে পাকিস্তানের অনেকেই ওই ব্যক্তি যেভাবে ‘পাকিস্তান’ উচ্চারণ করেছেন, তা দেখেই রায় দিয়ে দিলেন, ওই লোক মিথ্যা বলছেন, তিনি আসলে ভারতীয়ই। আবার ভারতীয়দের যুক্তি, ওই ব্যক্তি যখন নিজেই বলছেন তিনি পাকিস্তানি, সে ক্ষেত্রে রউফের তাঁকে ভারতীয় ধরে নেওয়াই ঠিক হয়নি।  

এরপর রিজওয়ান পোস্টে প্রথম বাক্যে ওই ব্যক্তির জাতীয়তা নিয়ে কেন সন্দেহ রেখে দিলেন, সেটা নিয়ে পড়েছেন ভারতীয়রা। টুইটারে ভারতের ক্রিকেট নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের মধ্যে বেশ পরিচিত মুফাদ্দাল ভোহরা কমেন্টে লিখেছেন, ‘ওই ভক্ত নিজেই যখন দাবি করেছেন তিনি পাকিস্তানের, এরপর পোস্টে ভারতের নাম উচ্চারণ করারই কোনো দরকার ছিল না।’

ক্রিকেটোপিয়া নামের এক একাউন্ট থেকেও কমেন্টে লেখা হলো, ‘ওই ব্যক্তি নিজেই বলেছে সে পাকিস্তানের। কিন্তু আপনাদের তো ভারতকে নিয়ে ভয় কাজ করে! আর চ্যাটজিপিটি কাজে লাগিয়ে টুইট লেখা বন্ধ করুন।’