আড়াই ওভারে ৫৮ রান তুলে ফেলেছিল বাংলাদেশ। ওমানের বিপক্ষে তোলা ১৪৭ রান টপকানো না গেলেও অনায়াসে ১২০ পার করার স্বপ্ন তখন। কিন্তু প্রথম তিন বলে ১৬ রান দেওয়া থারিন্ডু রত্নায়েকের সবচেয়ে বাজে বলে স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিলেন ১১ বলে ৩৬ রান করা জিশান আলম।
সেই যে ধস নামল, আর থামল না। পুরো ৬ ওভার খেলেও মাত্র ১০৩ রান পেল বাংলাদেশ। হংকং ইন্টারন্যাশনাল সিক্সেসের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কার কাছে ৩ উইকেটে হেরে গেছেন ইয়াসির আলীরা। ফাইনালে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে লঙ্কানরা। তার আগে পাড়ার ক্রিকেটের প্রায় ভুলে যাওয়া এক নিয়ম মনে করিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ।
শুরুটা হয়েছিল দুর্দান্ত। ধনঞ্জয়া লক্ষণের প্রথম ওভারে ১৮ রান এল। লাহিরু সামারাকুনের প্রথম ৪ বলে এল ২০ রান। ওভারের পঞ্চম বলে ৪ বলে ১৬ রান করা আবদুল্লাহ আল মামুন আউট হয়ে গেলেন। নেমেই চার মারলেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।
দুই হাতেই বল করতে জানা রত্নায়েকের প্রথম বলেই দুই ছক্কা ও এক চার মারলেন জিশান। চতুর্থ বলে আউট হলেন তিনি। নেমেই অধিনায়ক ইয়াসির আলী মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন। নেমেই ছক্কা আবু হায়দার রনির।
৩ উইকেট পড়ে যাওয়ার পরও রনি ও সাইফুদ্দিন আগ্রাসন ধরে রেখেছেন। মাদুশঙ্কার বলে নিয়েছেন ১৭ রান। কিন্তু রত্নায়েকের পরের ওভারে রনি ও সোহাগ গাজী আউট হয়ে গেলে আক্ষরিক অর্থেই একা হয়ে পড়েন সাইফউদ্দিন। তাতে ফিরেছে পাড়ার ক্রিকেটের সেই নিয়ম।
সিক্স-এ-সাইড ক্রিকেটের নিয়মানুযায়ী একাই ব্যাট করেছেন সাইফউদ্দিন। পরের ৭ বলে ১১ রান নিয়েছেন তিনি। ১২ বলে দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৩ রান করেছেন এই অলরাউন্ডার। বাংলাদেশ ১০৩ রানে থামল।
বল করতে এসে সাইফউদ্দিন প্রথম ওভারেই সেটা পুষিয়ে দিলেন। প্রথম ওভারেই ছয়টি চারসহ ২৫ রান দিয়েছেন তিনি। সান্দুন বিরাক্কোদি আরও এক চার ও ৩ ছক্কায় ১৬ বলে ৫০ রান করে অবসর নিয়েছেন।
অন্যপ্রান্তে ধনঞ্জয়া লক্ষণও বেধরক পিটিয়ে ৬ বলে ২৪ রান করে ফিরেছেন তৃতীয় ওভারে। কিন্তু ম্যাচ থেকে বাংলাদেশকে ছিটকে দিয়ে তবে মাঠ ছেড়েছেন বিরাক্কোদি।
২ ওভারে মাত্র ১৮ রান দরকার ছিল শ্রীলঙ্কার। কিন্তু জিশান আলম মাত্র ৪ রান দিয়ে ২ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচ জমিয়ে দেন। আবদুল্লাহ প্রথম ২ বলে মাত্র ২ রান দিয়েছিলেন। কিন্তু টানা দুই বলে চার ও ছক্কায় নিমেষ বিমুক্তি সমীকরণ সহজ করে দেন। ১ বল আগেই ম্যাচ শেষ হয়ে যায়।