টি-টোয়েন্টির বর্তমান চ্যাম্পিয়ন তাঁরা। অন্যতম ফেবারিটের তকমা গায়ে লাগিয়েই এবারের বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু শিরোপা ধরে রাখার মিশনের শুরুটা মোটেও সুখকর ছিল না ইংলিশদের। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপপর্বের প্রথম ম্যাচটা ভেস্তে যায় বৃষ্টিতে। পরের ম্যাচে আবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হার- এতে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের শঙ্কায় পড়ে যায় ইংলিশরা। কিন্তু শেষ দুই ম্যাচ জিতে সে শঙ্কা উড়িয়ে উঠে যায় সুপার এইটে।
এ রাউন্ডে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটা জিতলেও পরের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে বসেন জস বাটলাররা। আবারও চোখ রাঙানি দিতে থাকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়। কিন্তু গতকাল রবিবার সুপার এইটের তৃতীয় ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রকে ১০ উইকেটে হারিয়ে সেমি ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে ইংলিশরা।
বার্বাডোজে ক্রিস জর্ডানের হ্যাটট্রিক আর আদিল রশিদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ১১৫ রানেই গুটিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। এ রান তাড়ায় খুব বেশি সময় নেয়নি ইংল্যান্ড। দুই ওপেনারের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ইনিংসের ৬২ বল হাতে রেখে ১০ উইকেটের জয় পায় ইংলিশরা।
ফিল্ট সল্ট কিছুটা রয়েসয়ে খেললেও জস বাটলার ছিলেন বিধ্বংসী। মাত্র ৩৮ বলে ৬ চার ও ৭ ছক্কায় ৮৩ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলেছেন বাটলার। এরমধ্যে নবম ওভারে হারমিত সিংকে টানা ৫ ছক্কা মেরেছেন ইংলিশ অধিনায়ক। ভাগ্যিস ওভারের প্রথমটা বলটা ফিল সল্ট খেলেছিলেন। বাটলার যেমন বিধ্বংসী হয়ে উঠেছিলেন, ৬ ছক্কা হলেও হতে পারত। বাটলারের তাণ্ডবের দিনে সল্ট ২১ বলে ২৫ রানে অপরাজিত ছিলেন।
এর আগে আমেরিকানদের গুড়িয়ে দিতে বল হাতে বড় অবদান রেখেছেন ক্রিস জর্ডান। ৬ উইকেটে ১১৫ রানে ১৮ তম ওভার শেষ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। উইকেটে তখন দুই সেট ব্যাটসম্যান হারমিত সিং (২১) ও কোরি আন্ডারসন (২৯)। দলীয় স্কোরটা আরেকটু বাড়ানোর স্বপ্নই হয়তো দেখেছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু পরের ওভারে যা হয়েছে, তা কল্পনাকেও হার মানিয়েছে।
ডর্জান ১৯তম ওভারে বোলিংয়ে এসে প্রথম ৫ বলে যুক্তরাষ্ট্রের চার উইকেট আদায় করেন। একই সঙ্গে এ বিশ্বকাপ দেখল তৃতীয় হ্যাটট্রিক। জর্ডান এমন দুর্দান্ত বোলিং করলেও ম্যাচসেরার পুরস্কার উঠেছে আদিল রশিদের হাতে। ডানহাতি এ লেগ স্পিনার মাত্র ১৩ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন।
আজ সকালে সুপার এইটের গ্রুপ-২ এর শেষ ম্যাচে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে লড়ছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এ ম্যাচের জয়ী দল পাবে শেষ চারের টিকিট।