ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) সঙ্গে কেভিন পিটারসেনের বিরোধ অনেকটা ওপেন সিক্রিকেট। আইপিএল শুরুর দিকে ভারতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলা নিয়ে ইসিবির সঙ্গে যেমন বিরোধ ছিল পিটারসেনের, তেমনি তাঁর অবসরের সময়েও বোর্ডের সঙ্গে বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছিল।
২০১৪ সালে মাত্র ৩৩ বছর বয়সে আচমকা জাতীয় দলকে বিদায় বলেছিলেন সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক। যেভাবে খেলছিলেন, তাতে অনায়াসেই আরও দীর্ঘ করতে পারতেন আন্তর্জাতিক ক্যারিয়াররা। কিন্তু ক্যারিয়ারটা কেন লম্বা করতে পারেননি, সেই বোমাই এতদিন পর ফাটিয়েছেন পিটারসেন। এক পডকাস্টে সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক অভিযোগ তুলেছেন, আইপিএলে খেলার কারণে জাতীয় দলে জায়গা হারান তিনি।
মূলত আইপিএলের শুরুর দিকে কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা খেলোয়াড়দের এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে পাঠাতে চাইত না ইসিবি। এ নিয়ে বোর্ড ও খেলেয়াড়দের মধ্যে বিরোধ হয়েছিল। ওই সময়কার স্মৃতি রোমন্থন করে কেভিন পিটারসেন জানান, আইপিএলে যোগ দেওয়ার কারণেই ইসিবির সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি ঘটে।
ইউটিউবার রানভির আল্লাবাদিয়ার সঙ্গে আলাপকালে পিটারসেন বলেন, ‘আমি বড় ত্যাগ স্বীকার করেছি। আমার ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গেছে। এ কারণেই ওই প্রশাসনের সবাই আমার বিরুদ্ধে গিয়েছিল।’
আর সে কারণেই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার অকালে শেষ হয়েছিল বলেও অভিযোগ তোলেন সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক, ‘যখন ইংল্যান্ডের হয়ে আমার পথচলা শেষ হয়, তখন আমার বয়স মাত্র ৩৩, খেলেছি ১০৪টি টেস্ট। অথচ আমার ১৫০-১৬০টি টেস্ট খেলা উচিত ছিল এবং রান হওয়া উচিত ছিল ১২–১৩ হাজার। আমার এটা প্রাপ্য ছিল।’
পিটারসেন অভিযোগ তুলে আরও বলেন, ‘ইসিবি আমার বিরুদ্ধে যেতে দ্য টেলিগ্রাফকে ব্যবহার করেছিল... আমি খুব বেশি গভীরে যেতে চাই না। বিষয়টি সবার মুখে মুখে ছিল, আর এখন আমি খুব সুখী ও শান্ত জীবন যাপন করছি।’
পিটারসেন মনে করেন, ওই সময় তিনি ত্যাগ স্বীকার করেছেন বলেই এখনকার খেলোয়াড়দের জন্য আইপিএল খেলাসহ সবকিছু সহজ হয়ে গিয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘কিছুদিন আগে জস বাটলারের সাক্ষাৎকার নিই। সে–ও আমাকে ধন্যবাদ দিয়েছে। কারণ, আমি যে ত্যাগ স্বীকার করেছি, ছেলেরা সেসবের ফল ভোগ করছে।’



