স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটা ছিল আক্ষেপ ঘোচানোর। ঘরের মাঠে সেই ২০১৪ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কা ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে পর পর দুটি ম্যাচে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। পরের চারটি বিশ্বকাপ কেবল হারের বৃত্তেই কেটেছে বাংলাদেশের।
এবার বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার আগে অনেকটা হাহাকার নিয়ে বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার বলেছিলেন, দীর্ঘ আক্ষেপটা ঘোচাতে চান। সে জন্য লক্ষ্য বানিয়েছিলেন স্কটল্যান্ড ম্যাচটাকে। এ ম্যাচটি আবার দেশের জার্সিতে নিগারের শততম টি-টোয়েন্টি। মাইলফলক রাঙাতে দলের জয়ের প্রত্যয়ই জানিয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
গতকাল শারজাতে স্কটিশদের বিপক্ষে ১৬ রানের জয়ে আক্ষেপ ঘুচেছে বাংলাদেশের। একইসঙ্গে নিগারের শততম ম্যাচের উপলক্ষ্যটাও পেয়েছে বাড়তি রঙ। ম্যাচ শেষে আবেগে ভেসে যাওয়া নিগারের চোখ থেকে বয়ে পড়া অশ্রুধারা যেন সেটারই সাক্ষী হয়ে থাকল। তবে সে অশ্রু সামলে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে গিয়ে বাংলাদেশ অধিনায়ক জানিয়েছেন, শত তম ম্যাচের চেয়ে দলের জয় বেশি স্পেশাল তাঁর কাছে।
নিগার সুলতানার ভাষায়, ‘অনেক অনেক দিন ধরে এ মুহূর্তটির অপেক্ষা করছিলাম আমরা… ১০ বছর ধরে। এবার এখানে আসার সময় আমাদের মনে হয়েছে, এখনই সময়, এখনই পালা আমাদের সেই জয়ের দেখা পাওয়ার। আমাদের কাছে এই জয় মানে অনেক কিছু। শুধু আমাদের জন্য নয়, যত মেয়েরা ভালো করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে, সবার কাছেই এই জয়ের অর্থ অনেক কিছু।’
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় তাজ নেহারের। কিন্তু অভিষেকটা রাঙাতে পারেননি তাজ। রানের খাতা খোলার আগেই ফিরে গেছেন সাজঘরে। এ ছাড়া ব্যাটিং অর্ডারেও পরিবর্তন এনেছিল বাংলাদেশ। এ সম্পর্কে নিগার বলেছেন, ‘আমরা ভিন্ন কিছু চেষ্টা করছিলাম। তাজকে আগে নামিয়েছি আমরা। প্রস্তুতি ম্যাচ দুটিতে তাজ দুর্দান্ত খেলেছে। আমাদের চাওয়া ছিল, সে যেন জুটি গড়তে পারে। এছাড়া পাওয়ার হিটিংয়ের সামর্থ্য আছে তার, আশা ছিল দ্রুত রান বাড়াবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সে আউট হয়ে যায়।’
বাংলাদেশ অধিনায়ক যোগ করেছেন, ‘এ ধরনের উইকেটে আমাদের একটু থিতু হওয়া প্রয়োজন ছিল। শুরুর দিকে ব্যাট করাটা সহজ ছিল না। সাথী ও সোবহানা (মোস্তারি) ভালো ব্যাটিং করেছে এবং জুটি গড়ার চেষ্টা করেছে। আমাদের জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। পরে দ্রুত কিছু উইকেট পড়েছে। তবে প্রচণ্ড গরম ছিল, অনেক কিছুই আমাদের হাতে ছিল না। উইকেটও নতুন। সব দিক মিলিয়ে রানটা খারাপ ছিল না।’
১১৯ রানে আটকে গিয়েও জয়ের আশা ছাড়েনি বাংলাদেশ। নিজের বোলারদের ওপর পূর্ণ আস্থা ছিল বাংলাদেশ অধিনায়কের, ‘আমরা জানতাম যে আমাদের স্পিন বোলিং আক্রমণ খুব ভালো, মারুফাও (একমাত্র বিশেষজ্ঞ পেসার) ভালো করছে। আমরা তাই আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। খুব খুশি যে আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছি এবং মেয়েদের মুখে হাসি দেখতে পারাটাই সবচেয়ে বড় প্রেরণা।’
গতকালের ম্যাচটি ছিল নিগারের শততম ম্যাচ। দেশ ছাড়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে নিগার সুলতানা বলেছিলেন, ‘(বিশ্বকাপে) প্রথম ম্যাচটি স্পেশাল... প্রথম ম্যাচ জিততে চাই। (শততম ম্যাচ হিসেবে) আমার জন্য এটা সবচেয়ে স্পেশাল। আমার এবং দলের জন্য এটা অনেক বড় অর্জন। একজন প্লেয়ার হিসাবে শততম ম্যাচ, আমি এখনো জানি না খেলতে পারব কি না। যদি আল্লাহপাক সুস্থ রাখেন, তাহলে অবশ্যই খেলব। যদি খেলি, প্রথম লক্ষ্য থাকবে যেন জিততে পারি।’
দারুণ জয়ে নিগার ও দলের চাওয়া মিলেছে গতকাল শারজাতে। মাইলফলকের ম্যাচে জয় প্রসঙ্গে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেছেন, ‘এটা আমার জীবনের অনেক বড় অর্জন। যখন শুরু করেছিলাম, তখন কল্পনাও করিনি এত দূর আসব। আর আজকের দিনে ১০০তম ম্যাচ খেলে যতটা না খুশি হয়েছি, তার চেয়ে বেশি খুশি হয়েছি ম্যাচ জিতে।’
দেশ ছাড়ার আগের সে সংবাদ সম্মেলনে নিগার বলেছিলেন, জয়ের ফ্লো পেলে সেমিফাইনালে চোখ রাখবে বাংলাদেশ। তবে কাজটা সহজ হবে না। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ পরের ম্যাচগুলো খেলবে ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। তবে আপাতত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পরের ম্যাচে নজর দিতে চায় বাংলাদেশ।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পরের ম্যাচ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেছেন, ‘আশা করি (দুই ম্যাচে দুই জয় হবে)… আমরা চেষ্টা করছিলাম মোমেন্টাম পেতে এবং আজকে আমরা তা পেয়েছি। মেয়েরা যেভাবে লড়াই করেছি, আমি খুবই খুশি। দলের প্রতিটি মেয়ে দারুণ খুশি। তাদেরকে হাসিখুশি দেখতে, তাদের মুখের হাসি দেখাটাই আমার জন্য ও দলের জন্য সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণার। এ (স্কটল্যান্ড) ম্যাচ থেকে ইতিবাচক দিকগুলোকে সঙ্গী করে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কাজে লাগাতে চাই আমরা।’