লক্ষ্যই ছিল মাত্র ৮২ রানের। ইংল্যান্ড যে আগের দুই টেস্টের মতো বার্মিংহ্যামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট জিততে যাচ্ছে, সেটা অনুমিতই ছিল। ইংল্যান্ড ১০ উইকেটে জিতেছে, এটাও মোটেও অভাবিত কিছু নয়। তবে ইংল্যান্ড যে ঢংয়ে ম্যাচটা জিতে গেছে, আশ্চর্য করেছে সেটাই।
৮৭ রানের লক্ষ্যটা মাত্র ৪৪ বলেই পেরিয়ে গেল ইংল্যান্ড। টেস্ট তো নয়, যেন টি-টোয়েন্টি খেলেছে তারা! বেন স্টোকস ২৪ বলে ফিফটি তুলে নিয়ে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ২৮ বলে ৫৭ রানে। ইনিংসে ৯ চার, ছক্কা দুটি। তাঁর ওপেনিং সঙ্গী বেন ডাকেট ১৬ বলে ৪ চারে অপরাজিত ছিলেন ২৫ রানে।
স্টোকস ওপেনিংয়ে নামার উদ্দেশ্য তাহলে এটাই ছিল! জ্যাক ক্রলি আঙুলে আঘাত পাওয়ায় স্ক্যান করতে গিয়েছিলেন, নতুন ওপেনিং জুটি নামাতেই হতো ইংল্যান্ডকে। স্টোকস নামলেন, ঝড় তুলতেই বুঝি নেমেছেন।
প্রথম ওভারে আলজারি জোসেফের তৃতীয় ও চতুর্থ - টানা দুই বলে দুই চার মারলেন, পঞ্চম বলটা স্টোকসকে দারুণভাবে বিট করলেও সেটাও বাই চার হয়ে গেল। প্রথম ওভারেই এল ১২ রান। স্টোকসের তখন মাত্র শুরু! পরের ওভারে জেইডেন সিলসকে দুই চারে ১১ রান নিলেন, পরের ওভারে জোসেফের ওভারে আবার তিন চারে ১৫ রান, চতুর্থ ওভারে জেসন হোল্ডার এলে তাঁকেও স্টোকস মেরেছেন দুই চার। ওই ৪ ওভার শেষে ইংল্যান্ডের রান ৪৯, স্টোকসের রান ১৮ বলে ৯ চারে ৪১!
ষষ্ঠ ওভারে আর চুপ থাকলেন না ডাকেট, হোল্ডারের ওভার মারলেন ৪ চার। ছয় ওভারেই ইংল্যান্ডের রান ৭২! বাকি কাজটা স্টোকসই শেষ করে দিয়েছেন, এবং তা করেছেন ছক্কা মেরে। সপ্তম ওভারে শামার জোসেফকে এক ছক্কার পর অষ্টম ওভারের দ্বিতীয় বলে ক্রেইগ ব্রাথওয়েইটকে ছক্কা মেরে হিসেবই মিটিয়ে দিলেন!
এর আগে প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২৮২ রানের জবাবে ৯৬ রানের লিড নিয়েই ম্যাচ জেতার পটভূমি গড়ে ফেলেছিল ইংল্যান্ড। দ্বিতীয় ইনিংসে উইন্ডিজ কী করে তা দেখার ছিল। কিন্তু উইন্ডিজের হয়ে যা করার করলেন ওপেনার মিকেল লুইস (৫৭) আর পাঁচে নামা কাভেম হজ (৫৫)। এর বাইরে ইনিংসে তৃতীয় সর্বোচ্চ ছিল অ্যালিক অ্যাথানাজে ও জেসন হোল্ডারের ১২!
১৭৫ রানে অলআউট হয়ে ইংল্যান্ডকে ১০০ রানের লক্ষ্যও দিতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এরপর কী হলো, তা তো ওপরেই লেখা! স্টোকসের টি-টোয়েন্টিতে ইংল্যান্ডের বাজবল ৩-এ ৩ করে ফেলল!