বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটভূমিতে বদলের প্রভাব পড়েছে ক্রীড়াঙ্গনেও। গতকাল ‘ক্রিকেট সংগঠক’ ব্যানারে বেশ কয়েকজন ক্লাব কর্মকর্তা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন। এদিকে ফুটবলে বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনকে পদত্যাগের আল্টিমেটাম দিয়েছে ‘বাংলাদেশ ফুটবল আলট্রাস’ নামে একটি ফুটবল সমর্থকগোষ্ঠী।
তা বিসিবিতে কাল ক্লাব কর্মকর্তাদের অবস্থানের পর তাঁদের সঙ্গে আলাপ হয় বিসিবির সাবেক দুই নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু ও হাবিবুল বাশার সুমনের। নির্বাচকের দায়িত্ব শেষে এখন বিসিবির চিফ কো-অর্ডিনেটর অব প্রোগ্রাম নান্নু সেখানে বলেন, দেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে ‘আমরা চাই সুশাসন।’ অন্যদিকে বর্তমানে বিসিবির মেয়েদের ক্রিকেট উইংয়ের প্রধান হাবিবুল বাশার বলেন, ‘সুদিনের আশা করছি।’
তবে দুই পক্ষের এই বৈঠকের পর সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটারদের কয়েকজন ফেসবুকে ক্ষোভ ঝেড়েছেন। গতকাল ফেসবুক পোস্টে ক্ষোভ জানিয়েছিলেন সাবেক ওপেনার ইমরুল কায়েস। আজ একই ঢংয়ে ক্ষোভ ঝেড়েছেন সাবেক পেসার রুবেল হোসেনও। তাঁর দাবি, দেশের ক্রিকেটকে ধ্বংস করে দেওয়া ব্যক্তিরা এখন সুশাসন চাইছেন। ক্ষমতার পালাবদল দেখে তাঁরা রঙ বদলাচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন রুবেল। পাশাপাশি ক্ষোভ ঝেড়েছেন বাংলাদেশ দলের কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের ওপর।
রুবেল হোসেনের অফিশিয়াল ফেসবুক পেইজ থেকে করা পোস্টে লেখা, ‘গত কয়েক বছরে দেশের ক্রিকেটকে ধ্বংস করার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিরা দেখলাম বলতেছে দেশে সুশাসন চায়। শুধুমাত্র অপছন্দের তালিকায় থাকার কারণে অসংখ্য ক্রিকেটারের ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দেয়া ব্যক্তিরা এখন ক্ষমতার পালা বদল দেখে রং বদলানোর চেষ্টায় আছে।’
পোস্টের পরের অংশে হাথুরুসিংহের নাম উল্লেখ করে লেখা, ‘একইভাবে চান্দিকা হাতুরুসিংহেসহ তার অবৈধ কাজে সহায়তা করে দেশের ক্রিকেটকে ধ্বংস করা ব্যক্তিদের অন্তত আর কোনো দায়িত্বে দেখতে চাই না।’
রুবেলের পেইজ থেকে করা এই পোস্টের নিচে কমেন্টে আবার বর্তমান দলের উইকেটকিপার নুরুল হাসান সোহান লিখেছেন, ‘ভাই , অনেক কিছু বলতে চাই কিন্তু কিছু বলেতছি না। তবে কতক্ষণ নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে রাখতে পারবো জানি না।’
এর আগে গতকাল ইমরুল কায়েসের অফিশিয়াল পেইজ থেকে ক্ষোভ জানানো পোস্টে লেখা ছিল, ‘আসসালামু আলাইকুম সবাইকে। স্বাধীন বাংলাদেশে আশা করি সবাই ভালো আছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকেও ক্ষমতার কালো থাবা থেকে মুক্ত করতে হবে। সম্প্রতি একটা সাক্ষাৎকার দেখলাম বোর্ড কর্মকর্তারা মুখোশ পাল্টে এখন মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন।’
রুবেলের মতো ইমরুলেরও অভিযোগ, এই কর্মকর্তারা অনেক ক্রিকেটারের ক্যারিয়ার ধ্বংস করেছেন, ‘এদের কারণে ক্রিকেটের যে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে সবাই জানেন। কত প্লেয়ারের ক্যারিয়ার যে ধ্বংস করেছে তারা, শুধু তাদের পছন্দের তালিকায় না থাকার কারণে। খেলোয়াড়দের সাথে ন্যূনতম সম্মান দেখানো হয় না।’
ইমরুল তাই এসব কর্মকর্তাকে সরে যেতে বলেছেন, ‘বোর্ডের প্রতি আমার অনুরোধ, আপনারা যথেষ্ট করেছেন, দেশের ক্রিকেটকে দেয়ার আপনাদের আর কিছু নেই। তারুণ্যের হাতে ছেড়ে দিন ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ। তারাই এগিয়ে নিয়ে যাবে। তাদের হাত ধরেই আসবে বড় সাফল্য, যেখানে মাথা উঁচু করে থাকবে বাংলাদেশ ক্রিকেট। ইনশা আল্লাহ।’