কেউ রাখতে পারে না, কেউ চায় না - কে নেবে সে দায়িত্ব

২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ শেষে একবার পাকিস্তানের সব সংস্করণের অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিয়েছিলেন বাবর আজম। দায়িত্ব পান শাহিন আফ্রিদি। জাতীয় দলে একটি সিরিজে ব্যর্থতা ও পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) ফ্র্যাঞ্চাইজি দলের ভরাডুবিতেই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের মনে হলো, শাহিনের অধিনায়কত্ব যথেষ্ট দেখা হয়েছে। 

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে আবার বাবরকে অধিনায়ক বানিয়ে দেয় পিসিবি। কিন্তু আজ ২ অক্টোবর সবাইকে চমকে দিয়ে ওয়ানডে ও টি_টোয়েন্টির অধিনায়কত্ব থেকে সরে গেছেন পাকিস্তানের সেরা ব্যাটসম্যান

একজন বারবার দায়িত্ব ছেড়ে দিচ্ছেন, আরেকজন চেয়েও দায়িত্ব ধরে রাখতে পারেননি- এক বছরেরও কম সময়ে তাই তিনবার অধিনায়কত্বে পরিবর্তন দেখতে হলো পাকিস্তানকে। এখন প্রশ্ন উঠছে আগামী বছর ঘরের মাঠে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে কোন অধিনায়কের অধীনে খেলবে পাকিস্তান? 

এই মাসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ। ফলে এখনই অধিনায়ক বেছে নেওয়ার ব্যস্ততা নেই। কিন্তু পাকিস্তান ক্রিকেটের যে অবস্থা, তাতে নতুন অধিনায়ক খুঁজে পাওয়ার কাজটা বেশ কঠিন হবে। উইজডেন তাই সম্ভাব্য তিন অধিনায়ককে খুঁজে বের করেছে, যাদের হাতে পাকিস্তান দলের ভার দেওয়ার চিন্তা করলেও করতে পারে।

মোহাম্মদ রিজওয়ান
২০২৩ সালেও পাকিস্তানের অনেক সাবেক ক্রিকেটার রিজওয়ানের নাম বলেছিলেন। এমনকি শাহিন আফ্রিদির শ্বশুর শহীদ আফ্রিদিও রিজওয়ানকে অধিনায়ক হিসেবে চেয়েছিলেন। কিন্তু তৎকালীন বোর্ড প্রধান জাকা আশরাফ তাঁর ব্যাপারে আগ্রহী ছিলেন না একটি কারণেই, তিনি বাবরের খুব কাছের লোক।

টি-টোয়েন্টিতে রিজওয়ানের ধীরগতির ব্যাটিং নিয়েও প্রশ্ন ছিল। কিন্তু এ দোষে বাবর আজম আরও বেশি দুষ্ট। সাদা বলের দুই ফরম্যাটেই একাদশে তাঁর নাম প্রথম দিকে থাকে। এবং নিয়মিত অধিনায়কের অনুপস্থিতিতে দুটি টেস্টে অধিনায়কত্বও করেছেন, পাকিস্তান যদিও সে দুই ম্যাচেই হেরেছে। 

ঘরোয়া ৫০ ওভার ও ২০ ওভারের ম্যাচে তাঁর রেকর্ড বেশ ভালো। লিস্ট ‘এ’ তে ৫১% ম্যাচ জিতিয়েছেন রিজওয়ান, টি-টোয়েন্টিতে তা ৬০-এর বেশি। 
তবে নিয়মিত অধিনায়কদের অনুপস্থিতিতেও কখনো তাঁকে সাদা বলে অধিনায়কত্ব না দেওয়া বলছে, কোনো কারণে বোর্ড তাঁকে হয়তো নেতৃত্ব দিতে চায় না।

শাহিন আফ্রিদি
এক বছর আগেই হয়তো শাহিন আফ্রিদিকে অনায়াসে অধিনায়ক বানাতে পারত পাকিস্তান। ২০২২ ও ২০২৩ পিএসএলে দলকে চ্যাম্পিয়ন করেছেন। কিন্তু জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই লাহোর কালান্দার্স এবার তাঁর অধীনে ১০ ম্যাচের মাত্র একটি জিতেছে। 

বাংলাদেশের কাছে টেস্টে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর পাকিস্তান নিজেদের ক্রিকেটারদের নিয়ে ৫০ ওভারের এক টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছিল। সেখানেও আফ্রিদির অধীন দল চার ম্যাচে মাত্র একটি জিতেছে।

ইদানীং টেস্টে বেশ খারাপ বল করছেন, আগের চেয়ে একটু বেশি চোটপ্রবণ। আর যেহেতু টেস্ট দলে নিয়মিত চোটমুক্ত থাকতে হলে মাঝেমাঝেই সাদা বলে বিশ্রাম নিতে হবে তাঁকে। একজন অধিনায়কের এমন বিশ্রাম নিতে বাধ্য হওয়াটা বোর্ডের জন্য সুখবর না। আর লিস্ট ‘এ’তে তাঁর জয়ের হারও মাত্র ২৫%।

শাদাব খান
নামটা বিস্ময়কর শোনাতে পারে। কারণ, ২০২৩ বিশ্বকাপেও অভিযোগ ছিল, শুধু বাবর আজমের বন্ধু বলেই দলে টিকে আছেন এই লেগ স্পিনার। বিশ্বকাপে এক পর্যায়ে স্কোয়াডে জায়গাও হারিয়েছিলেন। ওয়ানডে দলে গুরুত্ব হারালেও এখনো টি-টোয়েন্টি দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এবং বাবরের সহ-অধিনায়ক হিসেবে বহুদিন খেলছেন।

সমস্যা হলো সর্বশেষ দুই ফরম্যাটের বিশ্বকাপেই তাঁর একাদশে থাকা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। আর বাবরের অনুপস্থিতিতে যে ছয় ম্যাচে জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তার ৬৭% ম্যাচেই হেরেছে পাকিস্তান। তবে উপযুক্ত প্রার্থীর অভাব অন্তত টি-টোয়েন্টিতে তার কথা ভাবতে পারে পাকিস্তান। এই ফরম্যাটে ঘরোয়া ক্রিকেটে অধিনায়ক হিসেবে তাঁর সাফল্য রিজওয়ানের চেয়ে বেশি।