২০২৬ বিশ্বকাপেও পাকিস্তানকে হারাবে যুক্তরাষ্ট্র, দাবি সাবেক পাকিস্তানি ক্রিকেটারের

অতীত মুছে ফেলার সুযোগ থাকলে পাকিস্তান ক্রিকেট দল নিশ্চিতভাবেই সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্মৃতি মুছে ফেলতে চাইত। যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজে আয়োজিত বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ‘পুঁচকে’যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হার দিয়ে শুরু করে শেষ পর্যন্ত গ্রুপ পর্ব পার হতে পারেনি ২০০৯ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নরা।

বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ভরাডুবির প্রায় দেড় মাস হতে চলল। তাহলে এতদিন পর সে প্রসঙ্গ এল কেন? বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের পর গত সপ্তাহে প্রথমবার খেলতে নেমেছিলেন বাবর আজম-শান মাসুদরা। কিন্তু ঘরের মাঠ রাওয়ালপিন্ডিতে বাংলাদেশের কাছে সিরিজের প্রথম টেস্টে পাকিস্তান হেরে বসেছে ১০ উইকেটে। বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৪ টেস্ট খেলা পাকিস্তানের এটাই একমাত্র পরাজয়।

লজ্জাজনক এ হারের পর পাকিস্তানকে রীতিমতো ধুয়ে দিচ্ছেন দেশটির সাবেক ক্রিকেটাররা। প্রশ্নবাণে জর্জরিত হচ্ছে পিসিবি থেকে শুরু করে নির্বাচক-কোচ-ক্রিকেটাররা। পাকিস্তানের সাবেক পেসার মোহাম্মদ আসিফ তো আরেক কাঠি সরেস। ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে আসিফ ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও পাকিস্তানকে হারাবে যুক্তরাষ্ট্র।

সম্প্রতি একটি পডকাস্টে উপস্থিত হয়েছিলেন সাবেক পাকিস্তান পেসার। সেখানে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের হাল বোঝাতে গিয়ে আসিফ বলেছেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হেরেছিলাম, যারা প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলেছে। তারা কিন্তু বাছাইপর্ব খেলে আসেনি। তারা খেলেছে স্বাগতিক কোটায়। এ মুহূর্তে (পাকিস্তানের) যেমন দুর্দশা চলছে, তাতে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে হারাতে যাচ্ছে। আমি এটার নিশ্চয়তা দিচ্ছি।’

এমন অবস্থা থেকে পরিত্রাণের উপায়ও বাতলে দিয়েছেন আসিফ। সাবেক পেসারের পরামর্শ, অধিনায়ক-কোচ থেকে শুরু করে পুরো দলের আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসতে হবে। আসিফের ভাষায়, ‘২০২৬ বিশ্বকাপের আগেই দলের কোচ, অধিনায়ক ও খেলোয়াড়দের বদলাতে হবে। একটা দল বানিয়ে দুই বছরের পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে। দেখাতে হবে, এই ২০ জন খেলোয়াড়কে নিয়ে আমরা কাজ করতে চাই। কিন্তু আমরা বারবার একই ভুল করে যাচ্ছি। সে কারণে আমি আপনাকে ওটা (ভবিষ্যদ্বাণী) বললাম।’

পডকাস্টের শেষ অংশে আসিস আরও উল্লেখ করেন, একই ভুল বারবার করার জন্য পাকিস্তানের ক্রিকেট এগোচ্ছে না। যেখানে ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলগুলোর উন্নতি হচ্ছে, পাকিস্তান আগের জায়গাতেই আটকে আছে বলে জানান তিনি।